,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

নতুন কর আরোপ করার কোন এখতিয়ার চসিক এর নেই: মেয়র নাছির

নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৩ জুলাই, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র আলহাজ আ জ ম নাছির উদ্দীন নগরীর সার্বিক উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে সিভিল সোসাইটি, বিশেষজ্ঞ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ সর্বস্তরের নাগরিকদের পরামর্শ ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, কর্পোরেশন একটি সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান। নাগরিকদের প্রদেয় পৌরকর এর উপর ভিত্তি করে সকল সেবা পরিচালিত হয়। বিধিবদ্ধ আইন ও সরকারের গেজেট বিজ্ঞাপ্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পৌরকর নির্ধারণ করে থাকে। কর বৃদ্ধি করা বা নতুন কর আরোপ করার কোন এখতিয়ার চসিক এর নেই। তা সত্ত্বেও এক শ্রেণির ব্যক্তিরা চসিক এর উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে নানামুখী অপতৎপরতায় লিপ্ত। তারা নানাভাবে চক্রান্ত করে চসিক এর রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য ও অপপ্রচারে লিপ্ত। তিনি বলেন, পৌরকর পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে কোন ধরণের অভিযোগ বা আপত্তি থাকলে তা নিরসনের বৈধ পন্থা রয়েছে। প্রাপ্ত অভিযোগগুলো আইনানুগ শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, সরকার তাঁর আইনি কাঠামো ও বিধি বিধান অনুযায়ী কর্পোরেশনকে কর পুনর্মূল্যায়ন এর ক্ষমতা দিয়েছে। সে ক্ষমতাবলে চসিক প্রতি ৫ বছর অন্তর কর পুনর্মূল্যায়ন করে থাকে। এক্ষেত্রেও যে বিভ্রান্তি ও অপরাজনীতি করা হচ্ছে সে ব্যাপারে নগরবাসী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সচেতনতা ও নিরপেক্ষতা আশা করেন মেয়র। তিনি বলেন, বিগত মেয়রের আমলে কর পুনর্মূল্যায়নের বিষয়ে ১৩ হাজার আপত্তি উত্থাপিত হয়েছিল । অজ্ঞাত কারণে সেসকল আপত্তির নিষ্পত্তি করা হয়নি। আমি দায়িত্ব নিয়ে আপিল বোর্ডে রিভিও শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। মেয়র বলেন, আলোচনা সমালোচনাতে আমি ভীত নই। গঠনমূলক আলোচনা– সমালোচনা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
১২ জুলাই নগরভবনের কে বি আবদুস ছত্তার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাইকা সাহায্যপুষ্ট সিটি গভর্নেন্স প্রকল্পের অধীনে গঠিত সিভিল সোসাইটি কো–অর্ডিনেশন কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ মেয়র এসব কথা বলেন। সভায় সিভিল সোসাইটি কো–অর্ডিনেশন কমিটির সদস্য প্যানেল মেয়র,কাউন্সিলর ও সিভিল সোসাইটির সদস্যবৃন্দ ছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব মো. আবুল হোসেন, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন। সভায় আইবির সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ হারুন, আইবির সহ সভাপতি এম এ রশিদ, বিএমএ চট্টগ্রামর সভাপতি প্রফেসর ডা. মুজিবুল হক খান, স্থপতি সোহেল মাহমুদ শাকুর, চট্টগ্রাম চেম্বার এর পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, অহীদ সিরাজ স্বপন, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশের সিটি এডিটর এম নাছিরুল হক, চট্টগ্রাম টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি ও চট্টগ্রাম প্রেক্লাবের সাবেক সভাপতি আলী আব্বাস, মহিলা চেম্বার পরিচালক রেখা আলম চৌধুরী, শামীমা হারুন লুবনা ও এডভোকেট মিলি চৌধুরী আলোচ্য সূচির উপর তাদের মতামত তুলে ধরেন। সভাপতির বক্তব্যে সিটি মেয়র আলহাজ আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে নগরবাসীর চাহিদা ও প্রত্যাশা অনেক বেশি। সাম্প্রতিক সময়ের অতিবৃষ্টি জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে এখন স্বাভাবিক এর চেয়ে আড়াই থেকে তিন ফুট উচ্চতায় জোয়ারের পানি প্রবাহিত হয়। এছাড়াও সিলট্রেশন,পাহাড়ি ঢল, কাপ্তাই বাঁধের পানি ছাড়া, জলাশয়–পুকুর ভরাট ইত্যাদি কারণে নগরীতে জলবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করে। জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বিদ্যমান ৩৬ খালের মাটি উত্তোলন ও অপসারণ কাজের জন্য ১৮ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করেছে এবং এর আওতায় কার্যক্রম চলমান আছে। তাছাড়াও জাইকার অর্থায়নে ১শত কোটি টাকা ব্যয়ে