,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাঁশখালীতে ইউনুছ খুনের আসামিদের মামলা তুলে নিতে হুমকি

aবিশেষ প্রতিনিধি, বিডিনিউজ রিভিউজঃ বাঁশখালীর পুকুরিয়ার পোল্ট্্ির ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইউনুছ হত্যাকা-ের দুই মাস অতিবাহিত হতে চললেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত এজাহারভূক্ত কোন আসামি গ্রেফতার করতে পারেনি। চলতি বছরের ১৪ মে সন্ধ্যায় পুকুরিয়া বলা পুকুর পাড় এলাকায় তাকে নির্মমভাবে খুন করে দুর্বৃত্তরা। এ মামলার এজাহারভূক্ত কোন আসামী এখনও ধরা পড়েনি। খুনের মামলার আসামি হলেও তারা প্রকাশ্যে ঘুরছেন। তাদের প্রায় প্রতি দিনই এলাকায় দেখা যাচ্ছে। তারা মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। ঘরে ঢুকে মারধর করেছে, নিরাপত্তার অভাবে তারা বাড়ি ছেড়ে দিয়ে পলাতক জীবন যাপন করছে।

আজ ১৬ জুলাই শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নিহত ইউনুছের স্ত্রী মোহছেনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে একথাগুলো বলেন। এসময় তার সপ্তম শ্রেণী পড়–য়া ছেলে এবং পাঁচ বছরের নিচে আরও এক ছেলে ও দুই মেয়ে, শাশুড়ি ও দেবর উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত ইউনুছের ছোট ভাই মোহাম্মদ ইলিয়াছ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৬ সালের ১৪ মে ব্যবসায়ী ইউনুছকে বাঁশখালীর বলা পুকুর পাড় এলাকায় প্রকাশ্যে রাম দা, কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। বাজারে ওই সময় শত শত লোকজন থাকলেও সাদ্দামের হাত থেকে ইউনুছকে বাঁচাতে কেউ সাহস করেনি। পরে ইউনুছ মারা গেছে ভেবে তারা ফেলে রেখে চলে যায়। এরপর এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে মুমূর্ষ অবস্থায় আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ হামলার ঘটনায় বাঁশখালী থানায় একটি হত্যা প্রচেস্টা মামলা দায়ের করা হয়। এদিকে মুমুর্ষ ইউনুুচকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নগরীর ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ২২ মে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মোহাম্মদ ফোরকান বাদি হয়ে পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে ওইদিন রাতে বাঁশখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত ইউনুছের স্ত্রী মোহছেনা বেগম বলেন, ‘তার স্বামীর খুনের মামলার আসামিরা এলাকায় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। মোবাইলে ফোন করে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। প্রায় সময় বাসার সামনে এসে খুনের মামলার আসামিরা ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

নিহত ইউনুছের মা মোমেনা খাতুন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমার সন্তান হত্যার বিচার পাচ্ছি না। আসামিরা এলাকায় আসে। অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়, আড্ডা মারে। লোকজন তাদের দেখে এসে আমাকে বলে।

মামলার বাদি মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, ‘ গত কয়েকদিন ধরে ভাইয়ের খুনীরা আমাদের উপর হামলা চালাচ্ছে। প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করে ভয় দেখাচ্ছে। পুলিশের নীরব ভূমিকার কারণে খুনীরা এমন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা বাড়িতে এসে হামলা চালাচ্ছে, মামলা তুলে নিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দিয়ে চাপ প্রয়োগ করছে। এদের ভয়ে পরিবারের লোকজন নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পলাতক জীবন যাপন করছি। সবসময় আতঙ্কে রয়েছি।’

সে ২০১৪ সালের ২৫ অক্টোবর র‌্যাবের হাতে বিপুল পরিমান অস্ত্রসহ গ্রেফতারের পর পুনরায় জামিনে এসে নানা অপরাধ কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে। তার অত্যাচার ও নিযার্তনের শিকার এলাকার অনেক মানুষ সর্বস্ত হারিয়েছে।
ইউনুছ হত্যার আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে হত্যার এ ধারা বন্ধ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ইউনুছের চাচা আহমদ হোছেন, মা মোমেনা খাতুন, বড়ভাই মো.ফোরকান, জায়েদ হাসান মেহেদী, এরশাদ সিকদার, কাইজার সিকদার প্রমূখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

মতামত...