,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন খনি হালদা কে জাতীয় নদী ঘোষণার দাবি

halda riverদিলরুবা খানম, বিডিনিউজ রিভিউজঃ বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদার ওপর মদুনাঘাট ও সর্তারঘাট এলাকায় নতুন নির্মিত দুটি সেতুর পাশাপাশি ব্যবহার অনুপযোগী পুরাতন দুটি সেতু এখনো আগের অবস্থায় রেখে দেয়ায় নদী ও মৎস্য সম্পদ বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, পাশাপাশি অবস্থানে দুটি সেতুর কারণে এই জোয়ার ভাটার এই নদীটি মারাত্মকভাবে হুমকির মধ্যে পড়েছে। সেতুর এই অবস্থানগত কারণে নাব্যতা হারিয়ে নদীটি মৃত নদীতে পরিণত হতে পারে। বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে প্রাকৃতিক এই মৎস্য খনিটি।

halda-2brigeজানা যায়, স্বাধীনতা পূর্ব পাকিস্তান শাসনামলে চট্টগ্রামের সাথে রাঙ্গামাটি ও কাপ্তাই’র সড়ক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হালদা নদীর উপর সর্তারঘাট ও মদুনাঘাটে দুটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। সে সময় মদুনাঘাট সেতুটি কংক্রিট দিয়ে তৈরি করা হলেও সর্তারঘাট সেতুটি নির্মিত হয়েছিল বেলী ব্রিজের আদলে। প্রায় দুই দশক আগে মদুনাঘাট পাকা সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে এটি নতুন করে তৈরির উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সরকার। বিগত ২০০০ সালের দিকে এটি পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে ২০০৬ সালের দিকে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নতুন সেতুটি উদ্বোধন করে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। অপরদিকে সর্তারঘাট পুরানো সেতুটিও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে নতুন করে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন স্থানীয় সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। তার প্রচেষ্টায় এই সেতুটির নির্মাণও সম্পন্ন করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কাপ্তাই-রাঙ্গামাটির যোগাযোগ হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার উপর দিয়ে। পাশাপাশি এ দু’টি উপজেলাকে বিভক্ত করেছে হালদা নদী। সূত্র মতে, জনস্বার্থে হালদা নদীর ওপর দু’টি নতুন সেতু নির্মাণ করে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হলেও আগের দু’টি পুরোনো সেতু ভেঙে ফেলা হয়নি। এখন পৃথক দু’টি স্থানে পাশাপাশি দু’টি সেতুর অবস্থান থাকায় নদীর পানি প্রবাহের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। হালদার মৎস্য সম্পদ গবেষক ও নদী বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সময় হালদা নদী পরিদর্শনে গিয়ে সেতুগুলোর অবস্থান দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। সেতুগুলোর অবস্থানগত কারণে এই নদী ভবিষ্যতে নাব্যতা হারিয়ে মৃত নদীতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তারা।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে হালদা রক্ষা কমিটির এক সমাবেশে ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (বাপা) চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সভাপতি অধ্যাপক ড. সিকান্দর খান হালদা নদীর ওপর পৃথক দু’টি স্থানে পাশাপাশি থাকা চারটি সেতুর প্রসঙ্গে বলেন, নতুন সেতু নির্মাণের পরও পুরানো সেতুগুলো পাশাপাশি রেখে দিয়ে সংশ্লিষ্টরা এই বিশেষায়িত নদীকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।

হালদা গবেষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, কোন জোয়ার ভাটার নদীতে পাশাপাশি দুটি সেতু রেখে দেয়ার নজির কোথাও নেই। হালদার দু’টি স্থানে সেতুর অবস্থানগত কারণে দ্রুততার সাথে নদীতে পলি জমে তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাবে নদীর বিভিন্ন পয়ন্টে চর জেগে বিপরীতে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এই পরিবেশ এক অবর্ণনীয় বিপর্যয়ের দিকে এগুচ্ছে প্রাকৃতিক এই মৎস্য খনিটি।

হালদা রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী বলেন, হালদা ধ্বংসের চক্রান্ত চলছে। এই চক্রান্ত রুখে দিতে হালদা পাড়ের মানুষ যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে রাজি আছে। তিনি নদীর প্রবাহ বিঘ্ন সৃষ্টিকারী পুরাতন সেতু অপসারণ, বিশেষায়িত এই নদী রক্ষায় প্রয়োজনীয় বাস্তবমুখী কর্মসূচি প্রণয়ন ও হালদাকে জাতীয় নদী ঘোষণার দাবিতে ২৬ সেপ্টেম্বর (আজ) সর্তারঘাটে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের কথা জানান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মদুনাঘাট পুরোনো সেতুটি এখন ব্যবহার করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এটির উপর দিয়ে বসানো হয়েছে পানির পাইপ লাইন। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পুরানো সেতুটি বার্ষিক চুক্তিতে ভাড়া নিয়েছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষও বিষয়টি স্বীকার করেছে।

মতামত...