,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

পরকীয়ার জেরে স্বামী হত্যা, স্ত্রী-ছেলে আটক

aনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চাঁদপুর,  শাহরাস্তিতে স্বামীকে হত্যার পর মাটিচাপা দিয়েছে স্ত্রী। এ কাজে সহযোগিতা করেছে তাদেরই সন্তান। উপজেলার মেহের উত্তর ইউনিয়নের নয়নপুর বেপারীবাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজের ১৬ দিন পর শনিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে স্ত্রীর স্বীকারোক্তিতে বাড়ির পার্শ্ববর্তী ভূমি থেকে গলিত লাশ উদ্ধার করে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ঘাতক স্ত্রী ও তার ছেলেকে আটক করা হয়েছে।

জানা যায়, ওই বাড়ির মৃত আ. হাকিমের ছেলে মো. জামাল হোসেন (৪০) গত ১৪ এপ্রিল নিখোঁজ হয়েছে জানিয়ে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম হ্যাপি (৩৫) ২৮ এপ্রিল শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (নং-১০৭৬) করেন। ডায়রি করার পর পুলিশ নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে বিভিন্ন থানায় জানায়। পরে বিষয়টি পুলিশের সন্দেহ হলে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে।

অপরদিকে ফাতেমা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তার এক নিকটাত্মীয় আমির হোসেনের স্মরণাপন্ন হয়। আমির হোসেন ফাতেমার সাথে কথা বলে কিছুটা অনুমান করতে পেরে শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানকে জানান।

পরে শাহরাস্তি গেট দোয়াভাঙ্গা এলাকায় আমির হোসেন ফাতেমা বেগমকে কৌশলে ডেকে থানা থেকে সাধারণ ডায়রি উত্তোলনের নাম করে অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমানের পরিচয় গোপন করে তার সাথে থানায় পাঠিয়ে দেন। এরপর ওসি থানায় এনে ফাতেমাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং লাশ কীভাবে মাটি চাপা দেয়া হয়েছে তার বিবরণ দেন।

ফাতেমার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান, উপ-পরিদর্শক (এসআই)  মো. আবদুল মান্নান, মো. নিজাম উদ্দিন, সমীর মজুমদার ও মো. কামাল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির পশ্চিম পাশের জমি থেকে গর্ত খুঁড়ে গলিত লাশ উত্তোলন করেন। এ সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়।

 নিহতের ভাই আজাদ হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই ১ ছেলে ও ২ মেয়ের বাবা। সে পারিবারিকভাবে সুখেই ছিল। কিন্তু ভাবীর পরকীয়ার জেরে বিভিন্ন সময় ভাইয়ের সাথে বাকবিতণ্ডা হতো। পরকীয়ার কারণেই আমার ভাই নির্মম হত্যার শিকার হয়েছে।’

শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে ফাতেমা জানিয়েছে ঘটনার রাতে তার স্বামীর জন্ডিসের ওষুধের সাথে ৮টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে দেন তিনি। স্বামী গভীর ঘুমে থাকাবস্থায় বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করে হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়।

পরে পাশের ঘরে ঘুমিয়ে থাকা ৯ম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে জাহিদুল ইসলাম ফাহিমকে (১৩) ডেকে তুলে তার বাবা আত্মহত্যা করেছে বলে জানায়। দিনের বেলায় স্থানীয়দের বিষয়টি বিশ্বাস করাতে পারবে না বলে রাতেই বাড়ির পশ্চিম পাশের জমিতে মাটি চাপা দেবে বলে ছেলেকে রাজি করায়। এরপর মা ও ছেলে দু’জনে মিলে লাশ মাটি চাপা দেয়।

এ ঘটনায় স্ত্রী ফাতেমা বেগম হ্যাপী ও ছেলে ফাহিমকে আটক করেছে পুলিশ। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

মতামত...