,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

প্রিমিয়ারের পবিত্রতা রক্ষায় সর্বাত্মক ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত মহিউদ্দিন চৌধুরী

mohiuddin-chy-409x525নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রাম, বেসরকারি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্রতা রক্ষার জন্য সর্বাত্মক ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত এবং সর্বোচ্চ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পিছপা হবেন না বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা ও বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

মঙ্গলবার (০৫ এপ্রিল) সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে থাকা মহিউদ্দিন চৌধুরীর একান্ত সচিব মুহাম্মদ ওসমান গনির পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমি মাঠের মানুষ। আজীবন রাজনীতি করে গেছি লাঞ্ছিত-বঞ্চিত মানবতার অধিকারের জন্য। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন থাকলেও পরাধীন মাতৃভূমিতে আমাদের জন্য উপরে ওঠার সিঁড়ি পর্যাপ্ত ছিল না। তাই আমাদের আগামী প্রজন্মের সন্তানরা যেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ড প্রদক্ষিণের যাত্রা শুরু করতে পারে, যে জন্য প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। এ যেন এক নতুন সূর্যোদয়। এই সূর্যের আলোকপানে আকাশসম প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে পুরো চট্টগ্রাম। এই আলোতে পথচলার প্রত্যয়কে বুকে ধারণ করেছে এই শহরের মানুষগুলো। সুন্দরতম মঙ্গলপানে তাকিয়ে আছে নগরবাসী। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় যেন মঙ্গলগ্রহের ভূমিতে ছুটে চলা মার্স পথফাইন্ডার। ব্যক্তি ও গোষ্ঠী  স্বার্থ কেন্দ্রিক সমাজ ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এরূপ প্রাগ্রসর জনকল্যাণমুখী চিন্তা ও বাস্তবায়ন ব্রিটিশ লেখিকা জেকে রাউলিং রচিত ঐন্দ্রজালিক ‘হ্যারি পটার’ কাহিনিকেও হার মানিয়েছে। এটা চট্টগ্রামের প্রতিটি মানুষ তথা দেশের মানুষেরই জয়যাত্রা।

প্রাচীনকাল থেকে চট্টগ্রাম ব্যবসা বাণিজ্যেও প্রাণকেন্দ্র। পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন বন্দরনগরী। একটি কিংবদন্তি চালু আছে যে, শ্রীলংকার গোড়াপত্তনকারী রাজা বিজয় সিংহ চট্টগ্রাম হয়ে সিলনে যান। সিলন এবং পরবর্তীতে শ্রীলংকা শব্দটি তার নাম থেকে এসেছে। বিখ্যাত পরিব্রাজক মার্কো পোলো ও ইবনে বতুতা চট্টগ্রাম ভ্রমণে আসেন। তারা উভয়ে আমাদের প্রিয় এই নগরীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। পর্তুগিজ বণিকরা চট্টগ্রাম বন্দরকে পোর্তগ্রান্ডে বা বড় বন্দর বলে আখ্যায়িত করেছিল। ব্যবসা হলো বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। ব্যবসা বাণিজ্যের যথাযথ গতি প্রকৃতির ওপর যে কোনো দেশের জাতীয় উন্নয়ন নির্ভর করে। ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবসার প্রতি চট্টগ্রামের মানুষের আকর্ষণ দুর্নিবার। চাকরি এবং চাকরির নিমিত্তে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে একটা নেতিবাচক মনোভাব কাজ করে। সেই হিসেবে এই অঞ্চলে ব্যবসায় প্রশাসন ও অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাঠদান একটি দুঃসাহসী পদক্ষেপ।

দৃঢ়ভাবে আশা করা যায় ব্যবসা ও শিল্প-বাণিজ্যে দুঃসাহসিক ঝুঁকি গ্রহণে আমাদের ছাত্ররা কলম্বাস, ভাস্কো-দা-গামা কিংবা সিন্দাবাদের চেয়ে পিছিয়ে থাকবে না। সেদিন হয়তো বেশি দূরে নয়, যেদিন আমাদের ছাত্রদের মধ্যে থেকে উঠে আসবে ওয়ারেন বাফেটের মতো মানবতাবাদী ধনী লোক। এই মানুষটি কেবল সফল শিল্প-বাণিজ্য উদ্যোক্তাই নন, বরং গভীর মানবতা বোধ সম্পন্ন। মি. বাফেট ২০০৮ সালে মেক্সিকোর ধনকুবের কার্লোস স্লিম ও মাইক্রোসফটের কর্ণধার বিল গেইটস্কে পেছনে ফেলে সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী হিসেবে স্বীকৃতি পান। কিন্তু অত্যন্ত সহজ সরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই মানুটি পরম মমতা ও সেবামূলক মন নিয়ে দরিদ্র-অসহায় মানুষের জন্য অকাতরে খরচ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে এই দরদি মানুষটি কোনো ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ব্যবহার করেন না। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে-তার কোন মোবাইল ফোন নেই। এমন কি তিনি কোনো ডেস্কটপ কিংবা ল্যাপটপ কম্পিউটারও ব্যবহার করেন না।

বিশ্বখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক ড. অনুপম সেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য। তিনি একজন জ্ঞানতাপস। জ্ঞানচর্চা এবং পাঠদান তার রক্তের শিরা-উপশিরায় মিশে আছে প্রজন্ম পরম্পরায়। এমন কি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার পূর্বপুরুষ কর্তৃক সমৃদ্ধ ও উপকৃত হয়েছিলেন। তার প্রমাতামহ পণ্ডিত শরৎচন্দ্র ব্রিটিশ ভারতের দূত হিসেবে তিব্বত সফরে গিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে বৌদ্ধ ধর্মের অতি মূল্যবান প্রাচীন দলিল ও মহাকবি ক্ষেমেন্দ্রের ‘বোধিসত্ত্ব অবদান’ উদ্ধার করেন। তিনি বোধিসত্ত্ব অবদান অনুবাদ করেন। এই অনূদিত গ্রন্থকে অবলম্বন করে কবিগুরু বেশ কিছু নৃত্যনাট্য ও কবিতা রচনা করেন।

