,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ‘স্বীকৃতি’ উদযাপন চট্টগ্রামে

নাছির মীর, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ছিল স্বাধীনতার পাথেয়। স্বাধীনতার মূল কাজটি বঙ্গবন্ধু সেদিনই করে ফেলেছিলেন। পরের কাজটুকু ছিল আনুষ্ঠানিকতা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’ এ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন উপলক্ষে দেশব্যাপী আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল (শনিবার) চট্টগ্রামে আনন্দ শোভাযাত্রাশেষে লালদিঘি ময়দানের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

সকালে নগরীর সার্কিট হাউজে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রা শুরু হয়। বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান প্রশাসনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র‌্যালি নগরীর লালদিঘিতে গিয়ে শেষ হয়। চট্টগ্রামের সকল সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, শিশু কিশোরসহ সর্বস্তরের মানুষ আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। লালদিঘি মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ঐতিহাসিক গুরুত্ব উল্লেখ করে অনুভূতি প্রকাশ করেন ডিআইজি এস এম মনিরুজ্জামান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহার, স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক দীপক চক্রবর্তী, পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, নগর আওয়ামীলীগের সহ–সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, নগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. সাহাবুদ্দিন, দক্ষিণ জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রমুখ।

বিভাগীয় কমিশনার তাঁর বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সে ভাষণ ছিল বাঙ্গালি জাতির স্বাধীনতার পাথেয়। সে ভাষণ বাঙ্গালি জাতিকে নতুন পরিচয় পেতে সহায়তা করেছে। দেরিতে হলেও বিশ্ব সম্প্রদায় সে ভাষণের মর্যাদা দিয়ে বাঙ্গালি জাতির মর্যাদা আরো এক ধাপ বৃদ্ধি করেছে। এখন সকলের উচিত অন্তর থেকে সে ভাষণকে স্বীকৃতি দেয়া। সংকীর্ণতার পরিচয় দিয়ে সে ভাষণকে অস্বীকার না করা। নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক তথ্য জানাতেই এ আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু জীবনের ১২টা বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। পাকিস্তান বঙ্গবন্ধুর কাছে দুইবার পরাজিত হয়েছিল। একবার ৫২ ’র ভাষা আন্দোলনে। ওই আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি তখন কারাগারে আমরণ অনশন করেছিলেন। দ্বিতীয়বার পরাজিত হয়েছে ১৯৭১ সালে। তবে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন অনেক আগে। অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচাসহ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বইগুলি পড়লে তা বুঝা যায়।

সভাশেষে জাতীয় পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরে ‘বাংলাদেশ চিরজীবী হউক’ বলে সম্মিলিত শ্লোগান দেয়া হয়। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

জাতির এই অসামান্য অর্জনকে উদযাপনে আনন্দ শোভাযাত্রায় নগরীর সরকারি– বেসরকারি দপ্তর, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যলয়, কলেজ, স্কুলের হাজারো শিক্ষার্থী ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে উপস্থিত হয়। যাদের সকলের হাতে ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য নিয়ে লেখা পতাকা। এছাড়াও হাতি, ঘোড়ার গাড়ি, ব্যান্ড দল আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নিতে দেখা গেছে। শোভাযাত্রাটি নগরীর সার্কিট হাউজ থেকে শুরু হয়ে লালদিঘি মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

মতামত...