,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বনানীতে মুখোশধারী খুনিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দাদের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::রাজধানীর বনানীতে জনশক্তি রপ্তানিকারক (আদম ব্যবসায়ী) প্রতিষ্ঠানের মালিক সিদ্দিক হোসাইন মুন্সিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি কি কারণে এই হত্যাকাণ্ড তা নিয়েও অন্ধকারে পুলিশ। নিহতের পরিবারও বলতে পারছে না কিছু। ওই বাড়ির সামনে থাকা সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে খুনিরা সবাই বয়সে তরুণ। তাদের সবার পরনেই ছিল জিন্স প্যান্ট। আর তিনজনের গায়ে শার্ট ও অপরজনের গায়ে ছিল টি-শার্ট।

গোয়েন্দারা বলছেন, তাদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে। এদিকে বনানীতে দিন দিন অপরাধ বেড়েই চলেছে। এখানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে মদ-মাদক। অদৃশ্য কারণে পুলিশও এসব দেখে না দেখার ভান করে বসে আছে। স্থানীয়রা এ ব্যপারে পুলিশকে বললেও তাতে কোন কাজ হচ্ছে না।

সিসিটিভির ফুটেজে হামলাকারীদের মুখ : সিদ্দিকের প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস মুন্সী ওভারসিজে হামলার পর ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে এবং ওই সময় সেখানে থাকা কয়েকজনের কাছ থেকে মুখোশধারী চার হামলাকারীর কথা জানা গেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বনানী ৪ নম্বর সড়কে ১১৩ নম্বর বাড়ির নীচতলায় সিদ্দিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানা দেয় দুর্বৃত্তরা। সেখানে ঢুকে তারা এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে সিদ্দিকসহ চারজন আহত হন। আহতদের গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে সিদ্দিক চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান। আহত প্রতিষ্ঠানের তিন কর্মকর্তা মোস্তাক, মোখলেস এবং পারভেজ বর্তমানে ইউনাইটেডে চিকিত্সাধীন। এদের মধ্যে মোস্তাকের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।

হত্যাকাণ্ডটিকে ‘পরিকল্পিত’ বলছেন গুলশান বিভাগের পুলিশের উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ফুটেজে চারজন মুখোশধারীকে ওই প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, এখনও কোনো কারণ জানা যায়নি। পারিবারিক, ব্যবসায়ীক- সবদিকই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটা একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জোসনা বেগম বাদি হয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ে ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন।

লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন, গুলি লাগে বুকে : এদিকে বুধবার বিকেলে সিদ্দিকের মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ বলেন, একটি গুলি সিদ্দিকের বুকের বামদিক দিয়ে ঢুকে ডান অংশে আটকে ছিল। আরেকটি গুলি তার হাত ফুঁড়ে বেরিয়ে গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে উপস্থিত ছিলেন সিদ্দিকের ভাই আব্দুল লতিফ এবং হোসাইন আহমেদ ও জাফর নামে সিদ্দিকের প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মচারী। হামলার সময় হোসাইন ও জাফর সেখানেই ছিলেন। আব্দুল লতিফের কাছে ভাইয়ের হত্যার কারণ জানতে চাইলে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

হামলার বর্ণনা দিয়ে জাফর বলেন, চারজন মুখোশধারী ঢুকেই ক্যাশ কোথায় জানতে চায়। আমাদের মধ্যে কেউ একজন বলল, টাকা ব্যাংকে জমা থাকে। এ কথা শুনে ওরা বকাবকি শুরু করে এবং একটি গুলি করে, কিন্তু (পিস্তল বা রিভলবার থেকে) গুলি বের হয় নাই। পরে আবার তারা গুলি ছুড়ে। এতে সিদ্দিকসহ ৪ জন গুলিবিদ্ধ হন।

নিহত সিদ্দিক মুন্সী টাঙ্গাইল কালিহাতীর পাড়ক্ষি মধ্যপাড়ার আনছার আলীর ছেলে। স্ত্রী জোসনা বেগম, দুই মেয়ে সাবরিনা সুলতানা, সাবিহা সিদ্দিক ও ছেলে মেহেদী হাসানকে নিয়ে উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় থাকতেন।

একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, খুনিদের গতিবিধিতে মনে হয়েছে-এরা পেশাদার অপরাধী। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) একজন কর্মকর্তা বলেন, পেশাদার কিলাররা ওই ব্যবসায়ীকে খুন করেছে বলে মনে হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এদের চলাফেরায় কোনো আতঙ্কের ছাপ ছিল না। নিহতের স্বজনদের উদ্ধৃত করে পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, নিহত সিদ্দিকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে আবদুস সালাম নামে একজন রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকের সঙ্গে নিহত সিদ্দিকের ঝামেলা ছিল। রাজধানীর নয়া পল্টনে একটি মার্কেটে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওই ব্যবসায়ী ২০ লাখ টাকা দাবি করেছিল সিদ্দিকের কাছে। এ নিয়ে সিদ্দিকের পক্ষ থেকে একটি জিডিও করা হয়েছিল।

সিদ্দিকের স্ত্রী জোসনা বেগম বলেন, তার স্বামী ব্যবসা করতো। অনেকের সঙ্গে ঝামেলা থাকতে পারে। তিনি সেসব জানেন না। শুধু স্বামীর হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি চান। পুলিশের গুলশান বিভাগের এডিসি আব্দুল আহাদ জানান, একটি হত্যাকাণ্ডের পেছনে যত ধরনের সন্দেহ থাকতে পারে এর সব সামনে রেখেই তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের বিভিন্ন স্বজন, সহকর্মী ও অফিস স্টাফদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনা সম্পর্কে সবকিছু জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীতে এখন অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। হোটেলে নিয়ে তরুনীতে ধর্ষণের ঘটনাও এখানে ঘটে। শান্ত রাজধানীতে খুনের ঘটনাও ঘটছে বনানীতে। অথচ হলি আর্টিজানের ঘটনার পর গুলশান-বনানী এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। এরপরও বনানীর অপরাধ থামানো যাচ্ছে না। এর কারণ কি? এমন প্রশ্নের জবাবে বনানীর একজন বাসিন্দা ইত্তেফাকে জানান, ‘গত কয়েকমাসে বনানীতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি একেবারে ভেঙে পড়েছে। অবাধে বিক্রি হচ্ছে মাদক। বিশেষ করে মসজিদের উল্টোদিকে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত অনেকটা প্রকাশ্যেই মাদক ও মদ বিক্রি হচ্ছে। যেসব জায়গায় এসব মাদক বিক্রি হয় সেখানে ক্রেতাদের জট লেগে যায়। আমাদের ধারণা এসব কারণেই বনানীর অপরাধ বেড়ে গেছে। পুলিশ সবকিছু জানে। কিন্তু কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, সেটাই প্রশ্ন।’

মতামত...