,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

নির্বাচনে না এলে বিএনপি মুসলিম লীগ হয়ে যাবে : সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতু ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বক্তৃতার শুরুতে বলেছেন, একশন শুরু। প্রজিটিভ একশন। জনতার জোয়ার। শেখ হাসিনার উন্নয়নের জোয়ার। ষড়যন্ত্র যতই হোক আওয়ামী লীগকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী নির্বাচনে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে জনতা বিপুল ভোটে বিজয় করবে। আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মরণ সভায় বিশাল জনস্রোত প্রমাণ করে বাবুকে ভুলিনি, ভুলব না। ভুলতে দেব না। তার কর্ম ও কীর্তির জন্য মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন তিনি। তার স্মৃতি আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের মাঝে এখনো অম্লান। সাধারণ মানুষের ভালবাসায় ছিল তার রাজনীতি। তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের সবচেয়ে বড় সম্পদ মানুষের ভালবাসা। ১৯৭৫–এর পট পরবর্তী আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে তিনি নিজের অর্থ দিয়ে শেখ হাসিনা ও দলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। লন্ডনে শেখ রেহেনাকেও তিনি সাহায্য করেছিলেন। তিনি বলেন, বিএনপি এলোমেলো পার্টি। কোমর, হাঁটু ও মাজা ভাঙা দল। এ দলে কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। একে অপরকে সরকার ও আওয়ামী লীগের দালাল বলে আখ্যায়িত করে। যাদের আন্দোলন করার শক্তি নেই। তারা কোনো দিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য সড়কপথে রোহিঙ্গা শিবিরে পরিদর্শনে গেছেন। ফেনীর হামলার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করা প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ফেনীতে যদি হামলা আওয়ামী লীগ করে, তাহলে সাংবাদিকদের ওপর করবে কেন ? আর এমন একটি হামলা যেখানে বিএনপির একজন নেতাকর্মীও আহত হয়নি। নিজেরা ঘটনা ঘটিয়ে অন্যদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। নিউজ কভারের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে এ হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুকে মন্ত্রী করতে না পারায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আক্ষেপ ছিল। বাবুর মৃত্যুর পরে এ আক্ষেপ আমি নিজেই দেখেছি। তার প্রতিদানে তারই পুত্র সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদকে মন্ত্রিত্ব দিয়েছেন। তিনি সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি’র উদ্দেশ্যে বলেন, তোমার সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেনি। তোমার ভবিষ্যত উজ্জ্বল। দলের নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে একসাথে কাজ করার জন্য তিনি জাবেদকে পরামর্শ দেন।
আমাদের আনোয়ারা সংবাদদাতা জানান, গতকাল শনিবার দুপুরে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার যৌথ উদ্যোগে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাদের উপরোক্ত মন্তব্য করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক এমএ মান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে হাইলধর বশরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিশাল স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এনামুল হক শামিম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, কেন্দ্রীয় উপ–প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ–দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া ও দক্সিণ জেলা সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রমুখ।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ মালেক ও কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রনির যৌথ সঞ্চালনায় সভায় অন্যন্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চন্দনাইশ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, পটিয়ার সামশুল হক চৌধুরী এমপি, সাতকানিয়ার আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী এমপি, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক এমএ সালাম প্রমুখ।
উল্লেখ্য স্মরণসভাকে ঘিরে সকাল থেকে প্রয়াত নেতার হাইলধরস্থ বাড়িতে জনতার ঢল নামে। বিভিন্ন নেতাকর্মীদের ফুলে ফুলে সিক্ত হয় প্রয়াত নেতার কবর। কানায় কানায় ভরে যায় পুরো এলাকা। সেতুমন্ত্রী উপস্থিত জনতার কাছে আগামী নির্বাচনে প্রয়াত নেতার পুত্র সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদকে মনোনয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বলবেন কি না জানতে চান। হাজার হাজার জনতার স্লোগানে জাবেদকে নৌকা প্রতীকে ভোট ও বিজয়ী করার জন্য জনতার কাছ থেকে দু’হাত তুলে প্রতিশ্রুতি নেন। তিনি আরো বলেন, বেগম জিয়া গত সপ্তাহে রোহিঙ্গা শিবিরে পরিদর্শনে যাবার সময় ফেনীতে সাংবাদিকদের গাড়ীতে হামলা ও আসার পথে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। খালেদা জিয়া নিজে অসুস্থ হয়েও বিমানে না গিয়ে ১০ হাজার প্যাকেট ত্রাণ দেয়ার জন্য সড়কপথে গিয়েছিলেন। পথে পথে মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার পুরো এলাকা সামান্য ত্রাণের জন্য অচল হয়ে পড়ে। এ সময় তিনি ত্রাণের জন্য কয়েক লাখ রোহিঙ্গার ত্রাণসামগ্রী যাওয়ার পথও বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
