,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বঙ্গবন্ধুকে হেয় করতেই ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালন করে খালেদাঃ প্রধানমন্ত্রী

a.নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজনৈতিক উদারতা নয়, ১৫ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন না করার পেছনে ভিন্ন কারণ রয়েছে। ১২ আগস্ট তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন। কোকো মারা যাওয়ায় যেহেতু তার জন্মদিন পালন করতে পারবেন না, সে কারণেই এবারের ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করেননি বিএনপি নেত্রী। তাছাড়া ১৫ আগস্ট তার আসল জন্মদিনও নয়। কেবল বঙ্গবন্ধুকে হেয় করা ও আমাদের আঘাত করতেই তিনি ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন বানিয়ে ফুর্তি করতেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আকাঙ্খা অনুযায়ী দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও দেশকে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করেছি। বিচারের রায়ও কার্যকর করেছি। এখন একটাই কাজ, জাতির পিতার আকাঙ্খা অনুযায়ী দেশকে তার স্বপ্নের সুখী-সমৃদ্ধ ও সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবোই। এটাই আমাদের আজকের দিনের প্রত্যয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, বিএনপি নেত্রীর পাসপোর্টে ১৫ আগস্ট তার জন্মদিন নয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তার যে জীবনবৃত্তান্ত ছাপানো হয়েছিল, সেখানেও জন্মদিন ছিল অন্য তারিখে। কেবল মাত্র বঙ্গবন্ধুকে হেয় করার জন্য, কষ্টের মধ্যেও আমাদের আঘাত করতে তিনি সেজে-গুজে ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিনের উৎসব করতেন। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বোঝাতেন, তিনি তাদের সঙ্গে আছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ আগস্ট তার ছেলে কোকোর জন্মদিন ছিল। ছেলে মারা গেছে, মা হয়ে ছেলের জন্মদিন পালন করতে পারেননি, তাই নিজেরটাও পালন করেননি। মা হয়ে তিনি এছাড়া আর কী-ই বা করতে পারতেন। আর তার দলের নেতাদের অনেকেই এটিকে তার রাজনৈতিক উদারতা হিসেবে দেখাতে চাইছেন। এখানে কোনো রাজনৈতিক উদারতা নেই। বাস্তবতা ভিন্ন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের প্রায় পুরোটা জুড়েই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং তার দীর্ঘ ছয় বছরের প্রবাস জীবনে অপরিসীম দুঃখ-কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার ও ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর দেশ ও জাতির কল্যাণে তার আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে দফায় দফায় অশ্রুসজল হয়ে পড়েন বঙ্গবন্ধু কন্যা। তার এই বক্তব্য চলাকালে অনুষ্ঠানস্থলে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নেতা-কর্মী ও আমন্ত্রিত দর্শক-শ্রোতাদের অনেককেও চোখ মুছতে দেখা গেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা এদেশের স্বাধীনতা চায়নি, বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের বিজয় চায়নি, মুক্তিযুদ্ধের  বিরোধিতা করেছিল তারাই ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

৭৫’র এর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি হারিয়েছি বাবা-মা, ভাই আত্মীয় পরিজনকে। বাঙালি হারিয়েছে মহান নেতাকে, জাতির ভবিষ্যতকে। ঘাতকের নির্মম বুলেট কত তাজা প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। যার নেতৃত্বে স্বাধীনতা পেয়েছি তাকেই ঘাতকের বুলেট কেড়ে নিয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজল হোসেন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এসএম কামাল হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।

১৫ আগস্ট নিয়ে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন। এছাড়া সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক রচিত ‘৩২ নম্বর মেঘের ওপারে’ শীর্ষক কবিতা আবৃত্তি করেন।

পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।

মতামত...