,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার নাসিরকে আদালাতে হাজির করতে না পারায় রায়ের দিন পুনর্নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৫ সেপ্টেম্বর, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রামের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী শিবির ক্যাডার নাসিরকে  বহু চেষ্টা করেও তাকে পুলিশের প্রিজনভ্যানে তোলা সম্ভব না হওয়ায় শেষতক তাকে না নিয়েই ফিরে যেতে হলো প্রিজনভ্যান।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রবিবার ২৪ সেপ্টেম্বর এ ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার  প্রায় ২০ বছর আগের একটি মামলার রায় ঘোষণার ধার্য তারিখ ছিল রবিবার। নিয়মানুযায়ী মামলার অভিযুক্ত কারাগারে থাকলে তাকে হাজির করে রায় ঘোষণা করতে হয়।  প্রিজনভ্যান নিয়ে কোর্ট পুলিশ কারাগারে হাজির হয় সকাল সাড়ে ১১ টায়। কিন্তু দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী নাসিরের আবদার সে আজ কোর্টে যাবেই না। কারাগারের সংশ্লিষ্টরা অনেক বুঝিয়েও তাকে টলাতে পারেনি। কোর্ট পুলিশ তাকে টেনে নিয়ে যেতে চাইলে সেনিজেই নিজের শরীর জখম করবে বলে হুমকি দেয়। প্রায় ঘণ্টা সময় অপেক্ষা করে কোর্টপুলিশের প্রিজনভ্যান ফিরে যায়!

মামলার অভিযুক্ত কারাগারে থাকলেও তাকে আদালাতে হাজির করতে না পারায়  মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৪র্থ আদালতের বিচারক আল ইমরান খান রায় ঘোষণার ২৮ সেপ্টেম্বর দিন পুনর্নির্ধারণ করেছেন ।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী বলেন, আসামি নাসির প্রথমে যেতে না চাইলেও পরে প্রিজনভ্যানে উঠতে রাজি হয়। কিন্তু ইতিমধ্যে কোর্ট পুলিশের প্রিজনভ্যান চলে যায়।

সিএমপির অতিরিক্ত উপ–পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, কোতোয়ালী থানার দায়ের হওয়া পুলিশের কাজে বাধাদান, হামলা ও গুলিবর্ষণের মামলার রায়ের ধার্য তারিখ ছিল। আদালতের নির্দেশে নাসিরকে আনার জন্য আমরা কারাগারে প্রিজনভ্যান পাঠাই। কিন্তু কারা অভ্যন্তরের গেটের সামনে প্রায় একঘণ্টা প্রিজনারভ্যান অপেক্ষা করার পরও কারা কর্তৃপক্ষ আসামি নাসিরকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করতে না পারায় নিয়ে পুলিশ প্রিজনভ্যান নিয়ে ফিরে আসে।

প্রকাশ, ১৯৯৮ সালের ৬ এপ্রিল গোয়েন্দা পুলিশ গোপন সূত্রে সংবাদ পায় চট্টগ্রাম কলেজের শেরে বাংলা ছাত্রাবাসের সামনে শিক্ষকদের পরিত্যক্ত ভবনে তৎকালীন ২৫ মামলার অভিযুক্ত সন্ত্রাসী নাসির আত্মগোপন করে আছেন। কক্ষের বাইরে তালা লাগিয়ে নাসিরকে কক্ষের ভেতরে নিরাপদে রাখতো নাসিরের অনুসারীরা।

 চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সাদা পোশাকে সেখানে অবস্থান নিয়ে বিকেল সাড়ে ৪ টায় কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে নাসির জানালা ভেংগে পালানোর সময় তাকে ঝাপটে ধরেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন সহকারী কমিশনার আতিকুর রহমান চৌধুরী। পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। এরই মধ্যে পুলিশকে লক্ষ্য করে ছাত্রাবাস থেকে গুলিবর্ষণ শুরু করে শিবির ক্যাডাররা। পুলিশও পাল্টাগুলি ছোড়ে। সন্ত্রাসী ও পুলিশের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনায় অনেক পুলিশ আহত হয়। এরপর নাসিরের অনুসারীরা চকবজারের আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে রাস্তায় গাড়ি ভাংচুর করে।

পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সহকারী পুলিশ কমিশনার বাদি হয়ে কোতোয়ালী থানায় নাসিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অপর দুই অভিযুক্ত নাসিরের সেকেন্ড ইনকমান্ড দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী এয়াকুব ও হুমায়ুন।  এ দুই সন্ত্রাসী নাজিরহাটে পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণের সময় পুলিশের পাল্টাগুলিতে নিহত হয়।

ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার মামলায় নাসিরের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০০১ সালের ১৭ নভেম্বর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠনের পর আদালতে ৬ জন সাক্ষ্য দেন।

সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক শেষে রবিবার ২৪ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য ছিল। কিন্তু নাসিরকে হাজির করতে না পারায় আদালত ২৮ সেপ্টেম্বর পরবর্তী তারিখ ধার্য করে।

চট্টগ্রামের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী শিবির ক্যাডার নাসিরের বিরুদ্ধে খুন, গুমসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় ৩৬ মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে কয়েকটি মামলায় সে খালাস পেলেও একাধিক মামলায় তার সাজা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে  বহু মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

মতামত...