,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

পর্যটন নগরী বান্দরবান পর্যটকে মুখরিত

banderban-jarnaরিমন পালিত,বান্দরবান প্রতিনিধি, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::বান্দরবানের নীলাচল পর্যটন এলাকার একটি অংশ যেখান আকাশ এসে মিশেছে সবুজের বুকে। বাংলাদেশ একটি অপরুপ চির সবুজ দেশ। তারই একটি জেলা বান্দরবান ।

১৯৮১ সালে বান্দরবানকে জেলা ঘোষনা করার পর থেকে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে অপরুপ সবুজের লীলাভূমি পর্যটন নগরী বান্দরবান।ঋতু বৈচিত্রের কারনে বছরের বারো মাসই প্রকৃতি ভিন্ন রূপ মেলে ধরে আমাদের এই দেশকে।sarn-mandir

বান্দরবানের এই অপরুপ দৃশ্যকে নিয়ে দেশ বিদেশের মানুষের জাগে নানা স্বপ্ন আর আশা প্রকৃতির সাথে মিলে থাকা এই পাহাড় ঘেরা বান্দরবান মুগ্ধ করেছে পর্যটকদের। শীতে সারা দেশের সঙ্গে মিলিয়ে তেমনই অপরূপা বান্দরবান। শীতে কুয়াশার চাদরে ঢাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সবুজ লীলাভূমি বান্দরবানে বেড়ানোর জন্য দেশ বিদেশ থেকে ছুটে আসেন দূর পাহাড়ে।

আর শীত মৌসুমই হলো পাহাড়ের অরণ্যের জেলা বান্দরবানের দুর্গমাঞ্চলগুলোর দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। ভ্রমণ প্রিয়াসীদের কাছে প্রকৃতি এ সময় নিজেকে মেলে ধরে আপন সাজে। বান্দরবান এমন একটি জেলা যেখানে বেড়াতে এসে কখনো মন খারাপ করে বাড়ি ফেরে না পর্যটকেরা।banderban-magla

চিরসবুজের ছোঁয়া যাঁরা পেতে চান, তাঁদের যেতে হবে পাহাড়ি জনপদের পাহাড়ের আনাচে-কানাচে। শীতের হিমেল পরশে সজীব হয়ে ওঠে পার্বত্য প্রকৃতি ও। বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের খ্যাতি ছড়িয়েছে এরই মধ্যে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও। আর তাই এবারের পর্যটন মৌসুম শুরু হতে না হতেই নানা হোটেল-মোটেল আর গেস্ট হাউসে শুরুহয়েছে পর্যটকদের আনাগোনা।

প্রতিবছরের মতো এবারও শীতকে সামনে রেখে বান্দরবানে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। বিদেশি পর্যটকদের ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে নীলাচল, নীলগিরি,মেঘলা,স্বর্ণমন্দির,রামজাদি, শৈলপ্রপাত, প্রান্তিকলেক, ঝরনাসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে।

বান্দরবানের নীলাচল পর্যটন এলাকার প্রবেশ পথ।

সম্প্রতি বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিক হত্যাকান্ডের ঘটনায় বান্দরবানসহ পার্বত্যাঞ্চলে বিদেশি পর্যটকদের আসা কমে গিয়েছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তার কারনে শীতের শুরুতেই বান্দরবানে বিদেশী পর্যটকদের আসা আবার শুরুহওয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন হোটেল-মোটেলের মালিকরা।

বান্দরবানের পর্যটন মোটেলের ম্যানেজার মোহাম্মদ সাইফুলাহ্ সংবাদ সবসময়কে বলেন বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায় বিদেশি পর্যটকদের আগমন একদম কমে গিয়েছিল। কিন্তু ইদানীং বিদেশি পর্যটকদের আগমন বেড়েছে। শীতে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

‘চলতি মাসে আমাদের পর্যটন মোটেলে ৬ জন আমেরিকান এ্যামবেসী পর্যটক পেয়েছি। বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা আগের চেয়ে চলতি মাসে কিছুটা বেড়েছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক কম। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আশা করা যাচ্ছে আগামীতে আরো বাড়বে।’

শীতের সময়টা বেড়ানোর উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নেয় ভ্রমণপিপাসুরা। প্রতিবছর শীতকে সামনে রেখে বান্দরবানে পর্যটকদের বাড়তি চাপ দেখা যায়। শীতের পরশে পর্যটকদের সরব উপস্থিতিতে চাঙ্গা হয়ে উঠছে বান্দরবানের আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট, গেস্টহাউস, রেস্টুরেন্ট এবং পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো।

