,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) আজ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী তথা মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম‘র এ জগতে আবির্ভাবের দিন। অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে, মহানবী সা: এর শুভাগমন ঘটে আ‘মুল ফীলের রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ মোতাবেক ৫৭০ ঈসায়ী সনের ২৯ আগস্ট সোমবার। এদিন ছিল বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে সবচেয়ে সৌভাগ্যময় ও আলোকোজ্জ্বল দিন। মহানবী সৌদি আরবের উম্মুল কোরা নামে খ্যাত প্রাচীন শহর মক্কা নগরীর প্রসিদ্ধ কুরাইশ বংশে আবদুল মোত্তালিবের গুণধর পুত্র আবদুল্লাহর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের পর তাঁর দাদাজান নাম রাখেন ‘মুহাম্মদ’ তথা অত্যধিক প্রশংসিত আর আম্মাজান রাখেন ‘আহমদ’, তার অর্থও প্রায় একই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাতৃগর্ভে থাকাকালে পিতা আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন। নবীজীর মায়ের নাম আমিনা। তিনি মদিনার প্রসিদ্ধ বনু যুহরা গোত্রের সর্দার ওয়াহ্ব–এর কন্যা। মহানবীর বংশ ক্রমধারা উর্ধ্বে মুসলিম মিল্লাতের পিতা সাইয়েদুনা হযরত ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে। শৈশবে মহানবীকে তায়িফের বনী সা‘দ গোত্রের হালিমা সা‘দিয়া দুগ্ধ পান করান। মহানবীর জন্মের ৬ষ্ঠ বছরে আম্মা এবং ৮ম বছরে দাদাকে হারান। বস্তুতপক্ষে তিনি চাচা আবু তালিবের হাতেই প্রতিপালিত হন। ২৫ বছর বয়সে তিনি ৪০ বছর বয়স্কা একই বংশের বিদুষী ধণাঢ্য মহিলা হযরত খদীজাতুল কুবরার সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। মহানবীর ৫০ বছর বয়সে তাঁর এ প্রিয়তমা স্ত্রী ও পিতৃব্য আবু তালিব না ফেরা দেশে চলে গেলে তিনি দারুণ বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এর অব্যবহিত পরে দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে তায়িফ গমন করলে সেখানেও চরম নির্যাতনের শিকার হন। অতঃপর আল্লাহ পাক মানসিকভাবে বিপন্ন তার প্রিয় হাবীবকে সান্ত¡না দেয়ার জন্য মি‘রাজের মাধ্যমে তার একান্ত সান্নিধ্যে ডেকে নেন। ৬২২ খৃষ্টাব্দে মহানবীর মদিনা হিজরতের মাধ্যমে ইসলাম ‘রবি’র আলোকধারা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। বস্তত এখানকার ১০ বছরেই মহানবী ইসলামী জীবন পদ্ধতির একটি পূর্ণাঙ্গরূপ বিশ্ববাসীকে উপহার দিতে সক্ষম হন।

মহানবীর আবির্ভাবকালে মক্কাসহ সারা দুনিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ ও বিভীষিকাময়। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা,অর্থনৈতিক দুরবস্থা, সাংস্কৃতিক নোংরামি, ধর্মীয়ভাবে পৌত্তলিকতার রাজত্ব–খোদ বায়তুল্লাহ শরীফে ৩৬০টি মূর্তি স্থাপন, উলঙ্গভাবে তাওয়াফ, কন্যা সন্তান জীবন্ত প্রোথিতকরণসহ যাবতীয় জঘন্য অপরাধমূলক কর্মকা–ে ডুবে গিয়েছিল তখনকার মানবগোষ্ঠী। ৪০ বৎসর বয়সে নবীজী নবুয়ত লাভ করে মাত্র ২৩ বৎসরের অক্লান্ত সাধনা ও সংগ্রামে তাওহীদ, রিসালত ও আখিরাতের মিশন বাস্তবায়ন করে পথহারা– গোমরাহ মানুষদের হেরার আলোকরশ্মি দিয়ে সারা পৃথিবীতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন সাধনে ব্রতী হন। মদিনা শরীফকে রাজধানী করে তিনি নবুয়তী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আরব উপদ্বীপে সকল ধর্মের মানুষের মাঝে শান্তি কায়েম করেন।

১১হিজরীর ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার দিন পেয়ারা নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন। তিনি যে জায়গায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সেখানেই চিরতরে শায়িত হন। আর এটি ছিল উম্মুল মোমিনীন হযরত আয়িশা রদিআল্লাহু তা‘আলা আনহার হুজরা, যা বর্তমানে মসজিদে নববীর ভেতরে রওজাতুন্নবী তথা রওজা শরীফ নামে পরিচিত। যেদিন মহানবী পৃথিবীতে আগমন করেন এর ঠিক ৬৩ বৎসর পরে সেদিনই তিনি এ নশ্বর পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নেন। তাই মিলাদুন্নবী তথা নবীর জন্মদিবস একই সাথে ওয়াফাতুন্নবী বা মৃত্যুদিবসও বটে।

জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে মহানবীর চরিত্রে রয়েছে অনুপম আদর্শ ও নির্ভুল শিক্ষা। তিনি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান ইসলামকে সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। তাই ইসলামে রয়েছে মানবজীবনের যে কোন সমস্যার নিখুঁত ও সুষম সমাধান। আধুনিকতা ও প্রগতিশীলতার সাথে কেবলমাত্র ইসলামই তাল মিলিয়ে চলতে পারে। ইসলাম বিজ্ঞানবান্ধব চিরায়ত সৃষ্টিশীলধর্মের নাম। মহানবীর জন্ম–মৃত্যু পালনের স্বার্থকতা তার আনীত বিধান জীবনের সর্বক্ষেত্রে বাস্তবায়নের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। তাই অনুষ্ঠান সর্বস্ব না হয়ে আমাদেরকে সুন্নাতের একনিষ্ঠ পাবন্দ হতে হবে। মহানবীকে লক্ষ্য করে আল্লাহ পরওয়ারদেগার পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ ফরমায়েছেন, “আমি আপনাকে অবশ্যই সারা দুনিয়ার জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি”। “ আমি আপনার স্মরণ–খ্যাতিকে করেছি সুমহান–সর্বোচ্চ”। অন্যত্র এসেছে,“আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনালেখ্য তোমাদের জন্য রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ”।

বর্তমান অত্যাধুনিক জাহেলিয়াতের ঘনঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্ববাসী যদি শান্তি ও মুক্তি ফিরে পেতে চায় তাহলে অবশ্যই আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম‘র মহান সীরাত তথা জীবনাদর্শের দিকে ফিরে আসতে হবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আমাদের সবাইকে সে উপলব্ধি দান করুন। আমিন ।

মতামত...