,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২২ জুন, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর আজ। আরবী শব্দ লাইলাতুন অর্থ রাত্রি আর ক্বদর মানে সম্মান, মর্যাদা, ভাগ্য। সুতরাং লাইলাতুল ক্বদর অর্থ হচ্ছে সম্মানের রাত্রি, ভাগ্য রজনী। এ রাত আল্লাহ পাকের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে। এ রাত্রি এত বেশি ফজিলত ও বরকতময় যে, যার তুলনা তামাম মাখলুকাতের কোন কিছুর সাথে হয় না। এ রাতের সত্যায়নে সুরা ক্বদর ছাড়াও সুরা দোখানে আল্লাহ পাক বলেন, ‘হামীম, শপথ সুষ্পষ্ট কিতাবের। আমি একে (কুরআন শরীফ) নাযিল করেছি এক বরকতময় রাতে, নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। আমার পক্ষ থেকে আদেশক্রমে, আমিই প্রেরণকারী। আপনার পালনকর্তার পক্ষ হতে রহমত স্বরূপ। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ’। – (সূরাতুদ্ দোখান ১-৬) লাইলাতুল ক্বদরে হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম ফেরেশতাদের একটি বিশাল দল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যত নারী পুরুষ নামায অথবা এবাদতে মশগুল থাকে তাদের জন্য রহমতের দু’আ করেন।- (মাযহারী) ।

হাদীস শরীফে রেওয়ায়েত হয়েছে, ‘রাসুল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা. একবার নবীজীর খেদমতে আরজ করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বদরের রাত তো মর্যাদার রাত। একটু বলেন কিভাবে এ রাতে দু’আ-মুনাজাত করবো ? জবাবে হুজুর ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, হে আয়েশা, আল্লাহর দরবারে অশ্রু সজল নয়নে কায়মনোবাক্যে দু’আ করবে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন করীম, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি’- অর্থ : হে আল্লাহ আপনি তো মহান ক্ষমাশীল, ক্ষমা করাকে পছন্দ করেন। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করুন।

লাইলাতুল ক্বদরের করণীয় সম্পর্কে হযরত আবু হুরাইরা রা. হতে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ক্বদরের রাতে ঈমান ও ইহতিসাব সহকারে ইবাদত করে তার পূর্বের গুনাহসমূহ মাফ করা হয়।- (বুখারী শরীফ) সুতরাং এ রাতে নফল নামায, কুরআন তিলাওয়াত, তাসবীহ-তাহলীল, দান-ছাদাকা, ওয়াজ-নছীহত, দরুদ শরীফ, দু’আ-মুনাজাত, আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ-খবর নেয়া ইত্যাদি ইবাদতের মাধ্যমে পুরো রাত জেগে কাটাতে হবে। এ রাতে ফেরেশতারা রহমতের সাওগাত নিয়ে মুসলমানের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ালেও যারা মুশরিক,যাদুকর, নেশাখোর, ব্যাভিচারী, মা বাবার অবাধ্য, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী, কৃপণ, খুনি ও ঘুষখোরের ধারে কাছেও যান না।

আমাদের সমাজে দেখা যায়, অনেকে এ রাতে আতশবাজি-ফটকাবাজি, আড্ডাবাজি ও শহরের অলিগলি ঘুরাফিরা করে সময় নষ্ট করে, যা লাইলাতুল ক্বদরের মহাত্ম্য ও মর্যাদার প্রতি চরম অবমাননার শামিল। আসুন, অত্যন্ত ভক্তি ও শ্রদ্ধা সহকারে সারারাত নফল ইবাদতের মাধ্যমে হাজার মাস থেকে শ্রেষ্ঠ রাত্রি লাইলাতুল ক্বদরের নিয়ামত লাভে প্রতিযোগিতা করি। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেও দেহ-মনকে ইবাদতের প্রতি ঝুঁকিয়ে করে দাও। আমিন।

মতামত...