আগামী সংসদ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপিকে নির্বাচনে আসতেই হবে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলে তাদের অস্তিত্ব হারিয়ে যাবে। বিএনপি মুসলিম লীগের মতো সংকুচিত হয়ে পড়বে। শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা পরিদর্শনের সময় যত মহিলা ছিল, খালেদা জিয়া আসার সময় তত নেতাকর্মীও ছিল না। খালেদা জিয়া চিকিৎসাশেষে লন্ডন থেকে ২ মাসে ফেরার কথা ছিল। তিনমাস পর লন্ডনের ব্লুপ্রিন্ট নিয়ে দেশে ফেরেন। ব্লুপ্রিন্ট বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে খালেদা জিয়া লক্ষ জনতার ঢল নামাতে চাইলেও রাস্তায় নেতাকর্মী ছাড়া সাধারণ জনগণ ছিল না। এয়ারপোর্ট থেকে ঢাকা মহানগর পুরো এলাকা অচল করে দেয়ার জন্যই তিনি এতো নেতাকর্মী নামিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের দলের মধ্যে শুধু মারামারি ও হানাহানি। খালেদা জিয়া কোর্টে হাজিরা দিতে গেলেও সেখানে নিজের দলের আইনজীবীরাও মারামারি করেন। বিএনপি নির্বাচনে যাবে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের বক্তব্যের কথা টেনে তিনি বলেন, নির্বাচনে যাবে এটা কি মওদুদের মনের কথা নাকি বিএনপির মনের কথা ? আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের কাছে জানতে চাই। কারণ বিএনপির মুখে এক কথা, মনে আরেক কথা। সেতুমন্ত্রী বলেন, দল ভারি করার জন্য চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, জমি ও বাড়ি দখল ও ভূমিদস্যুদেরকে আওয়ামীলীগে সদস্য করবেন না। নির্বাচনের সময় আর বেশি বাকি নেই। খারাপ আচরণ করে উন্নয়ন নষ্ট করবেন না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের জোয়ার চলছে।
প্রয়াত নেতার পুত্র ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি বলেন, আমার বাবা কর্ম ও ভালবাসায় আপনাদের মাঝে বেঁচে আছেন। বাবার এখনো মৃত্যু হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। তা আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না। আমি আমার বাবার আদর্শ বুকে ধারণ করে আপনাদের দোয়ায় সামনে এগিয়ে যেতে চাই।
আনোয়ারায় কর্মসূচিশেষে মন্ত্রী পর্যায়ক্রমে চন্দনাইশ সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
চন্দনাইশ : আমাদের প্রতিনিধি জানান, চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে কাঞ্চনাবাদ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আ. লীগ নেতা আবুল বশর ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবাইদুল কাদের এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন যথাক্রমে কেন্দ্রীয় আ.লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কেএম এনামুল হক শামীম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আ.লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম –১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরী, সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ–সভাপতি শাহজাদা মহিউদ্দীন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোকন, দক্ষিণ জেলা আ.লীগের সহ–সভাপতি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, পৌর মেয়র মাহবুল আলম খোকা প্রমুখ। মঞ্চে উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল আবদুল জব্বার চৌধুরীসহ ইউনিয়ন পয়ার্যের কয়েকজন চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে উপজেলা আ.লীগের সভাপতি–সম্পাদক উপস্থিত না থাকলেও কার্যকরী পরিষদের অধিকাংশ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তবে বিদ্যালয়ের মাঠ পরিপূর্ণ হয়নি। ১০টি অধিক তোরণ দিয়ে অতিথিদের স্বাগত জানানো হয়। সড়কের দুই পাশে ছিল রঙ–বেরঙের ব্যানার। ব্যানারে সংগঠনের নাম থাকলেও ছিল না স্থানীয় নেতাদের ছবি।
সাতকানিয়া : আমাদের প্রতিনিধি জানান, গতকাল শনিবার বিকালে সাতকানিয়ার কেরানীহাট হক টাওয়ার চত্ত্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগ গণসামাবেশের আয়োজন করে।
সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মোতালেবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
লোহাগাড়া : আমাদের প্রতিনিধি জানান, বিকেলে বটতলী স্টেশনে লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী। সঞ্চালক ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মো. সালাহ উদ্দিন হিরু। কেন্দ্রী নেতৃবৃন্দ ছাড়াও অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট একেএম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, শাহজাদা মহিউদ্দিন, বিজয় কুমার বড়–য়া, শাহ নেওয়াজ চৌধুরী শাহিন, বোরহান উদ্দিন মোহাম্মদ এমরান, নুরুল হাকিম, জেলা পরিষদ সদস্য আনোয়ার কামাল ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আনিছ উল্লাহসহ উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ।

মতামত...