পর্যটকরা কেনই বা ছুটে আসবেন না রূপের সৌন্দর্যের খ্যাতি এই জেলায়! কী নেই এই জেলায়? নীলাচল পাহাড়ের চূড়া থেকে সূর্যাস্ত দেখা, নীলগিরি থেকে পাহাড়ের সমুদ্র্র, পাহাড়ের চূড়ায় প্রাকৃতিক বগা লেক, পাহাড়ের চূড়া থেকে ঝরে পড়া রিজুক, জাদিপাই, চিংড়ি আর শৈলপ্রপাত ঝরনার হাতছানি। আছে গা ছমছমে বাদুড়গুহা, আলীর সুরঙ্গপথ। মেঘলায় লেকের ওপরে আকর্ষণীয় দুটি ঝুলন্ত সেতু,প্রান্তিক লেকের অপরুপা দৃশ্য ভারা একটি বিশাল লেক, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান স্বর্ণমন্দির, রামজাদী মন্দির, রেমাক্রি বড় পাথর, দেবতা পাহাড়, নাফাকুম জলপ্রপাত। দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, তাজিংডং বিজয়, কেওক্রাডং চূড়াও। এপাহাড়ি সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ এই জেলায় আছে ভিন্ন ভাষার এগারোটি জাতি গোষ্ঠীর বৈচিত্রময় সংস্কৃতিও। জাতি আর ধর্ম নির্বিশেষে সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বান্দরবানের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে বহুগুণে।

সবুজে ঘেরা বান্দরবানের নীলাচল পর্যটন এলাকার একটি অংশ যেখান আকাশ এসে মিশেছে সবুজের বুকে।

প্রকৃতির মলিন ছোঁয়া পেতে বান্দরবানে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছে দেশ- বিদেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষরা। দেশীয় পর্যটকদের সঙ্গে বাড়ছে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যাও। বান্দরবান জেলা আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি অমল কান্তি দাশ বলেন“ আমাদের বান্দরবান একটি পর্যটন সম্ভাবনাময় জেলা । আমাদের পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রাণলয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির বিশেষ উদ্দ্যেগে বান্দরবানে দূর্গম এলাকার অর্থাৎ রুমা ,থানচির যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন অনেক ভাল জেলা সদর থেকে দিনে গিয়ে দিনে আশা সম্ভব হচ্ছে।বান্দরবানে শীতের সময়েই পর্যটকের আগমন ঘটে বেশি। পর্যটকদের বরণে জেলার প্রায় ৫০টি আবাসিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট এবং গেস্টহাউসগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।

পর্যটকদের সঙ্গে ভালো আচরণ এবং সকল ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের পর্যটকবান্ধব হতে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।

নেজারত ডেপুটি কালেক্টর হোসাইন মুহাম্মদ আল- মুজাহিদ বলেন, ‘পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ একটি স্থান বান্দরবান। শুধু শীত নয়, বর্ষায় পাহাড় আরো সবুজ ও বৈচিত্র্যময়। পর্যটনশিল্পের অনেক উন্নয়ন হয়েছে এ জেলায়, যোগাযোগব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা এবং আবাসন ক্ষেত্রেও। নতুন নতুন বেশকিছু কটেজ, হোটেল-মোটেল এবং গেস্টহাউস হয়েছে।

নীলাচলের পর এবার শৈলপ্রপাতের সৌন্দর্যবর্ধনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শীতে পর্যটকদের বাড়তি চাপের কথা মাথায় রেখে পর্যটকের নিরাপদ এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

শীতে পর্যটকদের নিরাপদ এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।

বান্দরবান জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশ এর উপ-পরির্দশক সুরিত চাকমা সংবাদ সবসময়কে বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তায় দুর্গমাঞ্চলের দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের ট্যুরিস্ট পুরিশের ১৪ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্বরত আছেন।

প্রশাসনের তালিকাভুক্ত গাইডের মাধ্যমে নির্ধারিত ফরমে নাম-ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং ভ্রমণের স্থানগুলো লিখে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ফরমটি জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে। তবে শহরের আশপাশে নীলগিরি, চিম্বুক, নীলাচল, মেঘলা,প্রান্তিক লেক,রামজাদি, স্বর্ণমন্দিরসহ স্পটগুলো ভ্রমণে কোনো বিধিবাঁধা নেই। বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় দর্শনীয় স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

এদিকে মাইক্রোবাস জীপ কার শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ হারুন বলেন পর্যটন নগরী বান্দরবানে পর্যটকদের আমরা স্বাগতম জানায় । বান্দরবান যারা ঘুরতে আসেন তারা আমাদের মেহমান তাদের সুনিরাপত্তার জন্য আমরা মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন সর্বদা সচেষ্ট।আমাদের পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রাণলয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির বিশেষ উদ্দ্যেগে বান্দরবানে দূর্গম এলাকার অর্থাৎ রুমা ,থানচির যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ ভাল জেলা সদর থেকে দিনে গিয়ে দিনে আশা সম্ভব হচ্ছে তাই আমরা মাইক্রোবাস জীপ কার শ্রমিক ইউনিয়নেয় পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। পর্যটকদের সঙ্গে ভালো আচরণ করার জন্য সকলকে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।

মতামত...