,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

প্রবল র্বষণ ও অমাবস্যার জোয়ারে কক্সবাজারের নিন্মঞ্চল প্লাবিত

aআবদুর রাজ্জাক, কক্সবাজার প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ একটানা প্রবল বর্ষণ ও অমাবস্যার জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলা,ঈদগাও উপজেলা,কুতুবদিয়া উপজেলা,রামু উপজেলা,লামা উপজেলাসহ নিন্মঞ্চলীয় এলাকার ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে প্রায় ৫০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় বিশ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানিতে বিধবস্থ হয়ে গেছে শত শত ঘরবাড়ি,তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর ফসলী জমি,লবণের মাঠ ও চিংড়ি ঘের। এসব এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে সরকারি ত্রাণ পৌছানোর দাবী জানিয়েছেন ক্ষতিগস্থরা। জোয়ারের পানিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
ক্ষতিগস্থ এলাকার বাসিন্দারা জানান, অমাবষ্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে নোনা জলে প্লাবিত জমিতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ভাঙন বেড়িবাঁধ মেরামত না করলে হাজার হাজার একর ফসলি অনাবাদি হয়ে পড়েবে । এ ব্যাপারে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জানায়, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে বেড়িবাধঁ বিলীন হওয়ায় গত ২দিন ধরে অমাবষ্যার জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পেয়ে সাগরের লোনা পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়। এভাবে প্রতিনিয়ত জোয়ার-ভাঁটা চলতে থাকলে এসব এলাকায় লোকজন বসবাস করা সম্ভব হবেনা। এর সাথে সাথে এসব এলাকার হাজার হাজার একর ফসলী জমি অনাবাদি হয়ে পড়বে। আগামী পূর্ণিমার জোয়ার আসার আগে বিলীন হওয়া বেড়িবাধঁ জরুরী ভিত্তিতে নির্মাণ করে যাতে বর্ষা মৌসুম ঠেকানো যায় তার ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ ও সরকারের উর্দ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি দৃষ্ঠি আকর্ষন করেন।
অপরদিকেএকটানা চার দিনের মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের লামা পৌর এলাকাসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মাতামুহুরী নদী, লামাখাল, ইয়াংছা খাল, বগাইছড়িখাল ও পোপা খালসহ পাহাড়ি ঝিরিগুলোতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে বিভিন্ন পেশাজীবির প্রায় ১০ হাজার মানুষ। কর্মহীন হয়ে বেকায়দায় পড়েছে শ্রমজীবি মানুষগুলো। বর্ষণের পানির স্রোতে সড়ক ভেঙ্গে ও সড়কের উপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে আভ্যন্তরীন সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস দেখা দিয়েছে। এ টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে ভয়াবহ বন্যাসহ পাহাড় ধসে মানবিক বির্পর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। আজ বিকাল নাগাদ মাতামহুরী নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এ কারনে নদীর দু’পাড়ে বসবাসরত বিশেষ করে শীলেরতুয়া মার্মা পাড়া, পশ্চিমপাড়া, লামা বাজারপাড়া, লাইনঝিরি ফকিরপাড়া, মাষ্টারপাড়া, অংহ্লাপাড়া, বৈল্লারচর, মেরাখোলা, মিশনপাড়ার হাজার হাজার মানুষ নদী ভাঙ্গন আতংকে রয়েছে। গত দ্’ুবর্ষায় এ নদী ভাঙ্গনে গৃহহারা হয়েছে শতাধিক পরিবার। ইতিমধ্যে ভারী বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের পাহাড় ধসে প্রান হানির আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন, লামা পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর পক্ষ থেকে মাইকিং করে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদেরকে নিরাপদে আশ্রয় নেয়ার জন্য দফায় দফায় বলা হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গত শনিবার থেকে মুষুলধারে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। আর এ টানা বর্ষণের ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে উপজেলায় অবস্থিত নদী, খাল ও ঝিরির পানি ফুঁসে উঠে বুধবার বিকাল নাগাদ লামা পৌর এলাকার নয়াপাড়া, বাসস্টেন্ড, টিএন্ডটি পাড়া, বাজারপাড়া, লামা বাজার, চেয়ারম্যান পাড়ার একাংশ, ছোট নুনারবিলপাড়া, বড় নুনারবিলপাড়া, উপজেলা পরিষদের আবাসিক কোয়ার্টার সমূহ, থানা এলাকা, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা বাজার, হারগাজা, বগাইছড়ি, বনপুর ও লামা সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা, বৈল্লারচর, অংহ্লাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা প্ল¬াবিত হয়েছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারী বেসরকারী সংস্থার কার্যালয়সহ সহস্রধিক ঘরবাড়ী রয়েছে। আবার অতি বৃষ্টির কারনে ধ্বস দেখা দেয় বিভিন্ন ইউনিয়নে অবস্থিত পাহাড়গুলোতে। পাহাড় ধসে পড়ে বেশ কয়েকটি অভ্যন্তরীন সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার জানান, পাহাড়ি ঢলের পানিতে ইয়াংছা বাজার, হারগাজা, বগাইছড়ি এলাকা প্লাবিত হয়। প্রবল বর্ষনে পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে ও বর্ষণের পানির স্রোতের টানে ইয়াংছা-বনপুর, বগাইছড়ি ও সাফেরঘাটা সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে লামা-ফাঁসিয়াখালী সড়কের বিভিন্ন স্থানে। আজিজনগরের স্থানীয় সাংবাদিক মো. সেলিম উদ্দিন জানায়, প্রবল বর্ষনে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে গ্রামীণ রাস্তাঘাটের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এছাড়া নদী, খাল ও ঝিরির পানি বৃদ্ধি পেয়ে লামা পৌরসভা, লামা সদর, গজালিয়া ও রুপসীপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে দুর্ভোগে রয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
লামা বাজার পাড়ার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. সেলিম, জাকির হোসেন, পিপলু বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ৪-৫ বার পাহাড়ি ঢলের পানিতে ঘরবাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়। ঢলের পানি ওঠার সময় ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল নিয়ে বেকায়দায় পড়তে হয়। এমনকি বড় ধরনের আর্থিক ভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তাই লামাকে বন্যা মুক্ত করতে নদী গতি পরিবর্তন করা অতিব জরুরী। তা না হলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করা রয়েছে।
অপরদিকে গত চার দিনের বর্ষণ ওঅমাবষ্যার জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পেয়ে মাতারবাড়ি,ধলঘাটার নিন্মঞ্চলীয় এলাকার ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে সাগরের লোনা পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে প্রায় শতাধিক কাচাঁ ঘরবাড়ি বিধবস্থ হয়ে গেছে,তলিয়ে গেছে শত শত একর ফসলী জমি,লবণের মাঠ ও চিংড়ি ঘের। প্লাবিত হয়ে প্রায় বিশ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে শত শত মানুষ। জোয়ারের পানিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এসব এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে সরকারি ত্রাণ পৌছানোর দাবী জানিয়েছেন ক্ষতিগস্থরা। খোলা বেড়িবাঁধ দিয়ে প্রতিনিয়ত জোয়ার ভাটার পানি ঢুকায় অনেক পরিবারে ঠিকমতো ইফতারী অথবা সেহরী করার সেই সুযোগটুকু হচ্ছে না বলে জানান স্থানীয় জনগন। এখনো পর্যন্ত স্থায়ী কোন বাড়ী নির্মাণ করতে না পারায় ঝড় বৃষ্টিতে নানা ভোগান্তিরমাধ্যমে দিনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে তারা।
জোয়ার ভাটার তান্ডবে একে একে বিলীন হয়ে গেলেও কার্যকর এবং স্থায়ী বেড়িবাঁধ না হওয়ায় দিন দিন ছোট হয়ে বিলীন হচ্ছে মাতারবাড়ি উপকূলীয় এলাকা। মহেশখালীর মানচিত্র থেকে একদিন মুছে যাবে মাতারবাড়ি এ শংকায় রাতে ঘুম হয়না অসহায় মানুষের। যেভাবে জোয়ার ভাটার তান্ডবে একের পর এক বিলীন হতে বসেছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান মাষ্টার মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, প্রতিটি দুর্যোগেই সীমাহীন দুর্ভোগে পোহাতে হয় এলাকাবাসীকে।
স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য বারবার বরাদ্দ আসলেও কার্যত তা যথাযথ কাজ না হওয়ায় জোয়ার ভাটার পানিতে ভাসতে হয় মাতারবাড়িবাসীকে। বর্তমানেও রোয়ানুর তান্ডবের পর কোটি টাকা দিয়ে যে রিং বাঁধ করার কথা তার এখনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছেনা বলে জানান তিনি। প্রায় ১২শ পরিবার এই বাঁধের বাইরে থাকবে। যেখানে এই এলাকার লোকজন নিয়মিত সেহরী ও ইফতার করতে পারে না সেখানে ঈদের আনন্দের ছেয়ে বেঁচে থাকা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ।
এলাকাবাসী উপকূলে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।তাদের মতে যতদিন পর্যন্ত এ এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ হবে না ততদিন পর্যন্ত এই এলাকায় দুর্দশা কমবে না বলে মনে করেন অনেকে।

মতামত...