,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

তীব্র শীতে ঠাকুরগাঁওয়ে জমজমাট শীতবস্ত্রের বিকিকিনি

shitr-kaporইমন রায়, ঠাকুরগাঁও, কড়া নাড়ছে শীত। সারাদিন রোদের রাজত্ব শেষে সন্ধ্যা নামতেই বদলে যাচ্ছে তাপমাত্রা। ভোরের দিকে চাদর বিছিয়ে দিচ্ছে কুয়াশা। শীত মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই জমজমাট হয়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের ভ্রাম্যমান শীতবস্ত্রের দোকানগুলো। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এসব ভ্রাম্যমাণ কাপড়ের দোকানে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শহরের প্রাণকেন্দ্র ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড়মাঠে, রোড যুব সংসদ মাঠে, পৌর হকার্স মার্কেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও গ্রামের বিভিন্ন হাট-বাজারের ফুটপাতের ওপর ও ভ্যান গাড়িতে করে বাহারি রঙের শীতবস্ত্র বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। আর এসব কাপড় কিনতে ভিড় করছেন নিম্নবিত্তের পাশাপাশি উচ্চবিত্তরাও।
কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ৫/৬ দিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। এজন্য শহরের ভ্রাম্যমান শীতবস্ত্রের দোকানে কেনাকাটা শুরু হয়ে গেছে। ক্রেতাদের চাহিদার কথা ভেবে ছোট-বড়দের জ্যাকেট, মাফলার, সোয়েটার, হাত মোজা, কোট, টুপি সবই মিলছে এসব দোকানে। দাম সস্তা হওয়ায় নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের কাছে এই কাপড়ের চাহিদা বেশি।
এখানে মেয়েদের সোয়েটারের দাম মানভেদে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা, ছেলেদের সোয়েটার ৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ছেলেদের জ্যাকেট ১৫০ থেকে ৪০০০ টাকা, বাচ্চাদের সোয়েটার ৩০ থেকে ৬০০ টাকা, হাতের মোজা ৩০ থেকে ১৫০ টাকা। এ ছায়া এখানে মানভেদে সাধারণ টুপি ৪০ থেকে ১০০ টাকা ও মাফলার ৫০ থেকে ২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
শহরের শান্তিনগর এলাকার প্রিয়া আক্তার তাঁর ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে বড়মাঠের ভ্রাম্যমান শীতবস্ত্রের দোকানে এসেছেন কাপড় কিনতে। বিভিন্ন দোকান ঘুরে মেয়ে জন্য ২শ টাকা কিয়ে একটি সোয়েটার ও ছেলের জন্য ১শ টাকা দিয়ে সোয়েটার কিনেছেন। তিনি বলেন, আগেভাগেই এসেছি, কারণ পরে আসলে ভাল কাপড় পাওয়া যায়না।
বড়মাঠ এলাকার ভ্রাম্যমান কাপড় ব্যবসায়ী শাহীন ইসলাম বলেন, প্রতি বছরের মত এবারও বড়মাঠে তিনি শীতের কাপড় বিক্রি করছেন। সকালের দিকে ক্রেতাদের ভিড় কম থাকলেও বিকেলের দিকে ভিড় বাড়তে থাকে। আর শীতের কাপড় বিক্রি চলে রাত ৯টা পর্যন্ত।
রোড যুব সংসদ মাঠের ভ্রাম্যমান কাপড় ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, ঢাকার বিভিন্ন গার্মেন্টস থেকে পুরনো ও পরিত্যাক্ত শীতের কাপড় গাট হিসেবে কিনে আনে তাঁরা। প্রত্যেক গাট ১০-১২ হাজার টাকায় কিনতে হয়। ১টি গাটে ৫০০-৬০০ পিস গরম কাপড় পাওয়া যায়। মাঝে মাঝে এসময় কাপড়ের মধ্যে ভালমানের কাপড় পাওয়া যায়।
পৌর হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী ওবায়দুল ইসলাম বলেন, শীত শুরু হওয়ায় বেচাকেনা অনেক ভালো। তার এখানে ১শ টাকা থেকে ৫শ টাকার মধ্যে শীতবস্ত্র পাওয়া যায়। সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি ৫ হাজার টাকার শীতের কাপড় বিক্রি করেছেন।
এছাড়া ভ্যান গাড়িতে করে বিভিন্ন হাট বাজার ও শীতের পোশাক বিক্রি করা হচ্ছে।
যুব সংসদ রোড এলাকায় শীতের পোশাক কিনতে আসা রিকশা চালক আলিমুদ্দিন বলেন, হামরা গরীব মানুষ। এইতানে প্রতি বছর মুই মোর বউ ও ছুয়ালার তানে এইঠে থেকে কাপড় কিনে নেগাউ।

মতামত...