,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বন্ধু ভয়ঙ্কর!

মীর মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন সিকদার, বিডিনিউজ রিভিউজ ডটকমঃ বন্ধু ভয়ঙ্কর! এমন কথা ভয়ঙ্কর কথাই কি সত্য? হ্যাঁ, তাই! দেশের ৮৫ শতাংশ মাদকাসক্ত হয় বন্ধুর মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে এমন ভয়ঙ্কর তথ্য উটে এসেছে। দেশে হাত বাড়ালেই মাদক মিলছে। গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল এমনকি হেরোইনও রাজধানীসহ দেশের সবখানেই পাওয়া যাচ্ছে। এতে ক্রমশই বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা।

তবে, বর্তমানে বন্ধুর মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েই বেশিরভাগ এ মরণ পথে হাঁটছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন সংস্থার অভিযানে মাদকের বড় বড় চালান উদ্ধারসহ মাদক ব্যবসায়ীরাও গ্রেফতার হচ্ছে। অপরদিকে প্রতিনিয়ত ভিন্ন পন্থায় ও ভিন্ন কৌশলে আসছে মাদকের চালান।

মাদকাসক্তের সংখ্যা দিন দিন যাওয়ার কিছু কারণ যেমন-বন্ধুর মাধ্যমে প্রভাবিত, কৌতুহল, মানসিক অশান্তি, পরিবারের অসচেতনতা, মাদকের সহজলভ্যতা, বেকারত্ব ও হতাশা চিহ্নিত করা হয়েছে।

মাদকাসক্ত বন্ধুর মাধ্যমে প্রভাবিত মাদকাসক্ত হওয়ার হার ৮৫ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস (২৬ জুন) উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তৈরি পর্যালোচনার উপর ভিত্তি করে মাদক সম্পর্কিত পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এমটাই উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ মাদকাসক্ত বন্ধুর মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েই মাদক গ্রহণে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশের ৫০ লাখের বেশি মানুষ মাদকাসক্ত। এদের মধ্যে ৮৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ মাদকসেবীই বন্ধুদের মাধ্যমে প্ররোচিত হয়ে মাদক গ্রহণ করছে। দিনদিন এ হার বাড়ছে।

দেখা যায়, ২০১১ সালে এ হার ছিল ৫৫ দশমিক ২৯ শতাংশ। ২০১২ সালে ৬১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ২০১৩ সালে ৬০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ২০১৪ সালে ৬৮ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং ২০১৫ সালে ৮৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ। অর্থাৎ পাঁচ বছরে তা বেড়েছে ২৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

তবে মাদকাসক্ত হওয়ার দ্বিতীয় প্রধান কারণ হচ্ছে মাদকের প্রতি কৌতুহল। এর কারণে ১১ শতাংশ ব্যক্তি মাদকে আসক্ত হয়।

মাদকাসক্তদের ১৬ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের হার ৮৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। আর ৬১ দশমিক ৩৯ শতাংশ মাদকাসক্ত ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর খোরশেদ আলম বিডিনিউজ রিভিউজকে বলেন, মাদকাসক্ত হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই বন্ধুর মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছে। বিভিন্ন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে গিয়ে মাদকাসক্তদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

 সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করা দরকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, বিশেষ করে কিশোর বয়সীরাই বন্ধুদের মাধ্যমে প্ররোচিত হয়ে মাদকের পথে পা বাড়ায়। এদের মধ্যে অধিকাংশই তরুণ বয়সী। অনেক মেয়েও বন্ধুদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে মাদকাসক্ত হচ্ছে। এ সময় তারা বিভিন্ন অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে।

 

মতামত...