,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

বাঁশখালীতে কোন্দল আ’লীগে,নিস্ক্রিয় বিএনপি ও কৌশলী জামাত

up1bnr ad 250x70 1শাহ মুহাম্মদ শফিউল্লাহ, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রাম,
ইউপি নির্বাচন ২০১৬ এর ৬ষ্ঠ ও শেষ ধাপের ভোট গ্রহণ ৪ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। নির্বাচন অফিস মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও যাচাই বাছাই সম্পন্ন করেছে। আগামী ১৯ মে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের দিন ধার্য্য রয়েছে। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পরের দিন প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়। শেষ ধাপের এ নির্বাচনকে নিয়ে বাঁশখালী উপজেলার ভোট বুদ্ধাদের মাঝে চলছে নানা হিসেব নিকাশ। তাদের মতে বাঁশখালী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে আ’লীগের মধ্যে চলছে দলীয় অন্তকোন্দল। দীর্ঘ আন্দোলন পাড়ি দিয়ে বিএনপির অবস্থান নিষ্ক্রিয়। তবে কৌশুলে এগুচ্ছে জামায়াত। এদিকে ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে আ’লীগের পক্ষ থেকে ১৪ জন নৌকার মাঝিকে একক মনোনয়নপত্র দেওয়া হলেও অধিকাংশ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। পাশাপাশি বিএনপিও তাদের একক প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। জামায়াত ১৪টি ইউনিয়নে প্রার্থী না দিলেও ৭টি ইউনিয়নে তাদের শক্ত অবস্থানখ্যাত এলাকায় প্রার্থী দিয়েছে। তাছাড়া স্বতন্ত্র ও বিভিন্ন দলের প্রার্থী রয়েছে এই উপজেলায়। সেই ক্ষেত্রে এই নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা দাড়ালো চেয়ারম্যান পদে ৮৬ জন, সংরক্ষিত মহিলা আসনে ১৩৬ জন এবং সাধারণ আসনে ৫৯৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এদিকে রবিবার (১৫ মে) বাঁশখালীর ১৪টি ইউনিয়নে সুষ্ঠ ও অবাদ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে বদ্ধ পরিকর দাবী করে উপজেলা নির্বাচন অফিসার জাহিদুল ইসলাম জানান, বাঁশখালী উপজেলার ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৬৯ হাজার ১শ ৫৮ জন, কেন্দ্র সংখ্যা ১৩৫টি, বুথ সংখ্যা ৭৫৬টি। ১৪টি ইউনিয়নকে ৫টি ভাগে ভাগ নির্বাচন কর্মকান্ড পরিচালনার লক্ষ্যে স্ব স্ব ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এখন চলছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রণয়ন।
স্থানীয় প্রার্থী ও ভোটারদের কথা বলে জানা যায়, বাঁশখালীর ১৪টি ইউনিয়নের নৌকার মাঝিরা অনেকটাই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। কারণ হিসেবে তারা জানান, তাদের অভিভাবক স্থানীয় সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অবহেলিত বাঁশখালীকে উন্নয়নের ধারায় ফিরিয়ে এনেছে। প্রধান সড়ক সংস্কার, অবহেলিত উপকূলবাসীর জীবন রক্ষার্থে বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ গ্রামীণ সড়কের সংস্কার ও পুরো এলাকায় বিদ্যুতায়নের আওতায় নিয়ে এসে মানুষের মন জয়লাভ করেছে। তিনি বাঁশখালীর উন্নয়নের জন্য দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বলেও তারা জানান। তাই আওয়ামীলীগ সরকারের প্রতিনিধিদের নির্বাচনে নির্বাচিত করে প্রত্যেকটি এলাকায় এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জনগণ তাদেরকে বিজয়ী করবেন বলে নৌকার মাঝিদের প্রত্যাশা। অপরদিকে ১৪টি ইউনিয়নে রয়েছে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। বিদ্রোহীদের অভিযোগ নবাগত ও সুবিধাভোগীদের মনোনয়ন দিয়ে ত্যাগী ও প্রকৃত নেতাদের বাদ দেয়া হয়েছে। তাই তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে থাকবেন। তারা আরো জানান, যুদ্ধাপরাধীদের দোসর জামায়াতের সাথে সরকারী দলের কতিপয় নেতা আতাত করে এ নির্বাচনে তাদের নিজ স্বার্থ হাছিল করছে। এমনকি তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মতের প্রাধান্য না দিয়ে জনবিচ্ছিন্ন প্রতিনিধিকে নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছে। তাই আওয়ামীলীগের ঐতিহ্য ও উন্নয়ন সমুন্নত রাখতে আমরা এ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করছি। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে জানা যায়, এ উপজেলায় আওয়ামীলীগের অন্তকোন্দলের কারণে ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫ থেকে ৬টি ইউনিয়নে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও বাকী গুলোতে তাদের অবস্থান নাজুক। আ’লীগে দলীয় কোন্দলের কারণে বাঁশখালী উপজেলায় জামায়াত প্রার্থীরা দুর্দান্ত দাপুটে রয়েছে। তার কারণ হিসেবে সরকারী দলের কতিপয় নেতাকে দুষলেন তারা। সরকারী দলের মদদে জামায়াত আজ সুসংগঠিত দলে পরিণত হয়েছে। তারা সরকার ও দেশ বিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ড চালালেও সরকারের নেতাকর্মীদের মধ্যে যেন দায়সারা ভাব। পাশাপাশি তারা সরকারী দলের প্রতি আহবান জানান দলীয় কোন্দল ও ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনে অংশগ্রহণের।
এদিকে ৪ জন অনুষ্ঠিতব্য বাঁশখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শনিবার রাত থেকে আইন শৃংখলা বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় সাড়াশী অভিযান শুরু করেছে। এখনো আইনশৃংখলা বাহিনীর এ বিশেষ অভিযান চলছে।

মতামত...