,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চায় ওলামা লীগঃ নববর্ষ বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃঢাকা,  ওলামা লীগের সমালোচনা করায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিলের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে লিখিত অভিযোগ দেবে ওলামা লীগ।a

পহেলা বৈশাখকে ‘বিধর্মীদের সংস্কৃতি’ উল্লেখ করে এই দিবসে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছিল সংগঠনটি।

তাদের এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন,‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে ওলামা লীগ নামের এই সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা বাটপারদের সংগঠন।’

হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘কিছু কিছু নেতা ওলামা লীগের নাম ভাঙায়। আসলে তারা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী কিংবা আওয়ামী ঘরানা কোনো সংগঠন নয়।’

aআর মাহবুবুল হক শাকিল তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন,‘ওলামা লীগ! এটা কি খায় না মাথায় দেয়? পহেলা বৈশাখের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তারা আওয়ামী লীগের কেউ না, দায়িত্ব নিয়ে বলছি।’

শনিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সর্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখকে বিধর্মীদের সংস্কৃতি বলে উল্লেখ করে আওয়ামী ওলামা লীগের একাংশ।

জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ওলামা লীগ দুই অংশে বিভক্ত হলেও অস্তিত্বের প্রশ্নে এখন অভিন্ন সুরেই কথা বলছেন তারা। ওলামা লীগ একাংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী। তিনি একাংশের সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতি মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী। মূলত তার নেতৃত্বাধীন অংশের পহেলা বৈশাখ নিয়ে বিরূপ মন্তব্যে সমালোচনার মুখে পড়ে ওলামা লীগ।

অপর অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইলিয়াস হোসাইন বিন হেলালী। তিনি এই অংশের সভাপতি পদে আছেন এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ওলামা লীগের সম্পর্ক নেই এমন বক্তব্যে দুই অংশের নেতারা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

ওলামা লীগ একাংশের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী বলেন, ওলামা লীগ নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন তারা দেশের ওলামাদের অপমান করছেন। আমরা জয় বাংলা শ্লোগান দেই, আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে থেকেছি। নেত্রী জানেন আমাদের সম্পর্কে। আমরা আগামী রবিবার নেত্রীর সঙ্গে দেখা করার আবেদন জানাবো।  তার সঙ্গে কথা বলবো। তিনি আমাদের চেনেন, জানেন।  সবার সঙ্গে আলাপ হয়েছে, সবাই এক সঙ্গে নেত্রীর কাছে যাবো। আমাদের বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেব।

তিনি আরো বলেন, আমরা ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে বলেছি পহেলা বৈশাখে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানো, উলুধ্বনি দেওয়া, শাখা বাজানো, মঙ্গল কলস সাজানো, ঢাক-ঢোলের ব্যবহার, মুখোশ পরে শোভাযাত্রা, মুসলিম মহিলাদের সিঁথিতে সিদুর দেওয়া বিধর্মীদের কাজ। এগুলো করলে আওয়ামী লীগের ভোট কমবে, এজন্য বলেছি।

 অপর অংশের সভাপতি ইলিয়াস হোসাইন বিন হেলালী বলেন, ওলামা লীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক নেই এমন মন্তব্য শুনে সারা দেশের আলেম-ওলামারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। ওলামা লীগ নিয়ে যারা মন্তব্য করেছেন তারা কি জানেন না আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেত্রী আমাদের অফিস দিয়েছেন।

তবে পহেলা বৈশাখের বিরুদ্ধে ওলামা লীগের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।

পহেলা বৈশাখে গণভবনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে তো বহু পার্বণ আছে। আমরা ঈদ করি, সাথে সাথে আমাদের পহেলা বৈশাখ- এটাও আমরা উদযাপন করি। এখানে ধর্মীয় কোনো বাধা দেওয়ার কিছু নেই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা নিষেধ করে, তারা কেন করে তা করে আমি জানি না। তারা কোন ধর্ম পালন করে সেটা নিয়েও সন্দেহ।’

 

মতামত...