,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

দুদকের নোটিশে আবাসন ব্যবসায় মন্দার অভিযোগ রিহ্যাব প্রেসিডেন্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ  দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নোটিশের কারণে আবাসন ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন বলেছেন, ‘প্রতিদিন আমরা দুদকের তিন-চারটি করে নোটিশ পাচ্ছি, বিভিন্ন ব্যক্তির নামে আসা এসব নোটিশে সম্পদের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। এর ফলে আবাসনক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ খাতে মন্দাভাব কাটানোর জন্য সরকারের উচিত এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা।’

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘গত ১২ অক্টোবর ২৫ বছর পূর্ণ করেছে রিহ্যাব। রজত জয়ন্তী উদ্যাপন উপলক্ষে বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছি আমরা। তার মধ্যে রয়েছে, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বাউল গান, শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মতবিনিময় সভা, সাংবাদিকদের সঙ্গে নৈশভোজ, গুণীজন সংবর্ধনা ও স্মৃতিচারণা।’

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘পঞ্চাশের দশকে ঢাকার মোহাম্মদপুরে বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটি প্রথম বেসরকারিভাবে আবাসন প্রকল্প শুরু করে। ষাটের দশকে মিরপুরের পল্লবীতে ইস্টার্ন হাউজিং ল্যান্ড প্রকল্প হাতে নেয়। ইস্টার্ন হাউজিংয়ের মাধ্যমে সত্তরের দশকে সিদ্ধেশ্বরী ও মগবাজার এলাকায় ফ্ল্যাট-অ্যাপার্টমেন্ট তৈরিতে পার্টনারশিপ কনসেপ্ট শুরু হয়। আশির দশকে অনেকেই আবাসন ব্যবসা শুরু করে। ঢাকার ভবিষ্যৎ আবাসন চাহিদার কথা চিন্তা করে এবং এ খাতে বিপুল সম্ভাবনা দেখে অনেক পেশাজীবী ব্যবসায়ী বিনিয়োগ শুরু করেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের চাহিদার ব্যাপকতার কারণে ধীরে ধীরে অনেকে আবাসন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন। ধারাবাহিকভাবে আবাসন কম্পানি বৃদ্ধির ফলে এ খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৯৯১ সালে গঠন করা হয় রিহ্যাব। ২৫ বছরে আমরা সারা দেশে গ্রাহকের কাছে প্রায় এক লাখ ৪৩ হাজার ফ্ল্যাট সরবরাহ করেছি। প্রায় ৭০ হাজার প্লট সরবরাহ করা হয়েছে। রিহ্যাব সদস্যদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরকে সুন্দর-পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলা। এ লক্ষ্য সামনে রেখেই বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন রিহ্যাব সদস্যরা।’

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, রিহ্যাবের বিপুল কার্যক্রম গত কয়েক দশকে আবাসনের মালিকানা সৃষ্টির বিষয়ে মানুষের মধ্যে আত্মনির্ভরতা সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া সরকারের রাজস্ব আয়, কর্মসংস্থান, রড, সিমেন্ট, টাইলসসহ ২৬৯ ধরনের লিংকেজ শিল্প প্রসারের মাধ্যমে সমগ্র নির্মাণ খাত জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আবাসন খাতের অবদান ১৫ শতাংশ। ৩৫ হাজার প্রকৌশলী, স্থপতি ও উচ্চতর ব্যবস্থাপকের কর্মসংস্থানের সঙ্গে ৩৫ লাখ শ্রমিকও আবাসন খাতে জড়িত। তাদের ওপর নির্ভরশীল দুই কোটি মানুষের অন্নের জোগান দিয়েছে এ খাত। লিখিত বক্তব্যে আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, ‘এ খাতে সংকট দেখা দেওয়ায় ঢাকা সিটির উন্নয়নের গতি কমে গেছে। মুম্বাইয়ের জিডিপি ২০১৩ সালে ছিল ১৫৮ বিলিয়ন ডলার। ঢাকার জিডিপি তখন ছিল ৭৮ বিলিয়ন ডলার। গত তিন বছরে মুম্বাইয়ের জিডিপি বেড়ে হয়েছে ২৭৮ বিলিয়ন ডলার, আর ঢাকার জিডিপি বেড়ে হয়েছে মাত্র ৮৪ বিলিয়ন ডলার। এটা ঘটেছে কেবল রিহ্যাব সদস্যদের কাজে ধীরগতি সৃষ্টি হওয়ায়। ভবন নির্মাণ জিডিপির ওপর বিরাট প্রভাব সৃষ্টি করে। তাই ২৫ বছর পূর্তিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমরা বলতে চাই, ২০২১ ও ২০৪১ সালের উন্নয়ন টার্গেট বাস্তবায়নে যত দ্রুত সম্ভব আবাসন সেক্টরকে চাঙ্গা করতে হবে। না হলে স্বপ্ন বাস্তবায়ন কঠিন হবে।’

রিহ্যাবের আগামী ২৫ বছরের স্বপ্নের কথা তুলে ধরে সংগঠনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন বলেন, ‘দেশের একটি গুণগত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন হচ্ছে। আগামী ২৫ বছরে তথা ২০৪১ সাল হবে বর্তমান সরকারের নির্ধারিত উন্নত দেশ গড়ার টার্গেটের বছর। এখন আমাদের ঢাকার স্কাই লাইন ২০ থেকে ২৫ তলায় আছে, যা তখন হবে ৬০ থেকে ৭০ তলা। তার মাঝে থাকবে ডজনেরও ওপর শততলা বা তার ওপরে তৈরি ভবন। ঢাকা তখন হবে মেট্রোনির্ভর শহর। ঢাকা ছাড়াও বিশাল শহর হিসেবে গড়ে উঠবে চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, বগুড়া, রংপুর ও ময়মনসিংহ। বড় নগরীগুলোতে ৯০ ভাগ লোকই ফ্ল্যাট বাড়িতে বসবাস করবে। রিহ্যাব সদস্যরা অন্তত ১০ লাখ ফ্ল্যাট তৈরি করে সরবরাহ করবে, যার বড় অংশ তৈরি হবে পূর্বাচল স্যাটেলাইট সিটিতে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রথম) লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট (দ্বিতীয়) আবুল ফাত্তাহ মো. আহকাম উল্লাহ ইমান খান, ভাইস প্রেসিডেন্ট (অ্যাডমিন) প্রকৌশলী সরদার মো. আমীন প্রমুখ।

মতামত...