,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠক

cনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

আজ শুক্রবার দুপুর সোয়া ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এর আগে শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছলে শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানান।

শুক্রবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঢাকায় পৌঁছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ মন্ত্রীসভার বেশ কয়েকজন সদস্য।

অবতরণের পর রাষ্ট্রীয় এই অতিথিকে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যিমে স্বাগত জানানো হয়। এরপর দুটি শিশু ফুল দিয়ে প্রেসিডেন্টকে বরণ করে নেওয়ার পর লাল গালিচায় হেঁটে তিনি সংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছান।

পরে চীনের প্রেসিডেন্টকে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এ সময় বাজানো হয় দুই দেশের জাতীয় সংগীত। এরপর প্রেসিডেন্ট হোটেল লা মেরিডিয়েনে চলে যান।

সংক্ষিপ্ত এই সফরে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্টের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে দুই নেতার উপস্থিতিতে চুক্তি স্বাক্ষর হবে। এখান থেকে তিনি আবার হোটেলে যাবেন। সেখানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরে সন্ধ্যা ৬টায় তিনি বঙ্গভবনে যাবেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অংশ নেবেন তার সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে।

শি জিনপিংয়ের এটাই প্রথম ঢাকা সফর নয়। ২০১০ সালেও তিনি ঢাকা সফরে এসেছিলেন। তখন তিনি ছিলেন চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট। ২০০৮ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই ছিল তার দ্বিতীয়বার বিদেশ সফর। ২০০৯ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি প্রথম বিদেশ সফর করেন দক্ষিণ আমেরিকায়। ২০১০ সালে দ্বিতীয়বার বাংলাদেশ সফরে আসেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, চীনের প্রেসিডেন্টের সফরের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সফল ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পররাষ্ট্রনীতির পরিচয় স্পষ্ট হয়েছে। ভূরাজনৈতিক-কূটনীতির বিচারে এ মুহূর্তে বাংলাদেশের, একই সঙ্গে ভারত, চীন, জাপান ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে পৃথকভাবে সুসম্পর্ক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রক্ষার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য কূটনৈতিক দক্ষতারই প্রমাণ। বর্তমান মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সময় এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ঢাকা সফর করেছেন। এর পরই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরকে বড় মাপের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

চীনের সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যদিও এর প্রায় ৭৫ শতাংশের অংশীদার চীন। তার পরও চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে চীনে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ ২৫ শতাংশ বেড়েছে। উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যে আরও ভারসাম্য আনা নিয়েও আলোচনা হবে বৈঠকে। এ মুহূর্তে চীন বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার।

অবকাঠামো উন্নয়নে চীন বর্তমানে বিশ্বের ১৩০টি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ভারত ও যুক্তরাজ্যও রয়েছে। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নেও চীনের ভূমিকাই প্রধান। দেশে এ পর্যন্ত প্রায় ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রায় ২৩ ঘণ্টার সফর শেষে শনিবার সকাল ১০টায় ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে চীনের প্রেসিডেন্টের। ঢাকা থেকে তিনি যাবেন ভারতের গোয়ায়। সেখানে তিনি ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ সম্মেলনে যোগ দেবেন।

চীনের প্রেসিডেন্টের সফর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাকে দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো হয়েছে। হোটেল লা মেরিডিয়েনে তার অবস্থানস্থলসহ চলাচলের পথে ব্যাপক নিরাপত্তাবলয় সৃষ্টি করা হয়েছে।

মতামত...