,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

দেশের প্রথম বড় রাসয়নিক দুর্ঘটনা চট্টগ্রামে!

aনিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানী সিইউএফএল সংলগ্ন ডিএপি প্লান্টে বিষ্ফোরনের ঘটনা দেশের প্রথম বড় রাসয়নিক দুর্ঘ টনা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।সোমবার রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় শতাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

সোমবার রাত রাত দশটার দিকে এই বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পানির প্রবাহ দিয়ে গ্যাসের বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত গ্যাস নি:সরন অনেক কমে গেলেও তা অব্যাহত ছিলো।

বিস্ফোরণে ডিএপি কারখানার ৫টি ট্যাংকারের মধ্যে একটি ট্যাংকার ফেটে গেছে, এতে প্রায় ৫’শ টন তরল এ্যামোনিয়া ছিলো, বিস্ফোরনের পর অপর ট্যাংকারগুলোর সংযোগ লাইন থেকেও গ্যাস বের হয়েছে।”
গ্যাস বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম কলেজের ফিজিক্যাল কেমেস্ট্রি বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ড. নু প ম আকবর হোসেন বিডিনিউজ রিভিউজকে জানিযেছেন, ডিএপি প্রান্টের ঘটনাটি দেশের প্রথম বারের মত বড় ধরনের রাসয়নিক দুর্ঘটনা, প্রাথমিক অনুমানে এই গ্যাস প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

“দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশ সমুদ্র তীরবর্তী খোলা হওয়ার কারনে গ্যাস বাতাসের সাথে দ্রুত ছড়িয়েছে, সমুদ্র তীর এলাকায় বাতাসের গতিবেগ স্বাভাবিকের চেয়েও একটু বেশি থাকে, প্লান্টের বিপরীতে কর্ণফুলী নদীর উত্তর তীরের পতেঙ্গা, হালিশহর ও আনোয়ারা এলাকায় মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো, উল্লেখ করেন তিনি।
আকবর হোসেন আরো বিডিনিউজ রিভিউজকে বলেন, ্এ্যামোনিয়া খুব দ্রুত বাতাসে মিশে যায় এবং এটি সহজে দ্রবিভূত হতে পারে, মূলত; এই কারণে এটি মানব দেহের জন্য তেমন একটা ক্ষতিকর নয়।”

ডিএপি কারখানায় বিস্ফোরনের সাথে সাথে ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়াদের মধ্যে ছিলেন চট্টগ্রাম ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন মাষ্টার পূর্ণ চন্দ্র মৃৎসুদ্দী বিডিনিউজ রিভিউজকে জানান, “এতবড় গ্যাস দুর্ঘটনা বাংলাদেশে প্রথম, ফায়ার সার্ভিসের ২৩ বছরের চাকুরী জীবনে এই রকম দুর্ঘটনা আর দেখিনি”

পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, “এর আগে ২০০৫সালে কক্সবাজারে এবং ২০০৮সালে চট্টগ্রামের সাগরিকা শিল্প এলাকার দুটি কারখানায় এ্যমোনিয়া ট্যাংকারে বিস্ফোরণ হয়েছিলো, ওই দুর্ঘটনায় বড়জোরে ৪০/৫০ লিটার গ্যাস ছড়িয়ে ছিলো।”

এখানে কয়েক’শ টন এ্যামেনিয়া ছড়িয়েছে, ডিএপি কারখানার ৫টি ট্যাংকারের মধ্যে যেটি বিস্ফোরিত হয়েছে সেটিতে কমপক্ষে ৫’শ টন এ্যামোনিয়া ছিলো, বিস্ফোরনে সেখানে বড়সড় গর্তের সৃষ্টি হয়, এই বিস্ফোরনের পরে অন্য ট্যাংকারগুলোর পাইপ থেকেও গ্যাস বের হয়ে আসে, উল্লেখ করেন তিনি।

মুৎসুর্দ্দী আরো জানান, “ফায়ার সার্ভিসের গ্যাস দুর্ঘটনার উপর প্রশিক্ষিত ৩ জন কর্মী রেজাউল করিম, এনামুল হক ও নিউটন দাশ এই দুর্ঘটনা মোকাবেলায় কাজ করছে, এরা থাইল্যান্ড থেকে গ্যাস ও রাসয়নিক দুর্ঘটনার উপর প্রশিক্ষন নিয়েছে।”

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ ‍উদ্দিন বিডিনিউজ রিভিউজকে জানান, রাত দশটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটলেও রাত দুইটার দিকে গ্যাস নি:সরনের মাত্রা কমে আসে, ফলে প্রাথমিকভাবে যে আতংক দেখা দিয়েছিলো দ্রুত তা কেটে যায়।

সম্ভবত এই ধরনের দুর্ঘটনা দেশে এই প্রথম, যেখানে কিছু এলাকার মানুষের মধ্যে আতংক দেখা দেয়, উল্লেখ করেন তিনি।

এই দুর্ঘটনায় ২ শতাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আসে চিকিৎসা নেওযার জন্য, অসুস্থদের মধ্যে বেশির ভাগই শ্বাস কষ্টে ভূগেছে বলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে।

মতামত...