,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

তেজগাঁওয়ে ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদ অভিযানে শ্রমিকদের বাধা

ঢাকা নভেম্বর ২৯: রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদ অ​ভিযানে গিয়ে আজ রোববার শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। শ্রমিক ও অভিযানকারী দলের সঙ্গে থাকা পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার মুখে আজকের উচ্ছেদ অভিযান শেষ হয়।

বিক্ষোভ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সময় অভিযানের সঙ্গে থাকা মেয়র আনিসুল হক প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের কার্যালয়ে অবস্থান করেন। পরে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে বের হন তিনি। সেখানে তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতায় একটি ভালো মানের টার্মিনাল নির্মাণের আশ্বাস দেন। তাঁর বক্তৃতার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। তবে পরে আর উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি।
ওই ট্র্যাক স্ট্যান্ড এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে প্রায় দুই মাস ধরে প্রচার চালায় সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনেক স্থাপনা শ্রমিকেরাই সরিয়ে নেন। অবশিষ্ট কিছু স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য আজ বেলা একটার দিকে সেখানে যান মেয়র আনিসুল হক ও সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। কিছু স্থাপনা উচ্ছেদের পর বেলা পৌনে দুইটার দিকে শ্রমিকেরা বাধা দিতে যান। একপর্যায়ে ট্রাক শ্রমিকেরা অভিযানকারী দলকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। তখন উচ্ছেদ অভিযানে থাকা পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়।
রাজধানীর তেজগাঁওতে ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদে আজ রোববার দুপুর একটার দিকে অভিযান শুরু হয়। এ সময় মারমুখী হয়ে ওঠেন ট্রাকচালকসহ সংশ্লিষ্ট শ্রমিকেরা। ছবি: জাহিদুল করিমশ্রমিকদের দাবি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সময় পুলিশ ছররা গুলি ছোড়ে। এতে দুই শ্রমিক আহত হন। এ ঘটনা জানাজানি হলে শ্রমিকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তখন শ্রমিকেরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন এবং অভিযানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভের সময় ইটের আঘাতে একজন সাংবাদিকও আহত হন। তাঁর ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়। একটি টেলিভিশন চ্যানেলের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
এসব ঘটনার সময় মেয়র আনিসুল হক ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের ওই কার্যালয়ে অবস্থান করে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তখন সেখানে পরিবহন মালিকেরাও উপস্থিত হন। ছিলেন এলাকার কাউন্সিলরেরাও। এরই মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়।
পরে পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে কার্যালয় থেকে বের হন আনিসুল হক। তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘এখানে চারজন মন্ত্রী কথা বলেছেন। যে জায়গা দখল করা হয়েছে তা রেলওয়ের জায়গা। এসব জায়গা ভালোভাবে ব্যবহার হচ্ছিল না। মালিকপক্ষ বলেছে, ভেতরে জায়গা করে দেন। আমরা জায়গা করে দিয়েছি। দুই মাস এ নিয়ে কাজ করেছি। এখন অনেক ক্লিয়ার হয়ে গেছে। যারা অবৈধ দখল করে আছেন, আপনাদের সুবিধার জন্য এসব করা হচ্ছে। আপনাদের গাড়ি যাতে ভালোভাবে বের হতে পারে সে জন্য এ রাস্তা খালি করা হচ্ছে। আমার সুবিধার জন্য না।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ কর্মকর্তারা তেজগাঁওয়ে ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদে গেলে উত্তেজিত শ্রমিকেরা মেয়রের প্রটোকলের গাড়ি ভাঙচুর করেন। ছবি: জাহিদুল করিমশ্রমিক আহত হওয়ার ব্যাপারে আনিসুল হক বলেন, ‘আমি আপনাদের নগরপিতা। যদি সে আহত থাকে, তাহলে আমি তাকে দেখব। এখন ঠিক হলো যে, আপনারা রাস্তায় গাড়ি না রেখে তা ভেতরে রাখবেন। আসুন ঢাকা শহরকে পরিষ্কার করি।’
মেয়র বলেন, ‘আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে মেয়র বানিয়েছেন। আমি আপনাদের ছেলে। আপনারা আমাদের সহযোগিতা করুন। আমরা আপনাদের জন্য ভালো টার্মিনাল তৈরি করব।’ তিনি বলেন, আজ যে সমস্যাটা শুরু হয়েছে তা ছোট্ট একটা সমস্যা। এখানে রাস্তায় পার্কিং না করে আমরা ভেতরে টার্মিনাল বানাব। রাস্তার ওপর ট্রাকগুলো ভেতরে ঢুকবে।
উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের কার্যালয়ে যান ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক। ছবি: জাহিদুল করিমবক্তব্য শেষে পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন মেয়র আনিসুল। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ মীমাংসা হয়েছে। মেয়র মহোদয় বলেছেন, যা কিছুই করা হবে শ্রমিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি বলেছেন, এখানে যে উচ্ছেদ করা হচ্ছে তা শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য, জনগণের কল্যাণের জন্য।
শ্রমিক আহত হওয়ার ব্যাপারে ডিসি বলেন, যিনি আহত হয়েছেন তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ। শ্রমিকেরা অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। পুলিশও কোনো অ্যাকশনে যায়নি।

যোগাযোগ করা হলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী হাকিম সামছুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, যা উচ্ছেদ করার দরকার ছিল, তা করা হয়েছে। রাস্তা ফাঁকা করার প্রয়োজন ছিল, তাও করা হয়েছে। তবে সেখানে আরেকটি উচ্ছেদ অভিযান চালানোর প্রয়োজন আছে। সেই অভিযান কোন সময় হবে, সেটা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মতামত...