,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

দেশের উপকূলে লবণ চাষ পুরোদমে শুরু

saltকক্সবাজার,০৮ ডিসেম্বর (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম)::কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের ৭ উপজেলায় পুরোদমে শুরু হয়েছে লবণ চাষ। ৬৫ হাজার একর জমিতে দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি ১৯ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চলতি শুষ্ক মৌসুমে লবণ চাষাবাদ শুরু হয়েছে। কিন্তু বিগত কয়েক মৌসুমের ন্যায় বিদেশ থেকে লবণ আমদানি অথবা চোরাই পথে লবণ আসতে পারে আশংকায় শংকিত চাষিরা। গত বছরের নানা প্রতিকুলতা অতিক্রম করে এবার নভেম্বর মাস থেকে উপকূলের বেশির ভাগ এলাকায় লবণ চাষ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মোকামে নতুন উৎপাদিত লবণ মজুদ করা হচ্ছে। বিসিক ও স্থানীয় চাষীদের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার সদর উপজেলা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী (আংশিক) উপজেলার ১৩টি কেন্দ্রের অধীনে প্রায় ৬৫ হাজার একর জমিতে চলতি বছরের নভেম্বর মাস থেকে লবণ চাষ শুরু হয়েছে। বিসিক এবার ১৯লাখ মেট্রিক টন লবন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকুলে থাকার কারনে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ২২লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন স্থানীয় চাষী ও ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, অন্যবছরের তুলনায় এবার লবণ উৎপাদন প্রায় একমাস আগে থেকেই শুরু করতে পেরেছে চাষীরা। তাই লক্ষ্যমাত্রার অধিক লবণ উৎপাদন হবে। জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লবন উৎপাদনের শুরুতেই রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রিক একটি অসাধু ব্যবসায়ী চক্র ফের বিদেশ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন লবণ আমদানি করতে নানাভাবে তোড়জোর শুরু করেছে। গত বুধবার ঢাকায় লবন আমদানির বিষয়টি নিয়ে ট্যারিপ কমিশনে একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা ফের বিদেশ থেকে লবন আমদানির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অবগত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। লবণ চাষী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও চকরিয়া উপজেলার বৃহত্তম লবণ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান দরবেশকাটা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো.শহিদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের নানা প্রতিকূতা ও আর্থিক ক্ষতিসাধন অতিক্রম করে চলতি মৌসুমে চাষীরা নভেম্বর মাস থেকে লবণ উৎপাদনে মাঠে নেমেছে। বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় নতুন লবণ উৎপাদন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক চাষী উৎপাদিত লবণ মোকামে পাঠাচ্ছে। তিনি বলেন, এবার কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চল এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার আংশিক মিলিয়ে প্রায় ৬৫ হাজার একর জমিতে লবন চাষ করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকুলে থাকায় এবার লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে অতিরিক্ত লবণ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
লবণ চাষী সমিতির সভাপতি ও চকরিয়া উপজেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট শহীদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, চলতি মৌসুমের লবন উৎপাদনের শুরুতেই ঢাকায় বসে একটি অসাধু ব্যবসায়ী বিদেশ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন লবণ আমদানি করতে নানাভাবে তোড়জোড় করেছে। গত বুধবার ট্যারিফ কমিশনে এ ব্যাপারে বৈঠকও হয়েছে। ওই বৈঠকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা ভারত থেকে ফের লবন আমদানির জন্য বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রানালয়কে অবগত করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও লবণ চাষী সমিতির কর্মকর্তারা অবিলম্বে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির অপচেষ্টা বন্ধের মাধ্যমে দেশীয় লবণ শিল্পকে রক্ষা করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এছাড়া টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মায়ানমার থেকে চোরাই পথে লবণ প্রবেশ বন্ধে সীমান্ত রক্ষীরা জোরালো ভুমিকা রাখলে দেশের লবণ চাষিরা উৎপাদিত লবণের ন্যায্য মূল্য পাবে।

মতামত...