,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ফেসবুকে ‘সজীব ডাবল’ মন্তব্য করায় ছাত্রলীগের লঙ্কাকান্ড চট্টগ্রামে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::সিঙ্গেল না ডাবল। এই বিষয়টি নিয়েই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ এবং এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে যারা মারামারি করেছেন তাদেরও বিষয়টি জানা নেই।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাকহুম তালুকদার সজীবের সাথে নগরীর একটি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠার শুরুতেই হোঁচট খায়। এর জন্য দায়ী করা হয় মেট্রোপলিটন হাসপাতালের চিকিৎসক আশফাককে। আশফাকের কাছে ফেসবুকের মাধ্যমে ওই ছাত্রী জানতে চায় ‘সজীব সিঙ্গেল না ডাবল’। আশফাকের উত্তর ছিল ‘ডাবল’। তাতেই সজীবের সাথে ওই ছাত্রীর সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়। সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে গত সোমবারের ঘটনার সূত্রপাত হয়। গতকাল মেডিকেল কলেজের চার ছাত্রনেতা যখন মেট্রোপলিটন হাসপাতালের ডা. আশফাকের কাছে যান, সে সময় এমইএস কলেজকেন্দ্রিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী এবং স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা একটি রেস্টেুরেন্টে ব্যা–শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর গান শোনার জন্য জড়ো হয়েছিলেন। মেট্রোপলিটন হাসপাতালের ওই চিকিৎসককে নিয়ে টানাটানি করার সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ নেতা প্রতিবাদ করেন। তাতে মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের সাথে তাদের ধাক্কাধাক্কি এবং এক পর্যায়ে মারামারি লেগে যায়। খবর শুনে গান শোনার জন্য অপেক্ষমান নেতাকর্মীরাও মারামারিতে যোগ দেন। তাতেই জিইসি থেকে গোলপাহাড় মোড় হয়ে চট্টেশ্বরী মোড় পর্যন্ত পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়ে। পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। মেডিকেলের ১০ ছাত্র আহত হন। তার মধ্যে পাঁচ জনের অবস্থা গুরুতর। অপরদিকে যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের দুই কর্মী গুরুতর আহত হন। গতকালও উভয়পক্ষ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এমইএস কলেজকেন্দ্রিক ছাত্রলীগ–যুবলীগ নেতাকর্মীরা গতকাল গোলপাহাড় মোড় থেকে মেহেদীবাগ সড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সেসময় জনমনে আতংক দেখা দেয়। যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অপরদিকে, মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও মেডিকেলের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে প্রায় এক ঘণ্টা রাস্তা বন্ধ করে দেন।

তবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তারিফুল ইসলাম রাতিন বলেন, আশফাক ফেইক আইডি’র মাধ্যমে সজীবের ইমেজ নষ্ট করার জন্য এই ঘটনা ঘটিয়েছে। সজীবের সাথে কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ছাত্রীর সম্পর্ক নেই। এবিষয়ে প্রতিবাদ জানানোর জন্য গত সোমবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে গিয়েছিলেন মেডিকেল কলেজের চার ছাত্রনেতা। সেসময় ছাত্রনেতাদের সাথে আশফাকের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তারা বেরিয়ে আসার সময় তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা হয়।

রাতিন বলেন, যারা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের ওপর হামলা চালিয়েছে তাদের সাথে কখনো কোনো ধরনের শত্রুতা ছিল না। হঠাৎ কেন যে, তারা ছাত্রদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালাল তার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। তবে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য ইন্টার্ন ডাক্তারদের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মবিরতি চলছে। চমেকের শিক্ষার্থীদেরও ক্লাশ বর্জন কর্মসূচি চলছে। এছাড়া দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।

অপরদিকে, এমইএস কলেজের নেতা ওয়াসিম উদ্দীন বলেন, ‘আমার নামটা কেন যে, তারা কেনই বা আমার নামে অভিযোগ করলো তা আমার বোধগম্য নয়।’ ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন উল্লেখ করে বলেন, যারা আমার নাম বলেছে তারা আমাকে চিনে না। তাছাড়া মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের সাথে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। তারা হঠাৎ করে এসে একজনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল সেসময় স্থানীয়রা বাধা দিয়েছিল। যারা আহত হয়েছেন তারা গোলপাহাড় এলাকায় থাকেন। কাউকে তুলে নেয়ার সময় আশপাশের লোকজন প্রতিবাদ করবে এটাই স্বাভাবিক। – পূর্বকোণ ‘র প্রতিবেদন।

মতামত...