,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ন্যায় বিচার না পাওয়ার অভিযোগ খালেদা জিয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক  বিডিনিউজ রিভিউজ ডটকমঃজঙ্গিবাদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা আছে, দাবি করে এই দলকে ‘জঙ্গিদের দল’হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

রোববার ২৬ জুন এক ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, জঙ্গি ধরা হোক। আমরা এর পক্ষে। কিন্তু এই জঙ্গি সব আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছে। জঙ্গিদের দল হলো আওয়ামী লীগ।’

‘এদের কাছে অস্ত্র-গোলাবারুদ, দেশি-বিদেশি সবরকম অস্ত্র পাওয়া যায়। কাজেই জঙ্গি হলো আওয়ামী লীগ। এদের ধরলেই সত্যিকার অর্থে বিচার হবে এবং শান্তি ও নিরাপত্তা আসবে’, বলেন প্রাক্তন এই প্রধানমন্ত্রী।

রাজধানীতে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের মিলনায়তনে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (একাংশ) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (একাংশ)।

জাতীয় প্রেসক্লাবে এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও ‘অনুমতি না মেলায়’সেখানে ইফতারের আয়োজন করতে পারেনি আয়োজক সংগঠন দুটি। সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হবে না বলেই প্রেসক্লাবে ইফতার মাহফিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের ইফতার মাহফিলের আয়োজন করতে না দেওয়ার সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সারা দেশে লুটপাট আর দখলের মহোৎসব শুরু হয়েছে। আজ প্রেসক্লাবও দখল হয়ে গেছে। সাংবাদিকরা সেখানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করতে চেয়েছিল, তা করতে পারেনি। তারা (প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ) নির্বাচন দিতে ভয় পায় বিধায় গায়ের জোরে দখল করে আছে।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘গণধিকৃত’আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘জমি-জায়গা বাড়ি-ঘর বিষয়-সম্পত্তি, ব্যাংক, সবকিছু দখল করছে তারা। আজকে যে সরকার ক্ষমতায় বসে আছে, তারা জনগণ দ্বারা নির্বাচিত নয়। তাদের যদি সামান্যতম সম্মান বা লজ্জাবোধ থাকত, তাহলে প্রতিনিয়ত কাগজে বা দেশি-বিদেশি পত্রিকায় যেসব খবর ছাপা হচ্ছে, তাতে ক্ষমতা ছেড়ে নির্বাচন দেওয়ার ব্যবস্থা করত।’

বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘সেই নির্বাচনে আসলে তখন তারা যে কাজ করত তা সমালোচিত হলেও বৈধতা পেত। কিন্তু আজকে এই সরকার একের পর যে এক কাজ করছে, সেগুলোর কোনো বৈধতা নাই।’

আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই দাবি করে প্রাক্তন এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিন সরকার যেসব মামলা দিয়েছিল, বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এখনো সেসব মামলা আছে। নাইকো মামলায় আমি ও হাসিনা (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) একসঙ্গে ছিলাম। মঈনুদ্দিনের সময়ে হাসিনার ছিলো ১৫টি এবং আমার ছিলো ৫টি মামলা। কিন্তু সেসব মামলায় হাসিনার নাম উঠে গেল। সেই নাইকো মামলায় হাসিনার নাম উঠে গেলে আমার মামলা কীভাবে চালায়?’

‘এই মামলা (নাইকো) হাসিনার নির্দেশে সবকিছু হয়েছে। চুক্তি তার সময়ে হয়েছে। আমার সেখানে কোনো কিছু নেই। হাসিনার মামলা কীভাবে উঠে যেতে পারে? হাসিনার মামলা উঠে গেলে অন্য কারো মামলা থাকতে পারে না। অন্যায়ভাবে বিচার করা হচ্ছে। সেজন্য বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থা উঠে যাচ্ছে’, বলেন খালেদা জিয়া।

বিচার বিভাগের ওপর কোনো বিশ্বাস ও আস্থা নেই বলেই বিচার বিভাগের কথা অমান্য করে সরকার একটির পর একটি কাজ করে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগ বলেছে, বিনা ওয়ারেন্টে, সাদা পোশাকে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। কিন্তু এখন প্রতিনিয়ত সাদা পোশাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মানুষের বাড়ি থেকে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

মাদারীপুরে শিক্ষকের ওপর হামলার সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার হওয়া ‘জঙ্গি’গোলাম ফাইজুল্লাহকে ক্রসফায়ারে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘একটি লোককে গ্রেপ্তার করার পর কোর্ট ১০ দিনের রিমান্ড দিয়েছে। হাতকড়া পরা অবস্থায় তাকে গুলি করে মেরে বলা হয়। এটি ক্রসফায়ার নয়, হত্যা। এই হত্যা করেছে ডিবি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার (শেখ হাসিনা) নির্দেশ ছাড়া এই কাজ হয়নি।’

বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া। তিনি কারাগারে আটক সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান, শফিক রেহমান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ আটক বিএনপি নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণের মুক্তি দাবি করেন।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের (একাংশ) সভাপতি শওকত মাহমুদদের সভাপতিত্বে খালেদা জিয়ার সঙ্গে মূল মঞ্চে ইফতার মাহফিলে যোগ দেন ডিইউজের (একাংশ) সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ, নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রাক্তন সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ।

সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কাদের গনি চৌধুরী, জাহাঙ্গির আলম প্রধান।

 

মতামত...