,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগ সহকর্মীদের

নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। এসব অভিযোগের কোন গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যাও তিনি দিতে পারেননি বলে দাবি করেছেন তার সহকর্মীরা। দীর্ঘ ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়। আজ শনিবার বিকালে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলামের স্বাক্ষরে বিবৃতি দেয়ার আগে দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের নিয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পর ছুটি নিয়ে বিচারপতি সিনহা বিদেশে যাওয়ার আগে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাকে বিভ্রান্তিমূলক আখ্যায়িত করে সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতিটি দেওয়া হয়। এর আগে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিলের রায় নিয়ে সমালোচনার মধ্যে জাতীয় সংসদে ২ জন মন্ত্রী বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। এবার তার সহকর্মীদের মধ্য থেকেও একই অভিযোগ উত্থাপন করা হল।
সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ৩০ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতিদের ডেকে নিয়ে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। দীর্ঘ আলোচনার এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি মাননীয় প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্বলিত দালিলিক তথ্যাদি হস্তান্তর করেন। তন্মধ্যে বিদেশে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, নৈতিক স্খলনসহ আরও সুনির্দিষ্ট গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ওই বৈঠকে বিচারপতি ঈমান আলী ছাড়া আপিল বিভাগের অন্য ৪ বিচারক বিচারপতি ওয়াহহাব মিয়া, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার ছিলেন। বিচারপতি ঈমান আলী সেদিন ঢাকায় ছিলেন না। বঙ্গভবনের বৈঠক থেকে ফিরে পরদিন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা নিজেরা বৈঠক করে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলারও সিদ্ধান্ত নেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সহকর্মীরা সিদ্ধান্ত নেন যে গুরুতর অভিযোগগুলো প্রধান বিচারপতিকে জানানো হবে। তিনি যদি সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে তার সঙ্গে বিচারালয়ে বসে বিচারকাজ পরিচালনা সম্ভবপর হবে না। ওই দিনই ৫ বিচারপতি প্রধান বিচারপতির হেয়ার রোডের বাড়িতে যান। তার সঙ্গে অভিযোগগুলো নিয়ে বিষদ আলোচনা করেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, কিন্তু তার কাছ থেকে কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ও সুদত্তর না পেয়ে আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতি তাকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, এই অবস্থায় অভিযোগসমূহের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তার সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে তাদের পক্ষে বিচারকাজ পরিচালনা সম্ভবপর হবে না। এই পর্যায়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সুস্পষ্টভাবে বলেন যে- সেক্ষেত্রে তিনি পদত্যাগ করবেন। তবে ২/১০/২০১৭ তারিখে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানান। কিন্তু এরপর বিচারপতি সিনহা সহকর্মীদের কিছু না জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে এক মাসের ছুটিতে যাওয়ার কথা জানান বলেও বিবৃতিতে বলা হয়। আর ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারক বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতির কার্যভার প্রদান করেন।

মতামত...