,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

তেল ও গ্যাস কোম্পানির শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে আন্দোলনে যাচ্ছে

aনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ ঢাকা, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নিয়ন্ত্রণাধীন ৬ তেল ও গ্যাস  প্রতিষ্ঠানে স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে আন্দোলনে যাচ্ছে  শ্রমিক-কর্মচারীরা।

নতুন স্কেলে কর্মকর্তারা বেতন ভাতা পেলেও কর্মচারীরা এখনো না পাওয়ায় কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ বাস্তবায়নসহ পাঁচ দফা দাবি তুলেছে ৬ প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংগঠন গুলো।

বিপিসি চেয়ারম্যানকে তাদের দাবির বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তিনি সন্তোষজনক সমাধান দিবেন বলে আশা করছে শ্রমিকরা। তবে দাবি আদায় না হলে আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না বলে জানিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়াকার্স ফেডারেশন (বিওজিওএফ) সূত্রে জানা গেছে, বিপিসি’র নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো বিপিসি রুলস ১৯৭৬ অনুযায়ী পরিচালিত। রুলসে ২৫(৫) অনুচ্ছেদে কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা নির্ধারণের কথা উল্লেখ থাকলেও সম্প্রতি কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা নিয়ে আলোচনা না করায় কয়েক হাজার শ্রমিক ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরতরা নববর্ষ ভাতা পেলেও জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীরা নববর্ষ ভাতা পায়নি। এ অবস্থায় দ্রুত বোর্ডের মার্ধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছে ৬ সংস্থার কর্মীরা।

বিওজিওএফ’র অভিযোগ, ১৯৭৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জ্বালানি খাতের শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি যৌক্তিক পর্যায়ে থাকলেও ২০০৯ ও ২০১৫ সালের পে-স্কেলের কারণে জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ভাতার পার্থক্য চরম আকার ধারণ করে। ৬টি প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক ২ হাজার ২৩৩ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।

প্রতি দুই বছর পর পর কোম্পানিগুলোর পর্ষদ সভায় অনুমোদনের মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা নির্ধারণ হয়। তবে সরকারি বেতন স্কেলের সাথে বৈষম্য থাকায় এবছর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে আন্দোলনে যাওয়ার আভাষ দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। সোমবার (২ মে) অনুষ্ঠিত বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়াকার্স ফেডারেশনের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ শাহ’র অভিযোগ, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পর কর্মকর্তাদের বেতনের সাথে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য প্রকট হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ স্ব স্ব বোর্ডের শ্রমিক সংগঠনগুলোর সাথে কোম্পানিগুলোর চুক্তি হয়। চুক্তি মোতাবেক শ্রমিক-কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন ধরা হয় ৩১৮২ টাকা। সর্বশেষ বেতন স্কেলে কর্মকর্তাদের সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ২২ হাজার টাকা হওয়ায় শ্রমিকদের সঙ্গে বেতন বৈষম্য বহুগুণ বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়াকার্স ফেডারেশনের মহাসচিব মুহাম্মদ এয়াকুব বাংলানিউজকে বলেন, সরকার জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণার পর রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন খাতে বর্ধিত বেতন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এখনো জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের জানিয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সবাই নতুন স্কেলে বেতন পাচ্ছে। তেল সেক্টরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের কর্মচারীরা বঞ্চিত হবে কেন। এটা অন্যায় ও অযৌক্তিক।

বিষয়টি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী, সচিব ও বিপিসি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তোষজনক সমাধান না পেলে আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলনে যাব।

 বিপিসি কর্তৃপক্ষ বলছে বিপিসি’র অধীন হলেও বিভিন্ন কোম্পানিতে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক-কর্মচারী রয়েছে। তাদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা কমিটির উপর নির্ভর করে। শ্রমিক-কর্মচারীদের সাথে কোম্পানিগুলোর স্বার্থ বিবেচনায় আলোচনার ভিত্তিতে নতুন বেতন নির্ধারণ হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিপিসি’র কোন আপত্তি থাকার কথা নয়।

সংস্থার অধীনে ২ হাজার ২৩৩ জন শ্রমিক-কর্মচারীর বিপরীতে কর্মকর্তার সংখ্যা ৮০৭ জন। এর মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারির শ্রমিক-কর্মচারী ৫০৫ জন ও কর্মকর্তা ২০৫ জন। একইভাবে এলপিজিতে ৭৮ ও ১৯, পদ্মায় ৮৫৫ ও ২৯৫, মেঘনা পেট্রোলিয়ামে ৩২৩ ও ১৩৭, যমুনায় ৪১৭ ও ১২২ এবং স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (এসওসিএল) ৫৫ শ্রমিক-কর্মচারীর বিপরীতে কর্মকর্তার সংখ্যা ৪২ জন।

শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, গত ১১ এপ্রিল বিপিসি’র চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠক করেছে বিওজিওএফ নেতারা। চট্টগ্রাম সফরকালে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরেন তারা।

পদ্মা, মেঘনা, যমুনা সহ বিভিন্ন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে বেতন বাড়ানোর বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় শিগগিরই শ্রম পরিদপ্তরের সাথে ত্রি-পক্ষীয় বৈঠকের চিন্তা ভাবনা করছে শ্রমিক নেতারা। এরপরও দাবি না মানলে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন তারা।

 

মতামত...