,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

পরকীয়া ঢাকতেই স্ত্রী ও প্রেমিক মিলে স্বামী ও মেয়েকে হত্যার লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি!

পরকীয়া প্রমিকের হাতে নিহত জামিল ও তার ৯ বছরের স্কুল পড়ুয়া মেয়ে নুসরাত। ঘাতক প্রেমিক শাহিন। -বিডিনিউজ রিভিউজ.কম

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: পরকীয়া প্রেমের ঘটনা জেনে যাওয়ায় স্ত্রী আর্জিনা ও তার কথিত প্রেমিক শাহীন তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। রাতে ঘুমন্ত জামিলকে দরজার চৌকাঠ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে শাহীন। এ দৃশ্য দেখে ফেলায় পরে আধা ঘণ্টা পর শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলা হয় জামিলের নয় বছরের স্কুল পড়ুয়া মেয়ে নুসরাতকে।

বুধবার গভীর রাতে উত্তর বাড্ডার ময়নারবাগের কবরস্থান এলাকার পাঠানভিলার তৃতীয় তলার চিলেকোঠায় জামিল শেখ ও তার মেয়ে নুসরাত শেখকে এভাবেই আর্জিনা ও তার কথিত প্রেমিক শাহীন মিলে হত্যা করেন।

হতাকাণ্ডে তাদের পরিকল্পনা ও সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে পুলিশকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছেন তারা। এ ঘটনায় বুধবার ভোরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বাসা থেকে আটক করা হয় জামিলের স্ত্রী আর্জিনা বেগমকে (৩০)। ঘটনার পর থেকে লাপাত্তা ছিলেন আর্জিনার কথিত প্রেমিক শাহীন মল্লিক (২৮) ও তার স্ত্রী।

শুক্রবার ভোরে খুলনার লবনচড়া উপজেলার মোহাম্মদনগর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে শাহীন ও তার স্ত্রী মাসুমা বেগমকে (২০)।

কথিত প্রেমিক শাহীন পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। শাহীন খুলনা সদরের কালাবসি ছুতারখালির জামিল উদ্দিন মল্লিকের ছেলে। অন্য দিকে হত্যার শিকার জামিল শেখ তেজগাঁও এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রাইভেটকার চালাতেন। তিনি স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা সন্তানকে নিয়ে থাকতেন ময়নারবাগের পাঠানভিলার চিলেকোঠায়।

ঘটনার দিন রাতে বাদী হয়ে জামিল শেখের ভাই শামীম শেখ জামিলের স্ত্রী আর্জিনা, তার কথিত প্রেমিক শাহীন ও তার স্ত্রীকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার এজাহারেও পরকীয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন বাদী শামীম।

বাড্ডা থানা পুুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ৫ থেকে ৬ মাস থেকে ধরে রাজমিস্ত্রি শাহীনের সঙ্গে পরকীয়া প্রেম গড়ে ওঠে আর্জিনার। যে বাসায় হত্যাকাণ্ড ঘটে তার আগে আর্জিনারা ৩০৫ নম্বর বাসার তৃতীয় তলায় এবং নিচ তলায় থাকতেন শাহীন। সেখান থেকে তাদের পরকীয়া শুরু হয়। স্বামী জামিল শেখ স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিলেন। কিন্তু কার সঙ্গে স্ত্রী পরকীয়া করেন সেই ব্যক্তিকে বের করতে পারেননি। স্ত্রীকে পরকীয়া থেকে ফেরাতে তিনি কোরবানির ঈদের পরদিন ৩০৬ নম্বর বাসার চিলেকোঠার দুটি কক্ষে ভাড়ায় ওঠেন। কিন্তু সেখানে আর্জিনা কৌশলে সাবলেটে একটি কক্ষ ভাড়া দেন শাহীনকে। এক কক্ষে শাহীন দম্পতি ও অন্য কক্ষে জামিল দম্পতি থাকতেন। সেখানেও চলে আর্জিনা ও শাহীনের পরকীয়া।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আর্জিনা পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনদিন আগে শাহীনের সঙ্গে স্ত্রীকে অন্তরঙ্গভাবে দেখে ফেলেন স্বামী জামিল। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরেই তাদের সংসারে ঝামেলা চলছিল। পরকীয়া জেনে ফেলায় স্বামী জামিলকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে আর্জিনা ও তার কথিত প্রেমিক। বুধবার রাতে ঘুমিয়েই ছিলেন জামিল। রাত একটার দিকে দরজার চৌকাঠ দিয়ে জামিলের মাথায় আঘাত করতে থাকে শাহীন। আঘাতে জামিল জেগে ওঠে শাহীনকে বলতে থাকেন- শাহীন ভাই আমাকে মারছেন কেন? কিন্তু জামিলকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে উপর্যুপুরি কাঠ দিয়ে আঘাত করতে থাকেন শাহীন। এক সময় চৌকাঠের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় জামিলের। কিন্তু এ হত্যার পুরো দৃশ্য দেখে ফেলে মেয়ে নুসরাত।

