,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

পিয়াজের দাম লাগামহীন দেশের বাজারে

onion3ইকোনোমি রিপোর্টার, বিডিনিউজ রিভিউজঃ হিলি স্থলবন্দর এলাকায় সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০-১৫ টাকা। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতের মোকামগুলোয় পণ্যটির লোডিং বন্ধ রয়েছে। এছাড়া দেশে দুর্গাপূজা, আশুরা ও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে হিলি স্থলবন্দর টানা আটদিন বন্ধ থাকবে। এ অবস্থায় সরবরাহের তুলনায় পেঁয়াজের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারদর বাড়তির দিকে রয়েছে।খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পিয়াজ ৩০-৩২ টাকায় বিক্রী হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার আগে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ভারত থেকে ৮০ থেকে ৯০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হয়। তবে পণ্যটি আমদানিতে ধারাবাহিক লোকসানের কারণে বর্তমানে এর পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ থেকে ৫০ ট্রাকে।

বন্দর পরিচালনাকারী পানামা হিলি পোর্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথমদিনে ভারত থেকে ৫৭টি ট্রাকে ১ হাজার ১৪১ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। এছাড়া গত সোমবার ৭০টি ট্রাকে ১ হাজার ৩৫৪, মঙ্গলবার ৮০টি ট্রাকে ১ হাজার ৫৮৪, বুধবার ৯৫টি ট্রাকে ১ হাজার ৮৯২ এবং বৃহস্পতিবার ৮১টি ট্রাকে ১ হাজার ৫৭৯ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এভাবে চলতি মাসের পাঁচ দিনে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ৩৮৩টি ট্রাকে ৭ হাজার ৫৫০ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ৯৪টি ট্রাকে ২১ হাজার ৮৮০ টন, আগস্টে ১ হাজার ৭৫৭টি ট্রাকে ৩৫ হাজার ৪৯৬ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল।

হিলি স্থলবন্দরের বিভিন্ন আমদানিকারকের গুদাম ঘুরে জানা গেছে, এ বন্দরটি দিয়ে ভারত থেকে নাসিক, ভেলোর, পাটনা জাতের ছোট, মাঝারি ও বড় দানার পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। বন্দরে এসব জাতের পেঁয়াজ প্রকারভেদে প্রতি কেজি পাইকারিতে (ট্রাকসেল) ২০ থেকে ২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এর দাম ছিল ১০ থেকে ১২ টাকা।

বাংলাহিলি বাজারের খুচরা দোকানগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ভারত থেকে আমদানি হওয়া কিছুটা নিম্নমানের পেঁয়াজ খুচরায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৪ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও যা ১২ থেকে ১৪ টাকায় লেনদেন হয়েছিল।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি মো. হারুন উর রশীদ জানান, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে পেঁয়াজের চাহিদার কথা চিন্তা করে পণ্যটির আমদানির পরিমাণ বাড়িয়েছিলেন বন্দরের ছোটবড় সব ধরনের আমদানিকারক। ফলে দেশের বাজারে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে যায়। ওই সময় ক্রেতা সংকটে পণ্যটির দাম কমিয়ে দেয়া হয়। এতে অনেক আমদানিকারক লোকসানে পড়েন। সে কারণে ঈদের পর থেকে অনেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছেন।

অন্যদিকে শুক্রবার থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হওয়ায় ভারতের পেঁয়াজের মোকামগুলোয় এর লোডিং বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও টানা আট দিন দেশের সবগুলো বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ থাকবে। এ সময়ে ভারত থেকে কোনো পেঁয়াজ আমদানি হবে না। এতে বাজারে পেঁয়াজের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ খানিকটা কমায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে ছুটি শেষে বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য শুরু হলে বাজারে আবারো পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে যাবে। ফলে পণ্যটির বাজার আবারো স্থিতিশীলতায় ফিরবে বলে মনে করছেন তিনি।

মতামত...