,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সিহাব-মালার প্রেমের সফল পরিণতি!

lরাজশাহী সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ প্রেমিক প্রবর দুজনই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী! সিহাব মণ্ডল (৩২) ও সুফিয়া আক্তার মালা (২৩)। চোখের দৃষ্টি না থাকলেও মনের জোরে পরস্পরকে ভালবেসে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর সংসারে বাধা হয়ে দাঁড়ায় মালার পরিবার।

ভালবাসা কি কোনো বাধা মানে? মানে না!  সিহাব-মালার ভালোবাসার শক্তির কাছেও পরাজিত হয়েছে সব বাধা। বিয়ের একমাস পর অবশেষে এক হয়েছেন তারা।

নব দম্পতিকে তানোর থানা পুলিশের সহযোগিতায় একত্রিত করেন জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির কর্মকর্তারা।

জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহীর তানোর উপজেলার চাপড়া গ্রামের হোসেন আলীর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেয়ে মালার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে সিহাবের। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সিহাব রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড়দরগা গ্রামের রেজাউল মণ্ডলের ছেলে। তিনি প্রতিবন্ধীদের সংগঠন ‘ভয়েজ অব বাংলাদেশ’ ঢাকায় কর্মরত। একবছর আগে মোবাইল ফোনে তাদের পরিচয় হয়। এরপর পরিচয় থেকে প্রেম।

তারা জানান, একপর্যায়ে গত ২২ আগস্ট অন্ধ প্রেমিক যুগল গোপনে রাজশাহী মহানগরীর এক কাজী অফিসে বিয়ে করেন। বিয়ের তিনদিন পর ২৫ আগস্ট মালা তার স্বামীকে নিয়ে তানোরের বাড়িতে এসে উঠেন।

কিন্তু বিধি বাম। তাদের ভালোবাসার এ বিয়ে মেনে নিতে পারেননি মালার বাবা। ওই দিনই মালার বাবা ও তার পরিবারের সদস্যরা সিহাবকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। আর মালাকে বাড়িতে আটকে রাখেন। এরপর সিহাব জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির রাজশাহী অফিসের কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেন।

গত মঙ্গলবার ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির রাজশাহী বিভাগীয় প্রধান অ্যাডভোকেট দিল সেতারা চুনি এবং প্রোগ্রাম অফিসার আব্দুস সালেক খান তানোর থানা পুলিশের সহযোগিতায় মালার বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রেমিক স্বামী সিহাবের হাতে তুলে দেন। তবে এ সময় মালার পরিবারের সদস্যরা তাদের বিয়ে মেনে নেন।
মালা বলেন, আমি প্রাপ্তবয়স্ক। আমরা একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি। বিয়ের পর স্বামীসহ বাড়িতে আসার পর পরিবারের সদস্যরা আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। তারা আমার স্বামীকে তাড়িয়ে দেন। আমাকে আটকিয়ে রাখেন। তবে যাই হোক. সব সমস্যা সমাধানের পর আমি সিহাবকে স্বামী হিসেবে পেয়ে সুখি।

জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির রাজশাহী বিভাগীয় প্রধান অ্যাডভোকেট দিল সেতারা চুনি বলেন, সিহাব ও মালা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। তারা প্রাপ্তবয়স্ক। একে অপরকে ভালবেসে বিয়ে করেছেন। তাই দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে পুলিশের সহযোগিতায় এ জুটিকে আমরা একত্রিত করেছি। আশা করছি, তারা দাম্পত্য জীবনে সুখি হবেন।

সিহাব মণ্ডল বলেন, যারা আমাদের একত্রিত করেছেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমি মালাকে ভালবাসি। আগামী কয়েকদিন রাজশাহী শহরে থাকব। এরপর মালাকে ঢাকায় নিয়ে যাব। গড়ে তুলবো সুখের সংসার।

মতামত...