,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

নোয়াখালীতে চাঁদা না পেয়ে মহিলাকে লোমহর্ষক নির্যাতন মামলা নেয়নি পুলিশ

aনোয়াখালী সংবাদদাতা, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃনোয়াখালী, চাঁদা না দেয়ায় এক মহিলা কে রাস্তায় পেটাতে পেটাতে মাটিতে শুইয়ে দিল থানার এক দালাল। স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের মীমাংসা করে দেয়ার বিনিময়ে টাকা দাবি করেছিল শাহজাহান নামের ওই দালাল। বিচারপ্রার্থী শাহানারা বেগম (৩২) সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সোমবার ১১ এপ্রিল রাস্তায় একা পেয়ে বেদম প্রহার করে সে। এতে শাহানারার শরীরে অনেক স্থান ফেটে রক্ত বেরিয়ে যায়। এই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করেন এক যুবক। শুক্রবার ভিডিওটিইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হাতিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডে।

 জানা যায়, শাহানারা বেগম ৫নং ওয়ার্ডের রিয়াজ উদ্দিনের স্ত্রী। শাহানারা বেগমের এটি দ্বিতীয় বিয়ে। তার প্রথম স্বামী ধনু মিয়া মারা যান ২০০২ সালে। একই সালে রিয়াজ উদ্দিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তবে বিয়ের কোনো কাবিন হয়নি, ঘরোয়াভাবে মৌলবির সামনে কলেমা পড়ে বিয়ে হয়। প্রথম ঘরে তার দুই মেয়ে আছে। দু’জনেরই বিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয় ঘরে আরেকটি মেয়ে রয়েছে। মেয়েটি এএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।

শাহানারা বেগম বেশ কিছু পৈত্রিক সম্পত্তি আছে এবং সুদে টাকা কর্জ দিয়েও উপার্জন করেন। দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে তিনি প্রথমে স্থানীয় এক উকিলের কাছে গিয়ে বিচ্ছেদের জন্য অ্যাফিডেভিট করতে চান। কিন্তু কাবিন না থাকায় তিনি পৌরসভার মেয়রের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। মেয়র মীমাংসাও করে দেন। এই সুযোগে থানার দালাল শাহজাহানসহ আরো তিনজন তার বাসায় গিয়ে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। মীমাংসার আশ্বাসে এক কাউন্সিলরকে ১০ হাজার টাকা তিনি দিয়েছেন বলে জানা যায়।।

বিভিন্ন সময় শাহজাহান এলাকায় চাঁদাবাজি করেছেন বলে দাবি করেন শাহানারা বেগম। বাড়ি নির্মাণের সময়ও তিনি তাকে ১৪ হাজার টাকা চাঁদা তাকে দিয়ে ছিলেন।

 শনিবার ১০ এপ্রিল  রাতে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা চাওয়া হয়। এবারও দিতে অস্বীকৃতি জানান। সোমবার শাহানারা ব্যাংক থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা ঋণ তোলেন। এর আড়াই লাখ টাকা নিজের নামে এবং এক লাখ টাকা মেয়ের নামে। টাকা নিয়ে বাড়ি আসার পথে একা পেয়ে শাহজাহান পেছন থেকে তিনটি ঘুষি মেরে ফেলে দেয়। এরপর রাস্তা থেকে তুলে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে শাহানারা রাস্তা থেকে ছিটকে  রাস্তার পাশের গর্তে পড়ে যান।

aঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হতে থাকে। এসময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক ভিডিও করতে থাকেন। ভিডিওতে দেখা যায়, শাহজাহান গাছের ডাল দিয়ে শাহানারা বেগমকে পেটাচ্ছে। এসময় স্থানীয় এক যুবক তাকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেও কোনো কাজ হয়নি। এক পর্যায়ে স্থানীয় অনেকেই এগিয়ে আসেন কিন্তু থানার দালাল শাহজাহান কারও কথা শোনেনি ।

 শাহানারা বেগমের বলেন, চাঁদা দিতে না চাইলে শাহজাহান আমার ব্যাগ কেড়ে নেয়। ব্যাগে সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিল। এছাড়াও সে আমার গলায় থাকা দেড় ভড়ি স্বর্ণের চেন টান দিয়ে ছিনিয়ে নেয় । প্রহারের এক পর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম। গর্ত থেকে তুলে আমাকে পাশের একটি বাড়ির সামনে নিয়ে রড দিয়ে মারে শাহজাহান। আমার নাকফুল কেড়ে নেয়। কয়েকটা থাপ্পর দিয়ে আমার বুকে লাথি দেয়। এসময় স্থানীয় লোকরা আমাকে উদ্ধার করে একটি রিকশায় করে আমাকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

 চাঁদা না দেয়ায় নারীকে রাস্তায় ফেলে পেটানোর ঘটনায় মামলা নেয়নি থানা পুলিশ। সর্বশেষ শুক্রবার থানায় গেলে টাকার বিনিময়ে শুধু লিখিত অভিযোগ নিয়ে মহিলাকে বিদায় করা হয় কিন্তু মামলা রেকর্ড করা হয়নি।

ওই নারী অভিযোগ করেন, সোমবার তাকে মারধরের পর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তিনি একাধিকবার থানায় মামলা করতে চাইলে পুলিশ নানা অজুহাতে তাকে ফিরিয়ে দিচ্ছে।

শাহানারা জানান, তাকে মারধরকারী শাহজাহান থানার বাইরে তার লোকজন নিয়ে লাঠিসোটা নিয়ে তাকে আবার আক্রমণের জন্য অপেক্ষা করছিল।ভ্য পেয়ে সে থানার পেছনের গেট দিয়ে পালিয়ে বের হয়েছেন বলেও জানান।

মামলা না নেয়ার ব্যাপারে শুক্রবার হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম আরিসুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের একটি অভিযোগ এসেছে। তবে মেয়র এ অভিযোগের মীমাংসা করেছেন। এ ব্যাপারে মেয়রকে জিজ্ঞাসা করেন।’

 

মতামত...