,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন ডিসেম্বরে

নাছির মীর, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন ডিসেম্বরে।

চট্টগ্রাম বিভাগের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সাথে চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনাকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম রবিবার এ তথ্য জানান।

সভায় মন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের দ্বিতীয় রাজধানীতে বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতাল নেই। বিষয়টি নিয়ে আপনারা কখনো আলোচনা করেননি কেন ?

চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খান–এর কাছে মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হবে সরকারি–বেসরকারি ৩৫টি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ এবং নার্সিং কলেজ। সেসব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে ইতিমধ্যে বৈঠক হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ফৌজদারহাটের একটি জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রফিক্যাল এ– ইনফেকশাস ডিজিজি (বিআইটিআইডি) এ ২৯ একর জায়গা ছিল। পোর্ট কানেকটিং রোডের কারণে পাঁচ একর জায়গা চলে গেছে। এখন ২৪ একর জায়গা আছে। সেখানে এখন বিআইটিআইডি ভবন, একটি নার্সিং কলেজ এবং একটি আইএইচটি এবং একটি অনেক পুরানো টিবি হাসপাতাল আছে। জায়গাটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে হস্তান্তর করতে হবে। এসময় মন্ত্রী বলেন, আগামী ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজশাহী এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. এ এম মজিবুল হকের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ইসমাইল খান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) হাবিবুর রহমান খান, সিবিএইচসি’র লাইন ডিরেক্টর ডা. আবুল হাশেম খান, বিএমএ সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান, চমেক হাসপাতালের পরিচালক বি. জেনারেল মুহাম্মদ জালাল উদ্দীন, পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. নুরুল আলম, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সেলিম মো. জাহাঙ্গীর প্রমুখ। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলার সিভিল সার্জনরা বক্তব্য রাখেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহছানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক বি. জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন বলেন, এই হাসপাতালের ম্যানেজমেন্টে কমিটির সদস্য জিয়া উদ্দীন বাবলু এমপির অনুরোধও রক্ষা করতে পারিনি। তার একজন আত্মীয়কে আইসিইউ বেড দিতে দিতে ওই রোগীর মৃত্যু ঘটেছে। বর্তমানে আমাদের ১২টা বেড আছে। আমাদের দরকার ১০০টা। এখন যতটা যোগ করা যায় ততটাই ভাল। এসময় মন্ত্রী ঢাকায় ফোন করে আইসিইউ’তে আরো আটটি বেড সংযোজনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। হাসপাতাল পরিচালক বলেন, এখানে রোগীদের বিছানায় স্থান দিতে পারছি না। বারান্দায় দিচ্ছি। সিঁড়িতে দিচ্ছি। স্থানের সমস্যা দূর করার জন্য তিনি এক হাজার বেড একটি ১৪ তলা ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দেন। ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা পাওয়া যাবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে ৫০০ বেডের হাসপাতালে ১৩১৩ জন রোগীর প্রশাসনিক অনুমোদন আছে। কিন্তু রোগী ভর্তি থাকে তিন হাজারের ওপরে। এখানে যদি একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল, একটা কার্ডিয়াক হাসপাতাল এবং একটি ট্রমা হাসপাতাল করা গেলে ওইসব রোগীরা এখানে আসবে না। রোগীর চাপ কমে যাবে। হাসপাতাল পরিচালকের এই তথ্য শুনে মন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আপনারা তো কখনো এবিষয়ে আলোচনা করেননি। তখন হাসপাতাল পরিচালক বলেন, এবিষয়ে লিখিত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তখন মন্ত্রী আশ্বাস দেন বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন।

হাসপাতাল পরিচালক বলেন, তার হাসপাতালের সবচেয়ে দুর্বলতম দিক হলো প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এখানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পাওয়া যায় না। ডিডি এবং এডি’রা আসেন এবং যান। হাসপাতাল প্রশাসনকে শক্তিশালী করতে হবে।

উত্তরে মন্ত্রী বলেন, আপনি (হাসপাতাল পরিচালক) ভালো কথা বলেছেন। এসব হাসপাতাল করার জন্য আমাদের আগামী মেয়াদে আবার ক্ষমতায় আসতে হবে। মন্ত্রী চট্টগ্রামে সরকারি শিশু হাসপাতাল নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা দ্রুত জায়গা ঠিক করেন। নয় তো ওই বরাদ্দ ফেরত যাবে। দু’তিন দিনের মধ্যে আন্দরিকল্লা জেনারেল হাসপাতালের জন্য একটি এনালাইজার বরাদ্দ দেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এ ছাড়া উখিয়ায় সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে তাৎক্ষণিক টেলিফোনে কথা বলে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের জন্য একটি বাসের বন্দোবস্ত করে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাথরুমগুলি ব্যবহার অনুপযোগী। বাথরুমগুলি লিজ দিয়ে শুধুমাত্র রোগীদের ফ্রিতে ব্যবহারের সুযোগ দিলে বাথরুম ব্যবহার উপযোগী থাকবে। তিনি ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, এতবড় হাসপাতালে মাত্র ১২টি আইসিইউ বেড রয়েছে। অথচ অনেক ছোট প্রাইভেট হাসপাতালেও ৩০টি বেড আছে।

 

মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে চেয়ারম্যান বাবুল বলেন, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের লোকজন রাউজানে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ফাঁকি দেয়। তাদেরকে এলাকায় দেখা যায় না। মন্ত্রীকে রাউজান সফর করার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে আহবান জানান।

বিএমএ চট্টগ্রামের সভাপতি মুজিবুল হক খান বলেন, আগ্রাবাদে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব জায়গা আছে। সেখানে সরকারি শিশু হাসপাতাল নির্মাণের সুযোগ রয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের পাশেও জায়গা আছে। দ্রুত জায়গা নির্বাচন করে হাসপাতালটি যাতে নির্মিত হয় সে ব্যাপারে বিএমএ সার্বিক সহায়তা দেবে।

মতামত...