আর্জিনা আরও জানায়, নুসরাত ঘুম থেকে টের পেয়েই তার বাবাকে মারতে দেখে এবং বলে তোমরা আমার আবাকে মারছ কেন? পরে স্বামী জামিলের মৃত্যুর আধা ঘণ্টা পর বালিশ চাপা দিয়ে নুসরাতকে হত্যা করে শাহীন। তবে মেয়ে নুসরাতকে হত্যায় আর্জিনা আপত্তি জানালেও তা আমলে নেয়নি প্রেমিক শাহীন। পরে আর্জিনা বাসায় ডাকাত পড়েছে বলে নাটক সাজায় এবং ভোরে শাহীনকে বাসা থেকে বের করে দিয়ে স্বামী ও সন্তানের লাশের পাশে বসে বিলাপ করে কাঁদতে শুরু করেন। ঘটনার সময় ভাগ্যক্রমে তার একমাত্র ছেলে খাটের নিচে লুকিয়ে থাকায় বেঁচে যায় বলে জানায় আর্জিনা।

জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন জানিয়েছেন, তাদের পরকীয়া প্রেমে জামিল যাতে বাধা না হয়ে দাঁড়ায় তার জন্যই তাকে হত্যা করেন তিনি। পাশাপাশি এ হত্যাকাণ্ডটি নুসরাত দেখে ফেলায় পরে তাকেও হত্যা করা হয়। এরপর তিনি আর্জিনাকে ডাকাত নাটকের গল্প বানিয়ে দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে ভোরে খুলনার গ্রামের বাড়ির দিকে রওনা হন।

জামিল শেখের ভাই মামলা বাদী শামীম শেখ জানান, তার ভাই জামিল তিনদিন আগে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টি টের পান। এরপর তিনি তাকে ও তার ভাগিনা রুবেলকে বিষয়টি জানান। কিন্তু এর আগেও এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হলে কোরবানির ঈদের সময় সাভারে বাপের বাড়িতে চলে যান আর্জিনা। হত্যাকাণ্ডের এক মাস আগে তিনি ঢাকায় ফিরে স্বামীর সঙ্গে ৩০৬ নম্বরের বাসায় ওঠেন।

তিনি আরও জানান, পরকীয়ার বিষয়টি তাদের জানিয়েছিল জামিল। কিন্তু কোন ব্যক্তির সঙ্গে তা খুঁজে বের করতে পারেননি। এ কারণে সর্বশেষ তিনি বাসা বদল করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাখাওয়াত হোসেন বলেন, জামিলের কপালে একটি ও মাথায় পাঁচটি জখমের চিহ্ন ছিল। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের ফলে ওই জখম হয়েছে বলে তার মনে হয়েছে। লাশের পাশে একটি কাঠের টুকরো উদ্ধার করা হয়েছে।

বাড়ির মালিক দুলাল পাঠান জানান, আর্জিনার সঙ্গে শাহীনের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল তা কখনও বোঝা যায়নি। কারণ তারা একই বাসায় থাকতেন। ঘটনার পর বাসায় ডাকাত পড়েছে বলে আর্জিনা জানালে তার সন্দেহ হয় এবং তিনি পুলিশকে খবর দেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, প্রথমে বাবা এবং পরে মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। আর এ হতাকাণ্ডে বাবাকে শক্ত কিছু পদার্থ দিয়ে এবং মেয়েকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলা হয় বলে ময়নাতদন্তে জানা গেছে।

বাড্ডা থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, জোড়া খুনের এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে এবং সাবলেট ভাড়াটিয়া শাহীন ও তার স্ত্রী মাসুমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মতামত...