,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

প্রস্থান

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু , সিঙ্গাপুর

jahangir singapor

চলে গেলে সে দিন ,ফিরেও তাকালে না !

বলতে পারতে ভূল ছিলো তোমার ,

বললে না ,শেষে ভেঙ্গে যায় ,তোমার অহংকার।

 

চলে গেলে সে দিন, ফিরেও তাকালে না,

আমি ধরেছিলাম,তোমার হাত ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলে !

হাঁটু গেড়ে বসেছি তোমার সামনে ,তাকিয়ে ছিলে ওই আকাশের দিকে ,

কাঁপছিলো তোমার থুতনি,চিবুক, অশ্রু জলে ভেসে গিয়েছিলো বুক ,

ভালবাসার পাহাড় ,গলে গলে পড়ছিলো সে দিন ধরনীর বুকে

কাঁদতে কাঁদতে আমার মাথার চুল গুলো টেনে ছিলে ,

আমি উফ করিনি কেঁদেছি, ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে চলে গেলে,

ফিরেও তাকাও নি!

 

আমি চিত্কার করে বলেছিলাম ,আমি ভালবাসি, আমি ভালবাসি

বলেছিলাম ,সত্যি আমি তোমাকে ভালবাসি।

 

যে দিন তোমার ফুলসজ্জা ,ওই ধনীর দুলালের সাথে

আমি তখনো ছাত্র ,বেকার ,জানালার আলো ছায়াতে

এক পলকে দেখছিলাম, আমার ভালবাসার সলিল সমাধি।

 

আজ আমি প্রতিষ্ঠিত,শুধু তুমি নেই.

সে দিন দেখলাম, টাক ওয়ালা এক বুড়ো ,

সাথে বার তের বছরের এক কিশোরী ,

স্কুলের গেট থেকে মাথা নীচু করে বেরিয়ে আসলো এক নারী

চোখ পড়তেই বুকের ভেতর দুমড়ে মুচড়ে উঠলো ,

কেমন যেন চেনা চেনা।

 

রাস্তায় ভীষণ জ্যাম রিক্সায় দুই নারী এক নরের গাদা গাদি

ড্রাইভিং সিটে আমি ,পাশের রিক্সা থেকে দমকা হওয়ায় ধুলি বালিতে

ভেসে এলো একজন মানুষের পাগল করা পরিচিত সুগন্ধ

বুঝতে ভুল হয়নি , নিশ্চই সে তুমি ,তুমি।

 

নাম ধরে ডাকতেই ফিরে তাকালে ,

এক পলক দেখেই ,রিক্সার হুট তুলে দিলে ,

মুহুর্তেই মিশে গেলে রিক্সার জ্যামে

শহরের গাড়ীর শব্দে বুঝলাম তুমি চলে গেছ ।

 

শুরু হলো আমার অপেক্ষা স্কুলের সামনে

প্রতিদিন দেখি মেয়েটিকে নিয়ে আসে সে ভদ্র লোক,

স্কুলের বিপরীতে রাস্তা পার হয়ে রিক্সায় চাপে চলে যায় ।

 

কোন দিন হাঁটে অনেক দূর,

ইস রোদে মেয়েটার দুই গাল লাল হয়ে যায়

মাঝে মাঝে হাঁপায় ভদ্র লোক ,

মেয়েটি ফ্লাক্স থেকে পানি নিয়ে মাথায় দেয় ,

মেয়েটি এ দিক ওদিক তাকায় ,

মেয়ের কাঁধে ভর করে,ফিরে যায়।

 

আমি দেখি, দূর থেকে দেখি ,প্রতিদিন দেখি।

 

এক দিন মেয়েটির চিত্কারে এগিয়ে এলাম ,

মেয়েটিকে আর তার সাথের ভদ্রলোককে গাড়িতে তুলে নিলাম,

মেয়েটির চোখে কৃতজ্ঞতা।

 

দাড়িয়ে ছিলাম হাসপাতালের বারান্দায় ,

তারপর –

ধন্যবাদ ,আপনি না থাকলে আমার স্বামীকে এ যাত্রায় হারাতাম

আমার বুকটা ধর ফড় করে উঠল,এ যে আমার চেনা কন্ঠ স্বর !

সময় পেলে একদিন আসবেন আমার বাসায় ,আমাদের বাসায়।

 

কত রোগা হয়ে গেছে , চোখে চশমা ,কন্ঠটা আগের মতোই আছে

হাসপাতালের গ্রীল দিয়ে দেখছি শহরের আকাশ,

যে দিন আমায় ছেড়ে চলে গিয়েছিলো ,সে দিন ও এমনি

আকাশের দিকে তাকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে আমায় একা করেছিলো সে !

 

অথচ আমাকেই সে ডেকেছিলো ,দেখিয়েছিলো স্বপ্ন একদিন !

 

আমি কলেজের শেষ বর্ষে ,কবিতা আর নাটকের পাগল আমি

কেউ কথা রাখেনি আবৃতি করে দর্শক সারিতে আসতেই

নরম এক তুল তুলে হাত এগিয়ে দিয়ে বলেছিলো, অটোগ্রাফ প্লীজ।

 

সে থেকে ক্যান্টিনে ,লাইব্রেরীতে যেখানে দেখা হতো লাজ লজ্জা ভুলে

বলতো ,ভালবাসি ,আমি তোমাকে ভালবাসি।

চেপে রাখতে পারিনি, আমিও হেরে গিয়েছিলাম তার ভালবাসার কাছে

কত রাত জেগেছি ওর হোস্টেলে সামনের রাস্তায়

ও সারা রাত কাটিয়ে দিতো হোস্টেলের বারান্দায়।

 

নদীর ধার  ধরে হেটেছি কত বিকেল,  স্বপ্নের জল বুনেছি কত শত !

হা হা হা ,আচ্ছা মনে আছে তুমি বলেছিলে ,আমাদের এগারটা বাচ্চা হবে

হা হা হা ,মুখ ফিরিয়ে দেখলাম ,তুমি চলে গেলে!

 

হাসপাতালের ভিতর  কক্ষ থেকে ভেসে আসছে ,

তোর্ বাবার পাঞ্জাবিটা নিয়ে আয় তো মা।

 

নামটা পরিচিত মনে হলো,হ্যা এমন একটা নাম কোথায় ,কোথায় শুনেছি

মনে পড়েছে , হ্যা  ওইতো  বলেছিলো,

আমাদের প্রথম মেয়ে হলে এই নামটি রাখবে !

 

সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসলাম, ধাপ শেষে  পা ফ্লোরে রাখতেই,

দাঁড়িয়ে আমার সামনে।

ক্যান্টিনে আসবে একটু ,আমি পাথর হয়ে রইলাম কয়েক সেকেন্ড !

অনুসরণ ক্যান্টিন পর্যন্ত,বসলাম এক কোনে ,কফি আসলো,

এখনো দাঁতের মাঝে ঠোঁট চেপে রাখার অভ্যাস টা আছে !

কথা নেই ,কারো শুধু কফির কাপ নিয়ে নাড়া চাড়া।

 

হটাত বললো ,ভালো আছি , আবার নীরবতা কিছুক্ষণ,

এরপর নাগাড়ে,বেশ আছি , অশ্রু সিক্ত চোখে বললো ,সুখে আছি !

উনি ব্যবসায় লোকসানের পর

আমি একটা প্রাইমারী স্কুলে চাকরী নিয়েছি ,টিউশনী করি

মেয়ের নামটা আমি দিয়েছি

ও এইবার এইটে  পড়ে ,ভালো ছাত্রী,আমার চেয়ে ভালো ………….

 

কথা

মতামত...