এই কথাগুলো বলার অর্থ হলো এটা বোঝানো যে, ড. অনুপম সেন আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যেও জীবন্ত স্মৃতিচিহ্ন। যদিও বা এই স্মৃতিচিহ্ন রক্তে-মাংসে গড়া। প্রাকৃতিক সূর্য উদিত হয় জাপানে। আর জ্ঞানের সূর্য যেন সদা উদীয়মান আমাদের প্রিমিয়ার বিশ্বিবিদ্যালয়ে। তিনি অনবরত বলে চলেছেন; লিখে চলেছেন-জাতীয় ঐতিহ্য ও গৌরবগাথা। গেয়ে যাচ্ছেন মানুষ ও মানবতার জয়গান। কী আকুতি! কী আবেগ সেই কথায়! প্রাচীন গ্রিক শিক্ষাকেন্দ্র লাইসিয়াম এ পড়ানোর আগে এরিস্টটল বিশ্বজয়ী আলেকজান্ডারকে পড়িয়েছিলেন। সেন স্যারও হয়তো খুঁজে ফিরেছেন-ভবিষ্যতের বিশ্বজয়ী বীরদের। জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতিসহ জীবনের সর্বক্ষেত্রে থাকবে এই বীরদের বিচরণ। কৃষ্ণাঙ্গ বারাক ওবামা পর পর দুইবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। এ যেন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র হিসেবে আমিও সর্বজনীনকে সেই স্বপ্ন ধারণ করেছিলাম। আর সেন স্যারের মতো মানুষ যেন স্বপ্ন পূরণের সারথি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীনে পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত সেবকের সন্তানেরাও আজ প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারছে।

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্রছাত্রী, সম্মানিত অভিভাবকগণ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর ধ্যান-জ্ঞান ও আবেগের কেন্দ্রবিন্দু যেন এই বিশ্ববিদ্যালয়। সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, এই বিশ্ববিদ্যালয় সঠিক ও সুন্দর মানুষগুলোর এক সম্মিলিত পরিবার। তাই সোহেলের মৃত্যু কেবল একটি মৃত্যুই নয়। তার মৃত্যুতে আমিও সন্তান হারা হয়েছি। তাকে কেন্দ্র করে কিছু কুচক্রী মহল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ধ্বংস করতে চেয়েছিল। নগরবাসীকে জিম্মি করে চেয়েছিল পুরো নগরকে ধ্বংস করতে। কিন্তু সচেতন এবং ন্যায়পন্থী চট্টলবাসী সেই ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছে। আমি বয়োবৃদ্ধ হলেও বুড়ো হয়ে যাইনি, আমি প্রবীণ হলেও বয়স্ক হইনি। যেকোনো ন্যায়মুখী সংগ্রামে আমি চট্টলবাসীর সাথে ছিলাম, আছি এবং থাকব। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি।

যুদ্ধাপরাধের বিচার নিশ্চিত করার জন্য এখনো রাজপথে আছি। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছি। কিছু কুচক্রী মাফিয়া আমাদের পরাস্ত করতে পারবে না। আমার সন্তান সোহেলের মৃত্যুতে সম্মানিত অভিভাবকগণ, আমাদের ছেলে-মেয়েরা, চট্টগ্রামবাসী এবং সুশীল সমাজকে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হতে দেখেছি। আমি তাদের দৃঢ় কণ্ঠে শুনাতে চাই-প্রিমিয়ার আপনাদেরই ভালোবাসার উজ্জ্বল সূর্য সন্তান। এটার আলো মুহূর্তের জন্যও নিভতে পারে না। আমরা গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিয়েছি। প্রশাসনিক কাজ এবং ক্লাস পুরোদমে চলছে। তবে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চালানো পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞের অ‌্যাসেসমেন্টের স্বার্থে প্রশাসনের পরামর্শে ব্যবসায় প্রশাসন আরও কয়েকদিন পর খুলে দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বীর ও ন্যায়পন্থী চট্টলাবাসী, সম্মানিত অভিভাবকগণ, শিক্ষার্থীরা ও সুশীল সমাজ ঘটনার পর যে অসাধারণ ধৈর্য, সাহস ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করেছেন তাতে তাদের এটা নতুন করে বলার দরকার নেই যে, আপনারা কোনো রূপ ভয় পাবেন না কিংবা আপনারা আতঙ্কিত হবেন না। বরং আমার মতো একজন মুক্তিযোদ্ধাকে আপনারা মুগ্ধ করেছেন। কিছু সংখ্যক বহিরাগত অবুঝ ছেলে অভদ্রতার প্রতিবাদে চট্টলবাসী এবং আমাদের সন্তানরা যে ভদ্রোচিত জবাব দিয়েছে তা-ও জাতির জন্য শিক্ষণীয়। অসুন্দর কখনো সুন্দর পরাস্ত করতে পারে না।

অসভ্যতা কখনো সভ্যতা হারাতে পারে না। অসত্য কখনো সত্যের ওপর বিজয় অর্জন করতে পারে না। আমি দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করছি-আমাদের সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আমৃত্যু লড়াই করে যাব। আর প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের শহরে পবিত্র জ্ঞানকেন্দ্রের আলোকিত শোভাযাত্রা যেখানে ভদ্রতা-সভ্যতা শিক্ষা দেওয়া হয়।

বি এন আর/০০১৬/০০৪/০০৫/০০০৪৮২৬/ এন

মতামত...