,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

পাকিস্তানিরা বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিল

pak1পাকিস্তান! একটু তিরস্কার!  আজ দাবি উটেছে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও পাকিস্তানের সঙ্গে সবধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত  চূড়ান্তই করে ফেলছে।

ডিসেম্বর এলেই পাকিস্তান নামক ‘খোঁচাটা’ তীক্ষ্ম হয়। আর ১৪ ডিসেম্বর এলেতো কথাই নেই। প্রতিবছরই ভারাক্রান্ত মনে ফুলেল শ্রদ্ধার্পিত হয় শহীদবেদি। কিছুদিন আগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে দুজন যুদ্ধাপরাধীর তাই এবার হারানোর বেদনার সঙ্গে আনন্দও আছে। সেই কলঙ্কমুক্তির আনন্দ যেন সবার চোখেমুখে ছড়িয়ে আছে।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরের হত্যাকাণ্ড ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম বর্বর ঘটনা, যা বিশ্বব্যাপী শান্তিকামী মানুষকে স্তম্ভিত করেছিল। পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের পর ঢাকার মিরপুর, রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বুদ্ধিজীবীদের লাশ ফেলে রেখে যায়। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পরপরই নিকটাত্মীয়রা মিরপুর ও রাজারবাগ বধ্যভূমিতে স্বজনের লাশ খুঁজে পায়।

বর্বর পাক বাহিনী ও রাজাকাররা এ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পৈশাচিকভাবে নির্যাতন করেছিল। বুদ্ধিজীবীদের লাশজুড়ে ছিল আঘাতের চিহ্ন, চোখ, হাত-পা বাঁধা, কারো কারো শরীরে একাধিক গুলি, অনেককে হত্যা করা হয়েছিল ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে। লাশের ক্ষত চিহ্নের কারণে অনেকেই প্রিয়জনের মৃতদেহ শনাক্ত করতে পারেননি।

১৯৭২ সালে জাতীয়ভাবে প্রকাশিত বুদ্ধিজীবী দিবসের সঙ্কলন, পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ও আন্তর্জাতিক নিউজ ম্যাগাজিন ‘নিউজ উইক’-এর সাংবাদিক নিকোলাস টমালিনের লেখা থেকে জানা যায়, শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা মোট ১ হাজার ৭০ জন। শুধু ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ স্বাধীনতার মাত্র ২ দিন আগে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় : শিক্ষক ৯৯০ জন, সাংবাদিক ১৩ জন, চিকিৎসক ৫০ জন, আইনজীবী ৫০ জন, লেখক, প্রকোশলীসহ অন্যান্য বুদ্ধিজীবী ১৮ জন।

এবার যুদ্ধাপরাধীর বিচার যেমন শুরু হওয়ায় যেমন কিছুটা খুশির আবেশ পেয়েছেন, আরেকটু খুশির আবেশ নিতে পারেন ওপরের ছবিটা দেখে। আটকে পড়া পাকিস্তানিরা ফুল, ব্যানার নিয়ে যাচ্ছে সেই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানাতে। এ যেন ‘উদ্ধত’ পাকিস্তান নয়, পরাজিত, মস্তকাবনত পাকিস্তান।

সোমবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে দেখা যায় বাংলাদেশি বিহারী পুনর্বাসন সংসদের (বিবিআর) ব্যানারে ফুল দিতে আসে আটকে পড়া পাকিস্তানিরা। এসময় তাদের সঙ্গে ছোট স্কুল পড়ুয়া ছেলে-মেয়ে, নারীসহ বেশ কয়েকজনকে বিমর্ষ অবস্থায় ফুল নিয়ে শহীদ বেদিতে আসতে দেখা যায়।

তাদের দেখে এক শিক্ষক তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘যারা আটকে গেছে, তাদের এখন এই মনোবৃত্তি গড়ে ওঠা প্রয়োজন যে তারা এ দেশেরেই জনগণ। আর তাদের মাধ্যমে পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে এ বার্তা পৌঁছে যাওয়া দরকার যে, তারা কী করেছে!’

অবশ্য এ বছরের শুরুর দিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানিয়েছিলেন, সরকার আটকে পড়া পাকিস্তানি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর জন্য জোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি দশম জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জানিয়েছিলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় পাকিস্তানকে অনুরোধ করা হয়েছে। এটি দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয়গুলোর একটি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে কতজন আটকে পড়া পাকিস্তানি বসবাস করছেন তার সঠিক সংখ্যা মন্ত্রণালয়ে নেই। তবে সর্বশেষ ১৯৯২ সালে এক জরিপে দেখা যায় ২ লাখ ৩৭ হাজার ৪৪০ উর্দুভাষী নাগরিক এ দেশে বসবাস করছেন। এর আগে ১৯৭২ সালে আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি পরিচালিত সমীক্ষা অনুযায়ী ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৬৬৯ জন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রত্যাখ্যান করেন। ওইসময় তারা পাকিস্তানে ফেরত যাওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেন।

হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়। সেসময় প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার উর্দুভাষী নাগরিক ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।

পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের ত্রিপাক্ষিক চুক্তিতে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ মাত্র ৩ শ্রেণীভুক্ত ব্যক্তিদের পাকিস্তানে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছিল। এ চুক্তির আওতায় পাকিস্তান সরকার ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৩৭ জনকে ফেরত নেয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করে মাত্র ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৪১ জনকে ফেরত নেয়। অবশিষ্ট ৪ লাখ আটকে পড়া পাকিস্তানিকে ফেরত নেয়ার বিষয়ে কোনো উদ্যেগ নেয়নি সে দেশের সরকার।

মতামত...