,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

নতুন ইসির অধিনে বাঘাইছড়ি পৌর নির্বাচন ভোট আজ

রাঙামাটি সংবাদদাতা,১৮ ফেব্রুয়ারী বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: আজ বাঘাইছড়ি পৌর নির্বাচন। দ্বিতীয়বারের মত বাঘাইছড়িবাসী বেছে নিবে তাদের পৌর পিতা। রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি পৌরসভা নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা নির্বাচন অফিস।শুক্রবার সকাল থেকে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ব্যালেট পেপারসহ ভোট প্রদানের যাবতীয় কাগজ পত্রাদি পৌঁছানো হয়েছে। উল্লেখ্য নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে এটাই প্রথম নির্বাচন। এদিকে, নির্বাচনকে ঘিরে এখনও ভোটারদের মাঝে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। প্রার্থীদের চোখেও ঘুম নেই। নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা শেষ হলেও প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের যাবতীয় কাজ সেরে নিচ্ছেন এর ফাঁকে। ভারতের সীমান্তবর্তী বড় উপজেলা বাঘাইছড়ি। এবং রাঙামাটি জেলার দ্বিতীয় পৌরসভা বাঘাইছড়ি। ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু হওয়া এই পৌরসভাটি প্রথমে প্রশাসক দ্বারা পরিচালিত পরে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন সাবেক পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আলমগীর কবির। এবারো মাঠে নৌকা আর ধানের শীষের প্রার্থীর প্রধান বাধা হিসেবে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুর রহমান। অপরদিকে, অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে এই নির্বাচনকে গুরুত্বসহকারে নিয়েছে বিএনপি। এখানে বিএনপির প্রার্থী বরাবরই শক্তিশালী প্রার্থী। বিএনপিও সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করছে এখানে ধানের শীষের প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওমর আলীকে বিজয়ী করতে।
তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও বিএনপির জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে তৃতীয় প্রার্থী আজিজুর রহমান আজিজ। একসময় আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকা আজিজকে নির্বাচন থেকে সরাতে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে নানাভাবে চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আজিজ নির্বাচন থেকে সরেননি। আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. জাফর আলী খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামীলীগে আছি। এলাকার সবার দোয়া-আশীর্বাদ নিয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। বিজয়ী হলে অবহেলিত এই পৌরসভার উন্নয়নে আপ্রাণ চেষ্টা করব। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ ওমর আলী বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জয়লাভ নিয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী। কিন্তু ডিজিটাল কারচুপির আশংকায় রয়েছি। জনগণ আওয়ামী লীগকে আর চায় না।
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুর রহমান বলেন, এ পৌরবাসী বিএনপিকে দেখেছে, আওয়ামী লীগকেও দেখেছে। তারা কেউ পৌরসভার উন্নয়ন ও সেবা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসেনি। তাই জনগণের অনুরোধে আমি প্রার্থী হয়েছি।
নির্বাচন নিয়ে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মোঃ শাহ আলম বলেন, নির্বাচন নিয়ে এই সরকারের ওপর আস্থা রাখা কঠিন, তবুও শংকার মধ্যেই আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি, আশা করছি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হবে।
বিজয় সুনিশ্চিত জানিয়ে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর বলেন, আমরা জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। এবং নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষই হবে।
প্রশাসন থেকে বাঘাইছড়ি পৌরসভা নির্বাচনের ৯টি কেন্দ্রের সবকটিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোঃ নাজিমউদ্দিন বলেন, এখানকার বাস্তবতা একটু অন্যরকম, তাই সবকটি কেন্দ্রকেই আমরা গুরুত্বপূর্ণ। যেটাকে আপনারা ঝুঁকিপূর্ণ বলেন, সেই হিসেবেই বিবেচনা করছি। বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও নয়টি কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দাবি করা হয়েছে।
রাঙামাটি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার নাজিমউদ্দিন বলেন, তিনি জানান, বিজিবি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে টহল দিবে এবং আমরা বাড়ত্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি। তিনি বলেন, নতুন নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নিয়েই এই নির্বাচন। আমরাও চেষ্টা করছি সততা ও নিরপেক্ষতার সাথে নির্বাচন করতে। সবার সহযোগিতা পেলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে জানান তিনি।
আজ শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন করা হবে। নির্বাচনকে শান্তিপুর্ন করতে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। নির্বাচনে ৯ কেন্দ্রের ৩৩ বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের দিন আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় ও ভোট গ্রহনে ৯জন প্রিসাইডিং অফিসার, জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১জন, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ২জন, ৯টি মোবাইল টীম, আনসার, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশসহ ৫ শতাধিক আইন শৃঙ্খলাবাহিনী মোতায়েন থাকবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী থাকছে না। বাঘাইছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে ৯টি ভোট কেন্দ্র ও ৩৩টি বুথ রয়েছে। মোট ভোটার ১০ হাজার ১৭৭ জন। নির্বাচনে মেয়র পদে ৩ জন, সাধারন কাউন্সিলার পদে ২৫জন এবং সংরক্ষিত নারীর ৩টি পদে ৬জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

মতামত...