,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

তৃর্ণমূলে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃজঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ে জঙ্গি কর্মকান্ড প্রতিরোধে কমিটি করে মানুষকে সচেতন করছে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। সমাজবিজ্ঞানী ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, তৃর্ণমূল পর্যায়ে এইসব উদ্যোগ বেশ কাজে আসবে। তবে এর পাশাপাশি প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরা এবং শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর থেকেই জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে জেগে উঠে বাংলাদেশ। সমাজ থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড রোধে এগিয়ে আসে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও। চলে আসছে প্রতিবাদ সভা, সমাবেশ ও মানববন্ধন।

জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারাদেশে গঠিত হয় জঙ্গি নির্মূল কমিটি। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সমাজের বিশিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলছে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি।

বিপথে যাওয়া কিছু সংখ্যক তরুণকে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সামাজিক প্রতিষ্ঠানের এমনসব আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী সমাজ বিজ্ঞানী ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অধ্যাপক মো: মনিরুল ইসলাম বলেন, সামাজিক প্রতিরোধ এমন একটি জিনিস যা যেকোনো ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হয়। কারণ এসব কার্যক্রমে সামাজিক শেকড় থাকে। তাই সামাজিক প্রতিরোধ সবসময় সেই শেকড়টাকে সুরাহা করে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ মনে করেন, সামাজিক ঐক্য যদি সত্যিকারের কাজ করে তাহলে সামাজিক ভাবে জঙ্গি বিরোধী চেতনা সবসময় জাগ্রত থাকবে। এবং সমাজ যখন সচেতন থাকবে তখন দুবৃর্ত্তরা বা জঙ্গিরা সমাজে স্থান পাবে না।

পারিবারিক সচেতনতা ও মূল্যবোধের পাশাপাশি জঙ্গিবাদে অর্থায়ন এবং মাস্টামাইন্ডদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতে পারে এই পথ থেকে যুব সমাজকে ফিরিয়ে আনার অন্যতম উপায়।

অধ্যাপক মো:মনিরুল ইসলাম মনে করেন, বাংলাদেশ এখনো খুব ভালো করে জানে না এই জঙ্গি কার্যক্রমের প্রকৃত কার্যকারণ প্রেক্ষিতটা কী? যে তারুণ্যকে আমরা সংগ্রামে, আমরা স্বাধীনতা সংগ্রামে দেখেছি, ভাষা সংগ্রামে দেখেছি হঠাৎ সেই তারুণ্য এই ধরনের বিভ্রান্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে জড়িয়ে গেল সেটি কিন্তু বুঝবার দরকার আছে।

মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ বলেন, বাংলাদেশে যে গণতন্ত্র আছে সে গণতন্ত্রে ঘাটতি থাকবেই তাই সেটিকে লক্ষ্য করে কেউ যদি এটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে সেটি কখনোই কাম্য নয়। কিন্তু এমন ঘটনা যদি কেউ করে থাকে তাহলে তাদেরকে জণগনের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলাকারীরা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের ভাবাদর্শী হলেও তাদের এই পথে পরিচালিতকারীরা এসব ঘটনা থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চায় বলেও মন্তব্য করেছেন এই দুই সমাজবিজ্ঞানী এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

 

মতামত...