,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

নাশকতার পরিকল্পনা পণ্ড,শক্তিশালী ‘সসপেন’ বোমা উদ্ধার

moniru digনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম:: রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে উদ্ধারকৃত বোমাগুলো খুবই শক্তিশালী এবং আধুনিক ফর্মুলায় তৈরি। এখান থেকে ‘সসপেন’সহ ৫ ধরনের বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত বোমাগুলোর কয়েকটি মোহাম্মদপুর নবোদয় হাউজিংয়ের খালি স্থানে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে ।

শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইতোপূর্বে গোয়েন্দা পুলিশ যেসব বোমা উদ্ধার করেছিল সেখানে ২/১ ধরনের বোমা ছিল। কিন্তু আজ শনিবার এখান থেকে ৫ ধরনের বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। ফ্ল্যাটের ৩টি কক্ষের সর্বত্রই ছিল বোমা ও বোমা তৈরির নানান উপকরণে ভর্তি। এসব বোমার মধ্যে ‘সসপেন’ বোমাও ছিল। রান্নার কাজে ব্যবহৃত সসপেনে এই বোমা তৈরি করা হয়েছে। এই বোমাটি খুবই শক্তিশালী।’

কী পরিমাণ বোমা ও হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে এ পরিসংখ্যান জানাতে পারেননি তিনি।

গ্রেফতারকৃত দুজনের স্বীকারোক্তিতে শনিবার দুপুরে উত্তরার দক্ষিণখান এবং টঙ্গীতেও অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। কিন্তু সেখানে অবস্থানকারীরা টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদেরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে সেখান থেকেও কিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযানের বিবরণ দিয়ে মনিরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার বাড্ডার সাতারকুলে অভিযান চালিয়ে কামাল ওরফে শাহীন এবং শাহ আলম ওরফে সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। বাড্ডায় তাদের সদর দফতর ছিল। আর কারখানা ছিল মোহাম্মদপুরে। সালাউদ্দিনও মোহাম্মদপুরে থাকেন। তাদের দেয়া এসব স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রাতেই মোহাম্মদপুরে অভিযান শুরু করে ডিবি পুলিশ এবং নবগঠিত কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটি)।

কিন্তু রাতে আলোক স্বল্পতার কারণে অভিযান ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শনিবার সকাল ১১টায় পুনরায় অভিযান শুরু করা হয়। উদ্ধারকৃত বোমাগুলোর মধ্যে বেশ কিছু বোমা খুবই শক্তিশালী হওয়ায় সেগুলো কনটেইনারে নিরাপদে সংরক্ষণ করা হয়েছে। অন্য কোনো খালি জায়গায় সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হবে বলে জানান ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার।

শুক্রবার রাত থেকে শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিংয়ের বি ব্লকের ২৮ নম্বরের ৬ নং ভবনের ৫ম তলায় অভিযান চালায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (দক্ষিণ) এর একটি দল। অভিযানে সেখানে বিপুল পরিমাণ বোমা থাকার আলামত পান গোয়েন্দারা। কিন্তু আলোক স্বল্পতার কারণে এসব বোমা উদ্ধার করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রাতে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে বাড়িটি সিলগালা করে পুলিশ প্রহরায় রাখা হয়।

শনিবার সকাল থেকে পুনরায় সেখানে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। বাড়ির প্রতিটি কক্ষেই বোমা তৈরির আলামত পাওয়া গেছে। একটি কক্ষ থেকে বেশ কিছু বোমা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত বোমাগুলো বিভিন্ন ধরন ও মাপের ছিল। কিছু বোমা ছিল সাড়ে ৩ কেজি ওজনের। এসব বোমার কয়েকটি নবোদয় হাউজিংয়ের একটি ফাঁকা স্থানে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এর আগে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠে পুরো এলাকা। তবে বড় ধরনের বোমাগুলো সেখানে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়নি।

এ প্রসঙ্গে ডিবি’র বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের প্রধান সিনিয়র এডিসি ছানোয়ার হোসেন বাংলামেইলকে জানান, ‘আবাসিক এলাকায় এসব বোমার বিস্ফোরণ ঘটালে আশপাশের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে।’

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, টঙ্গী থেকে আটককৃত এক জঙ্গির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বাড্ডায় একটি বাড়িতে শুক্রবার রাতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এসময় দুর্বৃত্তদের চাপাতির আঘাতে আহত হন ডিবির এক ইন্সপেক্টর। পরে ওই অভিযানের সূত্র ধরে মোহাম্মদপুরে অভিযান চালায় ডিবি। কিন্তু বাড্ডায় অভিযানের কথা জানতে পেরে আগেই সেখান থেকে গা ঢাকা দেয় জঙ্গিরা। এর পর গভীর রাত পর্যন্ত মোহাম্মদপুরের ওই বাসায় অভিযান চালিয়েও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে বাড়ির মালিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

বি এন আর/০০১৬০০২০২০/০০১০৮/বি

মতামত...