,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

দেশে ব্লগার ইমাম মুয়াজ্জিন নিরীহ মানুষ কেউই নিরাপদ নয়ঃগণজাগরণ মঞ্চে

নিজস্ব প্রতিবেদক,  বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃঢাকা, দেশে ব্লগার ইমাম মুয়াজ্জিন নিরীহ মানুষ কেউই নিরাপদ নয়। তনুসহ সকল হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাটের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টার প্রতিবাদে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে আজ শুক্রবার প্রতিবাদী সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গণজাbnr head logo2গরণ মঞ্চের আয়োজনে এই সংহতি সমাবেশে অংশ নেন শিক্ষার্থী, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ।

গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক মারুফ রসূলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তারা দীর্ঘদিন ধরে ঘটে চলা একের পর এক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, লুটপাটের ঘটনায় সরকারের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার নিন্দা জানান। রিজার্ভ লুট, তনু ধর্ষণ এবং হত্যা, নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যাকাণ্ডসহ সকল হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন তারা।

সমাবেশে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘রিজার্ভ লুট, তনু হত্যাকাণ্ড, সেই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদকারী নাজিমুদ্দিন হত্যা, কোনো ঘটনারই বিচারের কোনো খবর নেই। কুমিল্লায় প্রতিবাদকারী সোহাগকে অপহরণের ১১ দিন পেরিয়ে গেছে, তারও কোনো সন্ধান নেই। একের পর এক ঘটনা ধামাচাপার যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছে, তা বিচারহীনতার অপসংস্কৃতিকে স্থায়ী রূপ দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণ বুঝে গেছে, একটি ঘটনা ঘটলে তাকে আড়াল করার জন্য কিছুদিনের মধ্যেই আরেকটি ঘটনা ঘটানো হবে। যখন একের পর এক হত্যাকাণ্ড চলছে, তখন সেসবের বিচার না করে, মানুষকে অনিরাপদ করে রেখে সাফল্যের পরিসংখ্যান দেখানোর মানে জনগণের সাথে প্রতারণা।’

প্রতিবাদকারীদেরই বারবার জীবন দিতে হচ্ছে বলে জানান ইমরান এইচ সরকার। তিনি বলেন, ‘এখন অপরাধীদের বিচার হয় না। যারা অপরাধের প্রতিবাদ করেন তাদেরকে লাশ হতে হয়। আজকে শুধু ব্লগার, লেখক-প্রকাশক বা ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিত নয়, দেশের প্রত্যেক মানুষই অনিরাপদ।’

বিচারপ্রার্থীদের হেনস্তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তনুর বাবা-মাকে তদন্তের নামে যেভাবে হেনস্তা করা হলো, তাতে এই বার্তা দেয়া হলো, যেন মানুষ অন্যায়ের বিচার না চায়।’

ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে ধর্ষক, লুটেরাদের পক্ষ নেয়া নয়। আমাদের পূর্বসূরিরা, মুক্তিযোদ্ধারা এদেশের আড়াই লক্ষ নারীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে, অবিচার, শোষণের প্রতিবাদে যুদ্ধ করেছে। তরুণদের সামনে দৃষ্টান্ত হচ্ছেন তারা। আজকে তরুণ প্রজন্মকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা কাদের অনুসরণ করবে। ধর্ষক-লুটেরাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় এসে প্রতিবাদ করাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।’

পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র বলেন, ‘তনু হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। এর অংশ হিসাবে আগামী ৫ মে “Justice For Tonu” এই দাবিতে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বর থেকে জাতীয় সংসদ বরাবর “Parliament March” কর্মসূচি ঘোষণা করছি।’

ইমরান জানান, সারাদেশ থেকে তনু হত্যার বিচার এবং ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডসহ চারদফা দাবিতে লক্ষ-কোটি গণস্বাক্ষর নিয়ে ৫ মে বেলা ১১টায় Parliament March শুরু হবে। এর পূর্বে সারা মাসব্যাপী এই কর্মসূচির প্রচারণা এবং গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চলবে। সারাদেশের মানুষকে, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। শুধু ঢাকায় নয়, সারাদেশেও সেদিন প্রতিবাদ কর্মসূচি চলবে।

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন শম্পা বসু, ভাস্কর রাসা, ইমরান হাবিব রুমন, লাকি আক্তার, মুশতাক আহমেদ, গৌতম ঘোষ প্রমুখ। সমাবেশ শেষে গণজাগরণ মঞ্চের মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ঘুরে আবার শাহবাগে এসে শেষ হয়।

মতামত...