,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

প্রাথমিক সমাপনীতে দেশের বয়স্ক পরীক্ষার্থী ৬৩ বছর বয়সী বাছিরণ

student-oldতোজাম্মেল আযম,মেহেরপুর, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::  প্রাথমিক সমাপনীতে দেশের বয়স্ক পরীক্ষার্থী ৬৩ বছর বয়সী বাছিরণ ।সাদা শাড়ি পরে, মাথা শরীর সাদার ওপর হাল্কা প্রিন্টের ওড়না পড়ে হাতে এডমিট কার্ড নিয়ে ৬৩ বছরের বাছিরণ নেছার পরীক্ষা দেয়া পিএসপি পরীক্ষায় বয়স্ক  পরীক্ষার্থী  ।

রবিবার ২০ নভেম্বর মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হোগলবাড়িয়া মোহাম্মদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অন্যসব পরীক্ষার্থীদের সাথে বসে পরীক্ষা দিয়েছে। চামড়ায় ভাঁজ পড়া। সাদাচুল। দৃষ্টিশক্তিও অনেকটা ক্ষিণ বাছিরণকে পরক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে আসে তার নাতি আর ভাবি। লেখা পড়ায় আকাশ ছোঁয়া মনোবলের অধিকারী বাছিরণ। বাছিরনের এমন দৃষ্টান্ত দেশের বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন জেলার শিক্ষাবিদগণ।

মেহেরপুর জেলা শহর থেকে ৪২ কি:মি: দূর মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের হোগলবাড়িয়া গ্রামের মাঠপাড়ায় বাছিরণ নেছার বাড়ি। তিনি ওই গ্রামের পূর্বপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। রবিবার গাংনীর হোগলবাড়িয়া মোহাম্মদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় অন্য পরীক্ষার্থীদের সাথে বসে (পিএসসি) পরীক্ষা দিচ্ছে।
পরীক্ষা শেষে বাছিরণ জানায়- বৃদ্ধ বয়স দেখে প্রথমে তাকে স্কুলে ভর্তি নিতে চাইনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরের বছর ফের ভর্তির জন্য আসলে ভর্তি করে নেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন জানান, ইচ্ছার কাছে লজ্জা নেই, শেখার কোন বয়স নেই। এটা চোখে আঙুল দিয়ে বাছিরন দেখিয়ে দিল। ছোটছোট ছেলেমেয়েরা তাঁকে নানী বান্ধবী বলে ডাকে। পড়াশুনায় মনোযোগী। অল্পে সবকিছু বুঝতে পারে। সব সময় শুদ্ধ উচ্চারণে পড়া ও কথা বলে সে। ঝড়-বৃষ্টিতে অনেক শিক্ষার্থী অনেকদিন স্কুল কামাই করলেও স্কুলে বাছিরনের উপস্থিতি শতভাগ। স্কুলের সহপাঠিদের সাথে তার খুনশুটি, গলাছেড়ে পড়াশুনা করে। টিফিনে সহপাঠিদের সাথে এই বয়সে খেলে কানামাছি। ছুটির ঘন্টা পড়লেই ক্লাসের সহপাঠিদের সাথে শিশুদের মতো আচরণ করতে করতেই বাড়ি ফিরেছে।

ইংরেজি পরীক্ষায় হোগলবাড়িয়া মোহাম্মদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪৩৯জন পরীক্ষার্থী সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এই কেন্দ্রে বাছিরনের রোল নম্বর ছিল ৫৯৪১। বাছিরণের পরীক্ষায় অংশ নেয়া দেখতে ইউপি চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর, উপজেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নারি পুরুষ ভিড় করে। ভিড় সামলাতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।
স্কুলের সহপাঠি ছোটছোট ছেলেমেয়েরা তাঁকে নানী বান্ধবী বলে ডাকে। পড়াশুনায় মনোযোগী। অল্পে সবকিছু বুঝতে পারে। সব সময় শুদ্ধ উচ্চারণে পড়া ও কথা বলে সে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন জানান, ইচ্ছার কাছে লজ্জা নেই, শেখার কোন বয়স নেই। এটা চোখে আঙুল দিয়ে বাছিরন দেখিয়ে দিল। ছোটছোট ছেলেমেয়েরা তাঁকে নানী বান্ধবী বলে ডাকে। পড়াশুনায় মনোযোগী। অল্পে সবকিছু বুঝতে পারে। সব সময় শুদ্ধ উচ্চারণে পড়া ও কথা বলেন তিনি
মেহেরপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার,তৌফিক-উজ্জামান বলেন,বাছিরন নেছা পিএসসি পরীক্ষা দেবেন এটা উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানাতে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রথমে ভয় পায়। মনে করেছিলেন বিষয়টাতে বিরক্ত হবো আমরা। বিষয়টি জানার সাথে সাথে তার পরীক্ষ নেয়ার জন্য সব ধরণের ব্যাবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

মতামত...