,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

প্রিয়াংকা পরীক্ষা দেবে!

নিজস্ব প্রতিবেদক,  বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রাম, অবশেষে সেই প্রিয়াংকার বিয়ে বন্ধ হল।  পরীক্ষা দিতে পারবে প্রিয়াংকা। চট্টগ্রামের মোস্তফা হাকিম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় সীতাকুন্ডের ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বিয়ে বন্ধ করতে রাজি হয়েছে তার বাবা বাবুল দাশ।

রোববার সারাদিন নানা দেন দরবার শেষে মধ্যরাত পর্যন্ত সীতাকুন্ড থানায় বৈঠকের মাধ্যমে প্রিয়াংকার বাবা তাকে বিয়ে দেবেনা মর্মে মুচলেখা দেন পুলিশকে।

এইচএসসি পরীক্ষা বাদ দিয়ে তাকে জোর করে তার বাবা বিয়ে দিচ্ছিল। নিজের বিয়ে বন্ধ করতে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিল এই শিক্ষার্থী। প্রিয়াংকা দাশ (১৮) মোস্তফা হাকিম ডিগ্রী কলেজ থেকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।আর ৭ বিষয়ে তার পরীক্ষা বাকি আছে তার এরই মধ্যে তাএ বাবা তাকে বয়ে দিচ্ছিল।

প্রিয়াংকা জানান, সে চলতি বছর মোস্তফা হাকিম কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তার আরো ৬ বিষয়ে পরীক্ষা বাকী রয়েছে। তার বাবা বাবুল দাশ সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য থেকে এসে তাকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছে। বিয়ের ব্যাপারে প্রিয়াংকা সম্মতি না দিলেও তারা একক সিদ্ধান্তে বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে। আগামী ২৭ মে তার বিয়ে। ইতোমধ্যে জোর করে তার আর্শিবাদ সম্পন্ন করেছে বলেও প্রিয়াংকা জানান।

প্রিয়াংকা তার বিয়ে বন্ধের ব্যাপারে সাবেক মেয়র ও মোস্তফা হাকিম বিশ^বিদ্যালয় কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মো.মনজুর আলমের সহায়তা কামনা করেন। সাবেক মেয়র বিষয়টি নিয়ে প্রিয়াংকার বাবার সাথে কথা বলেন। এতে কোন ধরনের সুরাহা না হওয়ায় তিনি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলমগীরকে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন।

এর পর প্রিয়াংকাকে নিয়ে সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট গেলে তিনি সীতাকুন্ড থানার ওসিকে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় সুরাহা করার জন্য অনুরোধ জানান। এসময় ইউএনও প্রিয়াংকার বাবা বাবুল দাশকে ডেকে পাঠান। পরে থানায় উপ-পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ারের তত্বাবধানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রিয়াংকাকে জোর করে বিয়ে দেবেনা মর্মে মুচলেখা প্রদান করেন বাবুল দাশ।

এছাড়া তাকে শারিরীক এবং মানসিক কোন নির্যাতন করা হবেনা এবং পড়া লেখা অব্যাহত রাখা হবে মর্মেও অঙ্গিকার নামা প্রদান করেন তিনি। পরে সীতাকুন্ড থানায় সাধারন ডায়রী মুলে প্রিয়াংকাকে তার বাবার হাতে তুলে দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে প্রিয়াংকা জানান আমার বিয়ে বন্ধ হয়েছে। আমি এখন পড়ালেখা করতে পারবো। সে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষসহ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রিয়াংকার বাবা বাবুল দাশ জানান, এখন আর মেয়েকে বিয়ে দেবনা। সে পড়া লেখা করতে চাইলে তার কোন আপত্তি নাই বলেও জানান। সীতাকুন্ড উপজেলার বড় কুমিরা লেদাবাসী দাশের বাড়ীর বাবুল দাশের মেয়ে।

মোস্তফা হাকিম ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলমগীর বলেন, মেয়েটি আমাদের কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। সে আমাদের কাছে এসেছে। তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি আমরা সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ওসিকে জানিয়েছি। তিনি বলেন যেহেতু মেয়েটি এখন প্রাপ্ত বয়স্ক ভাল মন্দ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা তার রয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন মেয়েটি বিয়েতে রাজি না থাকায় আমাদের কাছে এসেছে আইনি সহায়তার জন্য।

মতামত...