,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

পর্যটক বরণে প্রস্তুত কক্সবাজার

bnr ad 250x70 1

rajjakআবদুর রাজ্জাক,কক্সবাজার প্রতিবেদক,বিডিনিউজ রিভিউজঃ ঈদ মানে খুশির আমেজ। তাছাড়া একটানা নয় দিন সরকারী ছুটি । বিশেষ করে সরকারী চাকুরীজীবিদের জন্য এবারের ঈদের খুশির আমেজ অন্যান্য বছরের তুলনায় দ্বীগুন হবে বলে জানান অনেকেই। আর এই দ্বীগুন খুশির আমেজকে স্মরনীয় করে রাখতে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও ঈদের একটানা ছুটিতে লাখো পর্যটকের ঢল নামবে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। দেশী-বিদেশী পর্যটকের আগমন উপলক্ষে নববধুর সাজে সাজানো হচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। অন্যদিকে হোটেল-মোটেল জোন, গেষ্ট হাউস ও বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও বিভিন্ন দেশী বেদেশী রেষ্টুরেন্ট পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত। বাদ যাচ্ছে না সৈকতের কিটকট ছাতা আর ক্ষুদ্র শামুক-ঝিনুকের দোকানগুলোও। সেগুলোকেও নিত্য-নতুন আঙ্গিকে রং-এর তুলির আঁচড়ে সাজানো হয়েছে অপরূপ সাজে।

sea beachবৃহস্পতিবার সরেজমিনে সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হোটেল-মোটেল, গেষ্ট হাউস, কটেজে বিভিন্ন আল্পনা একে রং করা হচ্ছে আর পরিবর্তন করা হচ্ছে পুরনো জিনিসপত্র। অপরদিকে বিভিন্ন দেশী বেদেশী রেষ্টুরেন্ট ও খাবার হোটেলগুলিতেও চলছে ধোঁয়ামুছা ও রং লাগানোর প্রতিযোগীতা। পর্যটকদের উচ্ছ্বাস যেন নব উদ্যমে পরিনত হবে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ছাড়াও জেলার পর্যটন স্পটগুলো মুখরিত হয়ে উঠেবে পর্যটকের পদভারে। দেশী-বিদেশী বিপুল পর্যটকের আগমনকে কেন্দ্র করে চাঙ্গা হয়ে উঠেবে এখানকার পর্যটন শিল্প। ছোট থেকে বড় কোন হোটেল-মোটেল, গেষ্ট হাউস-কটেজসহ বিভিন্ন হোটেলের ৮০% রুম অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও হরতাল-অবরোধ না থাকায় কোটি টাকার বাণিজ্যিক লেনদেন হওয়ায় স্বস্থির নি:শ্বাস ফেলছেন এখানকার ছোট-বড়-মাঝারি সকল স্থরের ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করছেন এবছর প্রায় দুই লাখ পর্যটকের সমাগম ঘঠবে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত নগরী সাগরকন্যা কক্সবাজারে। হোটেল-মোটেল-গেষ্ট হাউস, বার্মিজ মার্কেট থেকে শুরু করে ডিম, আচার বিক্রেতাদের পাশাপাশি সকল স্থরের ব্যবসায়ীরা গত কয়েক বছরের সকল ক্ষতি পুষিয়ে এবার লাভের আশায় পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে মোটা অংকের বিনিয়োগ করছেন।
দেশী-বিদেশী পর্যটকের আগমনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সার্বক্ষনিক মাঠে থাকবে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব,বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যসহ বিভিন্ন আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্য। ট্যুরিষ্ট পুলিশে বাড়ানো হয়েছে জনবল। ইতিমধ্যে নতুন করে খোলা হয়েছে টেকনাফ ও ইনানীতে ট্যুরিস্ট পুলিশের ক্যাম্প। এদিকে বিপুল পর্যটক আগমনের আশায় এখানকার হোটেল-মোটেল, গেষ্ট হাউজ, রেষ্টুরেন্ট মালিক, ঝিনুক ব্যবসায়ী, কিটকট ছাতা-চেয়ার ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে চটপটি ও ডিম বিক্রেতা পর্যন্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে বিকিকিনির জন্য।শুধু পর্যটন শহর নয়। জেলার পর্যটনের দর্শনীয় স্থান বিশেষ করে দরিয়ানগর, হিমছড়ি, পাথুরে বীচ ইনানী, প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন, রামুর বৌদ্ধ বিহার ও মন্দির, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কসহ বিভিন্ন পর্যটন স্থানেও চলছে পর্যটক বরণের নানা প্রস্তুতি। কক্সবাজার হোটেল মোটেল ওনার’স এসোসিয়েশনের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন-এবারের ঈদে বিপুল পরিমাণ পর্যটকের আগমন ঘটবে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কারণে দেশী পর্যটকের পাশাপাশি এবার আশানুরূপ বিদেশী পর্যটকের আগমন ঘটতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
এব্যাপারে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, দেশী-বিদেশী পর্যটকের আগমনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সার্বক্ষনিক মাঠে থাকবে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব,বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যসহ বিভিন্ন আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্য। ট্যুরিষ্ট পুলিশে বাড়ানো হয়েছে জনবল।

মতামত...