,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

দেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

fladনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ দেশের কোথাও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, আবার কোথাও অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে। কোথাও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত । তবে সব নদ-নদীর পানি এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

দেশের কোন কোন স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত। ফসলের ক্ষতিসহ লাখ লাখ মানুষ পানি বন্দী হয়ে দুর্ভোগের মধ্যে দিনাতিপাত করছে।

কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে গতকালের চেয়ে ২ সে.মি. বেড়ে শুক্রবার বিপদসীমার ৯৭ সে.মি উপর দিয়ে এবং ধরলার নদীর পানি সেতু পয়েন্টে গতকালের চেয়ে ১২ সে.মি. কমে শুক্রবার বিপদ সীমার ৮৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে ও রাস্তা ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

flad1কুড়িগ্রামের বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা চলছে। খাবার পানির সংকটের পাশাপাশি গবাদিপশুর আশ্রয় ও গো খাদ্যের সংকট তীব্রতর হয়ে উঠছে। বৃষ্টির কারণে বাঁধে ও খোলা আকাশের নিচে আশ্রিতদের দুর্ভোগ বাড়ছে। রৌমারী উপজেলা শহরের অধিকাংশ এলাকা ৩ দিন ধরে হাঁটু পানিতে ডুবে আছে। গত এক সপ্তাহে পানিতে ডুবে ও বন্যার পানিতে বিদ্যুতায়িত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজার রহমান জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্রে ২ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। তবে উজানে দুধকুমারে পানি স্থিতিশীল রয়েছে। এ সময়ে ধরলায় কমেছে ১২ সেন্টিমিটার। কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আকতার হোসেন আজাদ জানান, ৯টি উপজেলার ৫৬টি ইউনিয়নের ৭১৯টি গ্রাম এখনও পানির নিচে। ১ লাখ ৫০ হাজার পরিবারের প্রায় ৬ লাখ ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত রয়েছে।

বগুড়ায় যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বগুড়ার বন্যাকবলিত সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলা এলাকার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এসব এলাকায় অন্তত ২০টি পয়েন্টে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ দিয়ে পানি চুইয়ে ভিতরে প্রবেশ করায় লোকজনের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনার পানি গত কালের তুলনায় আরো ১৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে আজ বিপদসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙ্গনও বেড়েছে। এতে নতুন করে বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থির আরো অবনতি হয়েছে।

বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কিছু পয়েন্টে পানি চুইয়ে পড়ার কথা স্বীকার করে জানান, বাঁধের অবস্থা এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পানি চুইয়ে পরা স্থান মেরামত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ৫টি পয়েন্টে বাঁধ দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ায় পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করেছে। সারিয়াকান্দির দিঘলকান্দি, কামালপুর ও চন্দনবাইশা এবং সোনাতলার বালিয়াডাঙ্গা ও ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে পানি চুইয়ে ভিতরে প্রবেশ করায় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

রুহুল আমিন জানান, বন্যা কবলিত ৩ উপজেলায় নতুন করে আরো কিছু নিম্নাঞ্চল প্রভাবিত হয়েছে। বন্যার্তরা বাড়ি ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়া অব্যাহত রেখেছে। বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের কারণে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নীচে দিন কাটাচ্ছে। বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে খাবার পানি ,জ্বালানী ও গো খাদ্য সংকট অব্যাহত থাকায় লোকজন দুর্ভোগে রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের ত্রাণ সামগ্রী ও পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের আরও কিছু নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। পদ্মা তীরের বাড়িঘর জলমগ্ন ছাড়াও বহু ফসলী জমি তলিয়ে গেছে। চর এলাকায় বানভাসি মানুষের কষ্ট অবর্ণনীয় আকার ধারণ করেছে। পদ্মার পানি আজ ভাগ্যকুল পয়েন্টে বিপদসীমার ৪১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছিল।

– বাসস।

 

মতামত...