,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাঁশখালীতে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনে ধ্বংস হচ্ছে রাস্তা-ঘাট ও কৃষি জামি!

baliশাহ মুহাম্মদ শফিউল্লাহ, বাঁশখালী,বিডিনিউজ রিভিউজঃ বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈভাবে বালি উত্তোলন করছে এক যৌথ সিন্ডিকেট। একেই সাথে কাটা হচ্ছে পাহাড়ের মাটি ও গাছ। পাহাড়ের পাশে থাকা ছড়াগুলোর কেটে বালি ও মাটি উত্তোলন করায় ছড়াগুলো বর্তমানে নদীর রূপ নিচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এসব কর্মকান্ডে বাধা না দিয়ে নীরব ভুমিকা পালন করছে। পাহাড়ী গাছ কাটা, মাটি কাটা ও ছড়া কাটার ক্ষেত্রে কেউই বিধি-বিধানের তোয়াক্কা করছে না । পাহাড় কেটে ও ছড়া থেকে বালি উত্তোলনের ফলে পরিবেশের ভারসম্য নষ্ট হচ্ছে। বিলীন হয়ে যাচ্ছে বির্স্তৃন পাহাড় ও সবুজ বনভূমি, বর্তমানে এই বনভূমি চুনতি অভয়ারন্য হিসেবে পরিচিত হচ্ছে।

বাঁশখালী উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিন দিন মরভুমিতে পরিণত হচ্ছে। বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, বাঁশখালী দৃর্গম পাহাড়ী এলাকা সাতকানিয়া চুনতি সংলগ্ন পূর্ব চাম্বলের বড় বিল, ছোট বিল, হইরজোম বিল, হরিনাঘোনা, বড়ডেপা, চরার ঘাট, পাতলা মার্কেট সহ পুরো চাম্বল ইউনিয়ন জুড়ে ৯টি ও পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পুঁইছড়ি ছড়ায় ৩টি, নাপোড়া ছাড়ায় ২টি, জলদী সরল সীমান্ত ছড়ায় ১টি, বৈলছড়ী ছড়ায় ২টি, কালীপুরে ৪টি, সাধানপুরে ২টি, পুকুরিয়াতে ২টি, এসব বনভূমি এলাকা থেকে একশ্রেণীর স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের ক্ষতিপয় নেতা-কর্মী ও প্রভাবশালী চক্র সিন্ডিকেট গঠন করে প্রতিযোগিতা মূলকভাবে টিলা ও ছড়া কেটে বালু এবং মাটি উত্তোলন করে প্রতি ট্রাক৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করছে। সাথে সাথে বনের গাছ ও কেটে সাবাড় করছে ভূমিদস্যুরা। সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে পূর্ব চাম্বল এলাকায় সরকারী অনুমোদন বিহীন বালু উত্তোলনের মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি বিক্রিয় করে আসছে। অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের ফলে রাস্তা-ঘাট ও শত শত বছরের পাহাড় গুলো ধ্বংস হয়ে বনায়নের ব্যাপত ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে। পুরো এলাকা জুড়ে ভাঙ্গন রোধে কোন প্রতিবন্ধকতা না থাকায় দিন দিন পাহাড় গুলোর ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে হাজার হাজার ফসলী জমি, জীব বৈচিত্র্য, ঘর-বাড়ী, বসত ভিটা, রাস্তা-ঘট, মসজিদ, কবরস্থান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ মূলবান জাতীয় সম্পদ বিলীন হওয়ার পাশা-পাশি পরিবেশের বিপর্যয় গড়ছে।

স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, যেভাবে টিলা, ছড়া, পাহাড় কেটে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে তা খুবই বিপর্যয়। এতে আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ চরমভাবে হুমকির মুখে পড়ছে। পূর্ব চাম্বল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সিরাজুল করিম, মাষ্টার নজির আহমদ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের, মোক্তার আহমদ, নুরুল হক তালুকদার, আব্দুল মালেক, ফজল করিম সিকদার, মনির আহমদ, আব্দুল মান্নান চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাষ্টার শফিকুর রহমান সহ একাদিক লোক জন জানান, পূর্ব চাম্বল এলাকা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রাণালয়, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, জেলা বন সংরক্ষণ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকট অভিযোগ করা হয়েছে। প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্ব চাম্বল এলাকায় বালি উত্তোলন বন্ধ করার জন্য থানা পুলিশকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকার স্বত্তেও প্রশাসনকে বৃদ্ধা অঙ্গুল দেখিয়ে বনবিট কর্মকর্তার যোগ সেজে তারা প্রতিনিয়ত বালি উত্তোলন করছেন।

এ ব্যাপরে চাম্বল বন বিট কর্মকর্তা শেখ আনিছুর রহমান বলেন, এটা আমার বিষয় না, ডিসি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভাল বলতে পারবেন।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ ছালেহ তস্তরী বলেন, পূর্ব চাম্বল এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে পুলিশ ও ভূমি অফিসকে প্রয়োজনীয় দির্ক নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। তাছাড়া অবৈধভাবে বালি উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে খুব শিগরই পুরো বাঁশখালী ব্যাপী অভিযান ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত...