,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

দেশের ক্রীড়াঙ্গণে ১৩১ মিনি স্টেডিয়াম নিমার্ণ প্রকল্প শুরু

studiumনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: দেশের ক্রীড়াঙ্গণে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগে ১৩১টি মিনি স্টেডিয়াম নিমার্ণ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে স্ট্রেডিয়ামগুলোর টেন্ডার আহবান করা হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন সিকদার বলেন, সরকারি উদ্যোগে দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। সে লক্ষ্যে ৪৯০টি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১৩১টি মিনি স্টেডিয়ামের টেন্ডার আহবান করাহেয়ছে। এ জন্যে টাকাও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ১৩১টি স্টেডিয়াম নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং এতে ব্যয় হবে ৫৫ কোটি টাকা। মাসখানেকের মধ্যেই প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর কার্যাদেশ প্রদান করা হবে। প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ের এসব মিনি স্টেডিয়ামগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগানো এবং এর রক্ষনাবেক্ষণের জন্য উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে আরো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়া হবে।’

তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার যাতে বিকাশ ঘটে এবং খেলাধুলার সুযোগ সৃস্টি হয় সে লক্ষ্য নিয়েই সরকার উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যেখানে সব ধরনের খেলাধুলা আয়োজনের পর্যাপ্ত সুযোগ থাকবে। বিভিন্ন ইভেন্টে ট্যালেন্টহাট কর্মসূচি বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে নতুন খেলোয়ার সৃষ্টি, খেলার মান উন্নয়ন,বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশকে খেলাধুলায় অন্যমত সেরাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে স্টেডিয়ামগুলো নির্মাণ করা হবে। এ সবের স্থাপনায় বিপুল সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থানও হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘ বর্তমান সরকার ক্রীড়া বান্ধব সরকার’ উল্লেখ করে বীরেন সিকদার বলেন, একই উদ্দেশে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষন কার্যক্রম বর্তমান সরকারের নেয়া সবচেয়ে আলোচিত পদক্ষেপ। ক্রীড়াঙ্গনকে সমৃদ্ধ এবং এদেশের ক্রীড়ার উন্নয়নের স্বার্থেই দেশের বিভিন্ন ফেডারেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের এই প্রতিভা অন্বেষন কার্যক্রমের জন্য ইতিমধ্যে ব্যয় করা হয়েছে ১৬ কোটি টাকা। এই কার্যক্রমে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় বাজেট এটা। এর মাধ্যমে তৃনমুল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ সংগ্রহ করা হচ্ছে।’

প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ সংগ্রহের ওপর গুরুত্বারোপ করে উদাহারণ হিসেবে ক্রিকেট তারকাদের টেনে এনে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন,‘ বর্তমানে বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্ব আসরে সংহত অবস্থান তৈরী করেছে। আর সেখানে যারা ভাল করছে তারা সবাই তৃনমূল থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়।’
বিলুপ্তপ্রায় দেশের ঐতিহ্যবাহী খোগুলো পুনরুদ্ধারেও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেনন,‘ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও হারিয়ে যাওয়া খেলাগুলো পুনরুদ্ধারে এবং তৃনমুল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। কারণ সময়ের আবর্তে বিলীন হতে যাওয়া খেলাগুলোই আমাদের দেশের ঐতিহ্য। সেগুলোকে পুনরুদ্ধার করার বিষয়ে তার বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে বীরেন সিকদার বলেন,‘ ক্রিকেট আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে যেভাবে অবস্থান নিতে পেরেছে বাংলাদেশের ফুটবল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেভাবে সুবিধা করতে না পারার প্রধান কারণ হচ্ছে বিশ্বব্যাপী এ খেলার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বি অনেক বেশী। সুতরাং একটি সুনির্দিস্ট পরিকল্পনা নিয়েই এই খেলাটির প্রসার ঘটাতে হবে। সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে অবশ্য একটি ফুটবল একাডেমি করার উদ্যোগ নিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন প্রতিকুল পরিস্থিতির কারণে এবং সুনির্দিষ্ঠ পরিকল্পনার অভাবে সেটি সফলতার মুখ দেখেনি। আমরা নতুন করে এ ধরনের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করছি। ইতোমধ্যে ঢাকা সফরে আসা ফিফা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আমার এ বিষয়ে কথা হয়েছে। বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে তারা সহযোগিতা করারও আশ্বাস দিয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন,‘ আমরা প্রতিটি বিভাগে অন্তত একটি করে বিকেএসপি প্রতিষ্টা করার উদ্যোগ নিয়েছি, যেখানে জনপ্রিয় খেলার পাশপাশি এ দেশের গ্রামীণ খেলাধুলার প্রসারের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাবে।’ বাসস

মতামত...