,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

‘বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতা’নিউ ইয়র্কে

 ঢাকা,০৮ ডিসেম্বর (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম)::শনিবার নিউ ইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে আয়োজন করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু সম্মেলন ও বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতা’র।

স্মারক বক্তা ছিলেন বিটিভির সাবেক প্রযোজক ও লেখক বেলাল বেগ। এটি ছিল চতুর্থ বার্ষিক অনুষ্ঠান-যেখানে কেবলই বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের ইতিহাস-ঐতিহ্য আর বাঙালির স্বাধীকারের দীর্ঘ-স্বর্ণালী অধ্যায় নিয়ে একজন বক্তা বক্তব্য রাখেন।

প্রথা অনুযায়ী এতে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ড. নূরন্নবী এবং সঞ্চালন করেন সাধারণ সম্পাদক শিতাংশু গুহ। শুরুতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণের ৪টি অসাধারণ কবিতা আবৃত্তি করেন জি এইচ আরজু, সাবিনা নিরু, হোসেন শাহরিয়ার তৈমুর এবং গোপন সাহা।

স্মারক বক্তব্যে বেলাল বেগ বলেন, “যুদ্ধ-বিধস্ত দেশটিকে দ্রুত পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত সকলকে এক প্ল্যাটফর্মে জড়ো করার অভিপ্রায়ে বাকশাল গঠন করেছিলেন। কিন্তু একাত্তরের পরাজিত শত্রু এবং নিজেদের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা বেঈমানরা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বাংলাদেশে পাকিস্তানী ধ্যান-ধারণা ফিরিয়ে আনার কৌশল অবলম্বন করা হয়। দু’যুগের মতো সে তামশা আমরা বাঙালিরা অবলোকন করেছি।”

বেলাল বেগ উল্লেখ করেন, “অবশেষে বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরি শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সে পথেই হাঁটছে আজকের বাংলাদেশ। এ ধারাকে অব্যাহত রেখে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে শেখ হাসিনা এবং তার সরকারকে দীর্ঘসময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকতে হবে। এজন্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল দল-মতের মানুষকে আবারো এক প্ল্যাটফর্মে সমবেত থাকতে হবে।”

বেলাল বেগ তার আবেগতাড়িত বক্তব্যে বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন।বাংলাদেশের মাতৃভাষা দিবস একুশে ফেব্রুয়ারি আজ বিশ্বের সকল জাতির মাতৃভাষা দিবস হিসাবে গণ্য হয়েছে। বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অবদান আমাদের গৌরব বাড়িয়ে চলেছে। আজ বাঙালি প্রতিভার বিকাশে অবিশ্বাস্য গতি এসেছে। আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চ্যাম্পিয়ন অব দি আর্থ পুরস্কারে ভূষিত। বাংলাদেশের এই বিস্ময়কর উত্থানের মূলশক্তি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানের যাদুকরী নেতৃত্ব যা অনন্তকাল বাঙালির পাথেয় হয়ে থাকবে। তার নেতৃত্বে সংঘটিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ৪৪ বছর পূর্তি লগ্নে আজ আমরা তাকেই প্রথম স্মরণ করছি। জয় বাংলা।”

শেখ মুজিব বাঙালি জাতির জন্যে কি করে গেছেন সে প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বেলাল বেগ বলেন, “ প্রথমত: বাঙালি হিন্দু-মুসলমানকে সাম্প্রদায়িক যুদ্ধ থেকে রক্ষা করেছেন। দ্বিতীয়ত: বাঙালিকে নাগরিক অধিকার সম্বন্ধে সচেতন করে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তৃতীয়ত: বাঙালির ভাষা সংস্কৃতিতে পুনঃপ্রাণ সঞ্চার করে জাতিকে একতাবদ্ধ ও শক্তিশালী করেছেন। চতুর্থত: জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ করে বাঙালিকে মুক্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ করিয়ে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। পঞ্চমত: অনন্তকাল মাথা উঁচু করে চলার জন্য বাঙালিকে পথনির্দেশনা দিয়ে গেছেন বাহাত্তরের সংবিধান রচনার মধ্য দিয়ে।”

বেলাল বেগ উল্লেখ করেন, “আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৯৭২ সনে রচিত প্রথম সংবিধানে।”

স্মারক বক্তৃতা শেষে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ড. নূরন্নবী এ অনুষ্ঠানের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সেটি ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আবারো ধৃষ্ঠতাপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে পাকিস্তানের সঙ্গে সবধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার। ‘হয় প্রকাশ্যে ক্ষমতা চাইবে অন্যথায় পাকিস্তানের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে’-এ প্রস্তাব উত্থাপনের সাথে সাথে সকলে সমবেতরা সম্মতি জানিয়ে জয় বাংলা শ্লোগান ধরেন।

গত বছরে তৃতীয় স্মারক বক্তৃতায় অতিথি ছিলেন লে. কর্ণেল(অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহীর, বীরপ্রতীক। ২০১২ সালে এই অনুষ্ঠানে প্রথম বক্তা ছিলেন প্রফেসর মুনতাসির মামুন। আর ২০১৩ এ দ্বিতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছিলেন শাহরিয়ার কবীর।  এবারের অনুষ্ঠান থেকেও ঘোষণা করা হয় যে, এ বক্তৃতা প্রতি বছরই অনুষ্ঠিত হবে।

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা সরাসরি আমাদের জানান। নাম, ঠিকানা, ফোন ও সংশ্লিষ্ট ছবিসহ লেখা পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়- 

মতামত...