,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

দেশের উন্নয়নের স্বার্থে চীনের পাশাপাশি ভারতসহ সবার সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে:সৈয়দ আশরাফ

asrafবিশেষ সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ দেশের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে চীনের পাশাপাশি ভারতসহ সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হবে বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

শনিবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বিদায় জানানো শেষে শাহজালাল বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যেমন চীনের সঙ্গে কাজ করছি, আবার আমরা ভারতের সঙ্গেও কাজ করছি। আমাদের সবার সঙ্গেই সম্পর্ক রাখতে হবে। একা আমাদের পক্ষে কোনো কিছুই সম্ভব না।’

চীনের প্রেসিডেন্টের সফরকে সফল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কত টাকা দিল? কত চাল দিল? কত ডাল দিল? এটা নিয়ে খোঁচাখুচি করতে পারেন। বিষয়টা হলো কানেকটিভিটি। চীন আমাদের সঙ্গে আছে। এটাই একটা পরিপূর্ণ বিষয়।’

চীনের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আশরাফ বলেন, ‘আমরা চীনের সাথে গত পাঁচ-সাত বছর ধরে নিবিড়ভাবে কাজ করছি। পশ্চিমা বিশ্ব অনেক কিছু বলে কিন্তু বাস্তবায়ন খুবই কম। কিন্তু চীন বাস্তবায়নে খুব তৎপর। কোনো সময়েই ফাঁকি দেয় না।’
তিন দশক পরে চীনের কোনো প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরে করলেন। শি’র সফরে তার ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড’ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ। শি’র সফরে বাংলাদেশ-চীন ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, যার আওতায় চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশ ২১.৫ বিলিয়ন ডলার অর্থ-সহায়তা পেতে যাচ্ছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ বলেন, ‘চীন এখন সুপার পাওয়ার। এটা আমাদের মেনে নিতে হবে। আমরা এখন পর্যন্ত দেখছি, তারা গঠনমূলক। এখানে চীনকে নিয়ে আতংকের কোনো কারণ নেই।’

বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনীতির দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁড়ে নিঃশ্বাস ফেলা চীন নিজেদের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আঞ্চলিক উন্নয়নেও সহযোগিতা করতে চায় বলে মনে করেন তিনি।

মিয়ানমারের সঙ্গে বিরাজমান সমস্যাগুলো চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না- জানতে চাইলে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘মিয়ানমার আর বাংলাদেশ এক না। আমরা হলাম ভারতবংশীয় অরিজিন। আমাদের এই ভূখণ্ড মিয়ানমারের চেয়ে অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এই সাব-কন্টিনেন্টকে কেউ অবহেলা করতে পারবে না। আমাদের এখানে চীন বারবার আসে কেন? আমাদের জন্যই আমাদের কাছে আসবে।’

কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসনমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নয়। চীনের সঙ্গে আমাদের অনেক কিছু আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, আমাদের এই অঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। এটা আমাদের অগ্রাধিকার।’

দীর্ঘদিন পর কমিউনিস্ট চীনের প্রেসিডেন্টের সফর বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা এক সিস্টেমে চলে, আমরা এক সিস্টেমে চলি। আমরাও তাদের সিস্টেম নিয়ে সমালোচনা করি না। তারাও আমাদের সিস্টেম নিয়ে সমালোচনা করে না।’

মতামত...