,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরিশাল সফর: দক্ষিণাঞ্চলে উৎসবের আমেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ,বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরিশাল সফর ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। নির্বাচনী বছরে দলীয় সভাপতির সফর নিয়ে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যেও বিরাজ করছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য শেখ হাসিনার জনসভায় স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি লোকসমাগম নিশ্চিত করতে গত দুই সপ্তাহ ধরে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে একের পর এক প্রস্তুতি ও মতবিনিময় সভা। বরিশাল বিভাগের বাকি পাঁচ জেলা- পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, ভোলা ও পিরোজপুরেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে। এছাড়া আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী সম্ভাব্য প্রার্থীরাও দলীয় প্রধানের জনসভায় সর্বোচ্চ শো-ডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর সফল করার লক্ষ্যে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির তত্ত্বাবধানে গেল কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছে বিপুল আয়োজন। দলীয় সভাপতির সফর উপলক্ষে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে দশটি উপ-কমিটি।

জানাগেছে, প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে বঙ্গবন্ধু উদ্যান, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়াম এবং নগরীর সকল রাস্তাঘাট সাজানো হচ্ছে ঝলমলে রূপে। মঞ্চ ও মাঠে নির্মাণ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সাজ-সজ্জায় সরকারের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরার প্রয়াস থাকছে। এছাড়া নগরীর গুরত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বসানো হচ্ছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক- নৌকা। জনসভা মঞ্চের পাশে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রতীকী পদ্মাসেতু। এর পাশে স্থাপন করা ডিজিটাল বিলবোর্ডেও প্রদর্শিত হবে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। ছয় বছর পর বরিশালে অনুষ্ঠিতব্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই জনসভা স্মরণীয় করে রাখতে থাকছে আরও বর্ণিল ও অভিনব নানা আয়োজন।

সামগ্রিক প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করতে এরই মধ্যে বরিশালে পৌঁছেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট স ম রেজাউল করিম, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন প্রমুখ। প্রস্তুতি নিয়ে দায়িত্বরতদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করেছেন তারা।

জনসভা প্রসঙ্গে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি সমকালকে বলেন, বরিশালসহ গোটা দক্ষণিঞ্চলকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের এলাকার মতো ভালবাসেন। তিনি এই অঞ্চলের মানুষকে যা দিয়েছেন, অন্য কোনও সরকার দেয়নি। আগামী নির্বাচনে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ তাকে ভোট দিয়ে আবারও দেশ পরিচালনার সুযোগ দেবে- এ অবস্থান জানান দিতেই তার জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা হবে বলেও প্রত্যাশ্যা ব্যাক্ত করেন তিনি।

শনিবার বঙ্গবন্ধু উদ্যানে দক্ষিণাঞ্চলের স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভা অনুষ্ঠিত হবে বলে দাবি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিমের। তিনি বলেন, এই জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অগ্রগতি এবং আগামী নির্বাচন নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের গুরত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা দেবেন।

আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করীম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ও জনসভা ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের শহর বন্দর-গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। এই জনসভায় মানুষের ঢল নামবে।

একই প্রত্যাশা তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেনের। তিনি বলেন, পায়রা বন্দর, সেনানিবাস, লেবুখালী সেতু, সাবমেরিন ক্যাবল স্টেশন ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো উন্নয়ন পেয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ। বৃহস্পতিবারের জনসভায় সেই কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে তারা।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকার মো. ইউনুস এমপি সমকালকে জানান, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা ও ৪২ উপজেলা থেকে সড়ক ও নৌপথে কর্মী-সমর্থকদের জনসভায় আনার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের বরিশাল আগমনের ব্যবস্থাও চূড়ান্ত হয়েছে।

বরিশাল নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, নগরের ৩০ ওয়ার্ডে বিরামহীন প্রস্তুতি সভা, প্রচারণা ও গণসংযোগ চলছে। সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা প্রানান্ত চেষ্টা চালাচ্ছেন জনসভায় সর্বোচ্চ লোকসমাগম নিশ্চিত করতে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারাও গত এক সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এসএম রূহুল আমিন জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো নগরী পাঁচটি স্পটে ভাগ করা হয়েছে। পুলিশের ১১০০ সদস্য নিরাপত্তাকাজে নিয়োজিত থাকবেন। ৬ ফেব্রুয়ারি থেকেই বিশেষ বিশেষ স্থানে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিন ৫টি মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।

বরিশাল সিটি করপোরেশন জনসভাস্থলের ৬টি পয়েন্টে ২ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন পানির ট্যাংক স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।

বরিশালবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারের বরিশাল সফরে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। বরিশালে পৌঁছে প্রথমেই তিনি বাকেরগঞ্জে নির্মিত শেখ হাসিনা সেনানিবাস উদ্বোধন করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ও বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্টত্মফা কামাল একাডেমিক ভবন, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এবং বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও শেরেবাংলা হল, বিভাগীয় ও জেলা শিল্পকলা একাডেমী, জেলা এবং আগৈলঝাড়া, গৌরনদী, উজিরপুর, বাকেরগঞ্জ, মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, বানারীপাড়ার নান্দুহার নদীর ওপর নির্মিত আরসিসি সেতু, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও শহীদ আরজু মনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন, বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়াম ইত্যাদি।

এছাড়া শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং সেন্টার প্রকল্প, বরিশাল আইটি পার্ক, শহীদ সুকান্ত বাবু শিশু পার্ক, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, মেহেন্দিগঞ্জ মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবন, কীর্তণখোলা ভাঙ্গন রক্ষাসহ ৩১টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মতামত...