মহেশ খাল, সুরভিখাল ও ডাইভারশন খালের খাল সংলগ্ন ও রাস্তা, প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে এবং ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮টি ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের স্বার্থে চীনের সরকারি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার চায়নার সাথে ২৭ টি স্লুইচ গেট, বড় খাল সমুহের দু’পাশে প্রতিরোধ দেয়াল, রাস্তা ও ব্রিজ নির্মাণ এবং রাস্তা ও খাল সমূহের ড্রেজিং এর জন্য ৫হাজার ৬ শত কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে প্রকল্পটি জিটুজি এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। এছাড়াও চট্টগ্রম সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ইকুইপম্যান্ট ও জনবল দ্বারা মাটি উত্তোলন ও মাটি অপসারণের কাজ চলমান রয়েছে। মেয়র বলেন, সম্প্রতি অতিবর্ষন ও জোয়ারের কারণে নগরীর নি¤œাঞ্চল সমূহ প্লাবিত হওয়ায় বসবাসকারীদের মধ্যে আট ভাগের এক অংশের নাগরিক জনদুর্ভোগে পড়ে।তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা প্রসঙ্গে বলেন,আমাদের এই জনগুরুত্বপূর্ণ দুই সেবা খাতের পরিধি ও ব্যাপকতা সম্পর্কে সরকারের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও জানত না। সাম্প্রতিক সময়ে আমি স্বাস্থ্য ও শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আলাপকালে তাঁদের এ দুই খাতের সেবার বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করেছি এবং ৫৩ কোটি টাকা বৎসরে ভর্তুকির বিষয়টিও তুলে ধরেছি। সিটি মেয়র কর্পোরেশনের আইনের পাশে সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক বন্ধুদের সমর্থন প্রত্যাশা করেন। তিনি নগরবাসীকে নাগরিক সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর ফাঁকির প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার আহবান জানান। মেয়র বলেন, সরকারের নতুন বেতন কাঠামোর কারণে কর্মচারীদের বেতনভাতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে কর্পোরেশনের ব্যয় বেড়েছে। প্রসঙ্গক্রমে মেয়র বলেন, ২০১৮ সালের মধ্যে পুরো চট্টগ্রাম নগরীর সড়কগুলোকে এলইডি লাইটের আওতায় নিয়ে আসা হবে । এর ফলে বিদ্যুৎ অপচয় ও কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে আর্থিক সাশ্রয় হবে বলে মেয়র জানান। সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, বর্ষন চলাকালীন সময়েও খানা–খন্দক মেরামত অব্যাহত আছে। বর্ষার পর পরই নগরীর ক্ষতিগ্রস্ত সড়কসমূহ পূর্ণাঙ্গভাবে উন্নয়ন কাজ শুরু করা হবে। তিনি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হোল্ডিংসমূহ এসেসমেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে বলেন, বন্দরের স্থাপনাসমূহ পুনমর্ূূল্যায়নে ১০৭ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। উভয়ের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। প্রসঙ্গক্রমে মেয়র বলেন, নগরীর ১০ থেকে ১২ লাখ মানুষ গরীব। তাই তাদেরকে পৌরকর থেকে সর্বোচ্চ ছাড় দেয়া হবে। মেয়র এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের কাছ থেকে সুপারিশও গ্রহণ করবেন বলে জানান। এছাড়াও তিনি মহেশখালের বাঁক সোজা করা, সিমেন্ট ক্রসিং এর বড় ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও জানান। এসব কাজ সম্পন্ন হলেই আগ্রাবাদ, হালিশহর সহ আশপাশের এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সভায় বিশেষজ্ঞদের মতামত চাওয়া হলে আইবির সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ হারুন চট্টগ্রামের সেবা সংস্থা ওয়াসা,সিডিএ এর সমন্বয়হীনতার কারণে চট্টগ্রাম নগরীর আজ শ্রীহীন নগরীতে পরিণত হয়েছে বলে জানান। তিনি জলাবদ্ধতার সমস্যাকে ২০–২৫ বছর পূর্বের বলে উল্লেখ করেন। চট্টগ্রাম চেম্বার এর পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ চসিক প্রকৌশল বিভাগের সীমাবদ্ধতা আছে বলে উল্লেখ করে চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়নের স্বার্থে চসিক প্রকৌশল বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভাগ সমূহের সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্পোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করার বিষয়টি মেয়রকে দেখার অনুরোধ করেন । সভার শুরুতে বিগত সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন করা হয়।–বিজ্ঞপ্তি

মতামত...