,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

নৌকাই ভরসা!

boat-perফটিকছড়ি সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ  শত বছরের পুরানো ফটিকছড়ির রোসাংগিরীর শীলের হাট ঘাট। হালদার ওপর দুই উপজেলার বাসিন্দারা এ ঘাট দিয়ে পারাপার করে আসছে বহুকাল ধরে। বর্ষা মৌসুমে এখানে টানা নৌকাই একমাত্র ভরসা। অপরদিকে শুকনো মৌসুম এলে বাঁশের সাঁকোই হয়ে ওঠে এখানকার যাতায়াতের মাধ্যম। টানা নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পার হতে গিয়ে এ ঘাটেই দশবছর পূর্বে নৌকাডুবে মারা যায় ফারিয়া ইসলাম রিয়া নামক রোসাংগিরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। যুগ যুগ ধরে এখানকার পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের প্রাণের দাবি হয়ে আছে একটি সেতু। তাদের আশা, একদিন এ ঘাটেই হবে স্বপ্নের সেতু। কিন’ সেই সেতু হবে কবে? নেই কারো জানা। ফটিকছড়ি উপজেলার রোসাংগিরী ইউনিয়নে হালদা নদীর এপার-ওপারের পাঁচ গ্রামের লোকজনকে একটি সেতুর জন্য দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর এপারের প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসতে রোসাংগিরী ইউনিয়নের শীলের হাট ও ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের বংশাল গ্রামের মাঝখানে হালদা নদীর ওপর দিয়ে নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোসাংগিরী উচ্চবিদ্যালয়, রোসাংগিরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রোসাংগিরী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, শীলেরহাট ডাকঘর, রোসাংগিরী স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হযরত আবু বকর ছিদ্দিক (রা.) মাদ্রাসাসহ উল্লেখযোগ্য কয়েকটি স’ানকে হালদা নদী পৃথক করে দিয়েছে।

রোসাংগিরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক মো. আজিম উদ্দিন বিডিনিউজ রিভিউজকে বলেন, এখানে একটি সেতু নির্মাণ খুব জরুরি। বর্ষায় উজান থেকে যখন পাহাড়ি ঢল নেমে আসে তখন নদী ফুলে- ফেঁপে ওঠে। শিশুরা ভয়ে সাঁকো পার হয় না। তাই এ সময়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপসি’তি অনেকাংশে কমে যায়। রোসাংগিরী গ্রামের বাসিন্দা ও নাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী শম্ভূ কুমার শীল বলেন, নির্বাচন এলে সবাই এখানে সেতু করে দেওয়ার মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেন। পরে তারা সব কথা ভুলে যান।

রোসাংগিরী ইউপি চেয়ারম্যান শোয়াইব আল সালেহীন বিডিনিউজ রিভিউজকে বলেন, ‘শীলেরহাট এলাকা থেকে ২ কিলোমিটার দূরে নাজিরহাট বাজার সংলগ্ন অপর একটি সেতু রয়েছে। তবে শীলেরহাটে সেতু নির্মাণের দাবিটি অবশ্যই যৌক্তিক। আমি সাংসদ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ও পার্শ্ববর্তী হাটহাজারী উপজেলার সাংসদ ও পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সাথে আলোচনা করেছি। তাঁরা আমাকে এ ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।’

ফটিকছড়ি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী ম. বিল্লাল হোসেন বিডিনিউজ রিভিউজকে বলেন, প্রস্তাব পেলে সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মতামত...