,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

নারী উদ্যোক্তারা স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল চায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম, ১২ ডিসেম্বর (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম)::   চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিডব্লিউসিসিআই) আয়োজনে সম্প্রতি নবমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো মাসব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক উইমেন এসএমই এক্সপো’। ব্যবসায় নারী উদ্যোক্তার অংশগ্রহণ ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কথা বলেছেন সিডব্লিউসিসিআইয়ের সভাপতি কামরুন নাহার মালেক। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন বণিক বার্তার চট্টগ্রাম ব্যুরোর প্রতিবেদক ওমর ফারুক

দেশের অন্যতম বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রাম। এখানে ব্যবসা-বাণিজ্যে নারীদের অংশগ্রহণ কেমন?

একসময় চট্টগ্রামের সমাজ ব্যবস্থা ছিল খুবই রক্ষণশীল। আশি-নব্বইয়ের দশকেও চট্টগ্রামে নারী উদ্যোক্তা ছিল হাতেগোনা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হচ্ছে। ব্যবসায় নারীদের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। চট্টগ্রামে বর্তমানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা মিলে দুই-আড়াই হাজার নারী ব্যবসা-ব্যাণিজ্যে সম্পৃক্ত। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার নারী সিডব্লিউসিসিআইয়ের সদস্য।

ব্যবসায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির

মূলমন্ত্র কী?

নারীদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক ব্যক্তি ও সংগঠনের ভূমিকা রয়েছে। তবে ব্যবসায় নারীদের সম্পৃক্তকরণে চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বারের ভূমিকাই প্রধান। এ সংগঠনের প্রত্যেক সদস্য তার নিজের ব্যবসায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যে নারীদের অংশগ্রহণে প্রেরণা জুগিয়ে থাকে।

কোন ধরনের ব্যবসায় নারীদের প্রতিনিধিত্ব বেশি?

ভারী শিল্প ছাড়া নারীরা প্রায় সব ধরনের ব্যবসায় সম্পৃক্ত হয়েছেন। তবে বুটিকস, হস্তশিল্প, কনফেকশনারি, পার্লার ও পোলট্রির মতো ক্ষেত্রগুলোয় নারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক বেশি।

নারী উদ্যোক্তাদের অধিকাংশই ক্ষুদ্র শিল্পে জড়িত। মাঝারি বা বড় শিল্পে সম্পৃক্ত হতে অন্তরায়গুলো কী কী?

বড় শিল্পোদ্যোক্তা হতে নারীদের প্রধান অন্তরায় পুঁজি। ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য সহজ শর্তে এসএমই ঋণের ব্যবস্থা থাকলেও বড় ঋণ পাওয়া নারীদের পক্ষে খুবই কঠিন। এছাড়া পারিবারিক বাধা ও সামাজিক পরিবেশও কম দায়ী নয়। কারণ অনেক পরিবার মেয়েদের বুটিকস, পার্লার অর্থাত্ ঘরোয়া পরিবেশের বাইরে গিয়ে ব্যবসায় জড়িত হওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে দেখে না।

নারী উদ্যোক্তাদের অধিকাংশই পারিবারিক ব্যবসায় সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। নারীদের একক উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে না ওঠার কারণ কী?

মাঝারি বা বড় নারী উদ্যোক্তাদের অনেকেই তাদের পারিবারিক সূত্রে ব্যবসায় জড়িয়েছেন। তাই পারিবারের সদস্যদের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মধ্যে একক উদ্যেক্তার সংখ্যা বেশি। তবে বড় বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত ঋণ সুবিধা না পাওয়ায় তারা বড় উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারছেন না।

চিটাগং উইমেন চেম্বার আয়োজিত মেলা নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কতটুকু ভূমিকা রাখছে?

দেশে একমাত্র চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বারই ধারাবাহিকভাবে মাসব্যাপী মেলার আয়োজন করে আসছে। এটি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অনেক বড় অর্জন। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় আমরা নারীরাও কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। এ মেলা তারই প্রমাণ। নারী উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করতে এবার ৪০ জনকে বিনামূল্যে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গত বছর ৬০-৭০ জন নারী উদ্যোক্তা মেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এবার তা শতাধিক। এটা নারীদের ব্যবসায় এগিয়ে যাওয়ার আরো একটি ধাপ।

কোন বিষয়গুলো নারীদের উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী করে তুলছে?

সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণ পাওয়া নারী উদ্যোক্তাদের প্রতি সরকারের ইতিবাচক দিক। এছাড়া বর্তমান পরিবেশ হচ্ছে ব্যবসাবান্ধব, নারীবান্ধব।

সরকারের কাছ থেকে কী কী নীতিগত সহযোগিতা আশা করেন?

ব্যবসায় নারীদের উপস্থিতি দেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এ অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে নারী উদ্যোক্তাদের মাঝারি ও বড় শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দিতে হবে। ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা দূর করতে হবে। শিল্পে বিদ্যুত্-গ্যাসসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিতের পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা অর্থনৈতিক শিল্প জোন গড়ে তুলতে হবে।

মতামত...