,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

দেশপ্রেমে প্রত্যয়বদ্ধ ও নতুন চেতনায় জেগে ওঠার বিজয়ের মাস শুরু

16decদিলরুবা খানম:

বাঙালির জীবনে এবার একটু অন্যভাবেই শুরু হলো মহান বিজয়ের মাস।একটু একটু করে কলঙ্কমুক্তির পথে দেশ। সম্প্রতি দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মধ্য দিয়ে দায়মুক্তি্র আরও একধাপ এগিয়ে গেলো দেশ। তাই  এবারের ‘সোনার বাংলা’র বিজয়ের আনন্দ একটু গভীর হবে এটাই স্বাভাবিক।

ডিসেম্বর স্মরণ করিয়ে দেয় দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদ আর দু’লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে লাল-সবুজের পতাকা অর্জন ও দেশ গড়ে তোলার রক্তশপথের কথা । ৪৪ বছর ধরে সেই লাখো প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া এই স্বাধীন দেশে অনাহারে-অভাবে থাকা মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর অঙ্গীকারের কথা। তাই এই ডিসেম্বর দেশপ্রেমে প্রত্যয়বদ্ধ ও নতুন চেতনায় জেগে ওঠার মাস।  মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে ঘরে ঘরে, সমাজে-রাষ্ট্রে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য শপথ নেওয়ার মাস এই ডিসেম্বর।

আজ সেই পহেলা ডিসেম্বর । ৭১’র এ সময় সারাদেশে  সর্বাত্মক রূপ নেয় মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল আক্রমণের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে তখন। সারাদেশে  ব্যাপক যুদ্ধ চলছে। তখন নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গেরিলা তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক জান্তাদের নির্দেশে সামরিক বাহিনীর লোকরা পুনরায় গ্রামবাসীদের হত্যা এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার বর্বর অভিযান শুরু করেছে। গেরিলা সন্দেহে ঢাকা জিঞ্জিরার শত শত যুবককে যে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে হত্যা করা হয়। বুড়িগঙ্গার অপর পাড়ের তখনকার গ্রামটিতে অন্তত ৮৭ জনকে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা হত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন যুবক,নারী ও শিশু।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সংসদের উচ্চ পরিষদে বক্তব্যকালে উপমহাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানি সৈন্য অপসারণের নির্দেশ দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানি সৈন্য অপসারণই সমস্যার শ্রেষ্ঠ সমাধান। তিনি ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের জনসাধারণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

পাকিস্তানের কারাগারে তখন স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান  । রাওয়ালপিন্ডিতে একজন সরকারি মুখপাত্র  অধুনালুপ্ত আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার এখনও শেষ হয়নি বলে উল্লেখ করে  বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের চারটি রণাঙ্গণে যে আক্রমণাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছিল তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ’৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধারা অপারেশন চালিয়ে ঢাকায় দু’জন মুসলিম লীগ কর্মীকে হত্যা ও দু’জনকে বুলেটবিদ্ধ করেন।

মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন স্তানে অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে পাকবাহিনীকে নাজেহাল করে তোলে। মুক্তিবাহিনীর তীব্র আক্রমণে পাকবাহিনীবিভিন্ন এলাকা থেকে পালাতে শুরু করে।  আজ মুক্তিবাহিনী টেংরাটিলা ও দুয়ারাবাজার মুক্ত ঘোষণা করে ও পিপলস পার্টির ঢাকা অফিস বোমা বিস্ফোরণ হয়। জুলফিকার আলী ভুট্টো দু’মাস আগে এ অফিস উদ্বোধন করেছিলেন। আমাদের যা কিছুর অর্জন, স্বাক্ষর তা হলো বিজয়

মতামত...